Published : 22 Jul 2026, 08:58 PM
বাংলাদেশ পিপলস লীগকে আগামী তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এই নির্দেশ দেন।
এর আগে ইসিতে আবেদন করে নিবন্ধন না পেয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ২ অগাস্ট এ বিষয়ে দেওয়া রায়ে হাই কোর্ট ইসিকে দলটির বিষয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে চলতি বছরের জুনে দাখিল করা ইসির হলফনামায় দাবি করা হয়, বাংলাদেশ পিপলস লীগ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮ এর শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ইসির মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটির দাখিলকৃত সাত জেলার মধ্যে মাত্র ৩টি জেলা দপ্তরের এবং ৩১টি উপজেলার মধ্যে মাত্র ১৮টি উপজেলা দপ্তরের অস্তিত্ব ও কার্যকারিতা পাওয়া যায়; যা নিবন্ধনের শর্ত পূরণের জন্য যথেষ্ট না। সে জন্য নিবন্ধনের জন্য তাদের আবেদন কমিশন না মঞ্জুর করে।
বুধবার রায়ের পর বাংলাদেশ পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরিব নেওয়াজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ পিপলস লীগকে রেজিস্ট্রেশন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ পিপলস লীগ ১৯৭৬ সনে ডা. আলীম আল রাজীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। যখন রেজিস্ট্রেশনের জন্য আইন করা হল, সেই হিসাবে আমরা ২০১২ সনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন জানিয়েছিলাম।
“হাই কোর্ট অনেকগুলো জায়গায় রি-ইনকোয়ারি করার জন্য নির্দেশ দেন। রি-ইনকোয়ারির পরেও অন্যায়ভাবে আমাদের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। অপেক্ষাকৃত অনেক দল যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়েছিল। আমরা একটা রিট মোকদ্দমা করেছিলাম। সে আদেশে আমাদের রিট মঞ্জুর হয়।”
দলের মহাসচিব ও মামলার রিট আবেদনকারী সৈয়দ মাহবুব হোসেন বলেন, “আমরা প্রথম যখন ২০১২ সালে আবেদন করি, তখন আমাদের ৮৩টা উপজেলা এবং ১৮টা জেলায় দপ্তর ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ১০০ উপজেলা এবং ২১টি জেলা দরকার। ইসি অন্যান্য কয়েকটা রাজনৈতিক দলের রি-ইনকোয়ারির আবেদন মঞ্জুর করলেও আমাদেরটা করেনি।”
“হাই কোর্টে রিট করার পর আদালত রি-ইনকোয়ারির নির্দেশ দেন। আমাদের ১০১টা উপজেলা এবং ২১টা জেলা দপ্তর সম্পন্ন হওয়ার পরেও ইসি আমাদের নিবন্ধন দেয় নাই।”
এর পেছনের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল, সরকারের নির্দেশেই এটা হয়েছে। আমরা ২০ দলীয় জোটের শরিক ছিলাম, যার জন্য তখনকার স্বৈরাচারী সরকার আমাদের নিবন্ধন দেয় নাই। আজ হাই কোর্ট থেকে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।”