Published : 22 Jul 2026, 08:32 AM
অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি শুরুর আগে বাংলাদেশ দল ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চার ক্রিকেটারের চোট। লিটন দাস চোটে ভুগছেন প্রায় এক মাস ধরে। মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা চোটে পড়েছেন সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে।
তাদের চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করতে পারছে না বিসিবি। কারণ, চার ক্রিকেটারের মধ্যে লিটন, শরিফুল ও নাহিদ আছেন টেস্ট সিরিজের বিবেচনায়। তাদের চোটের সবশেষ অবস্থা জেনে দল ঘোষণা করবে বিসিবি।
আগামী ১ ও ৩ অগাস্ট দুই দফায় অস্ট্রেলিয়ায় যাবে বাংলাদেশ দল।
ঘরের মাঠে সবশেষ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে চোটে পড়েন লিটন। মাংসপেশির চোটে পড়া এই ক্রিকেটার পুনর্বাসন শেষে জিম্বাবুয়ে যান। তবে ব্যথা না কমায় ও ফিটনেস সন্তোষজনক না থাকায় সিরিজ না খেলে দেশে ফেরেন। নাহিদ রানা ভুগছেন সাইড স্ট্রেইনে, শরিফুলের সমস্যা হ্যামস্ট্রিংয়ে, মুস্তাফিজ পড়েছেন হাঁটুর চোটে।
তাদের চোটের কারণে বছরজুড়ে খেলায় ব্যস্ত থাকা ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে দাবি করেন, ক্রিকেটারদের ওয়ার্কলোড ঠিকঠাকভাবেই দেখা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচক বলেন, “ওয়ার্কলোড আমরা খুব ভালো ম্যানেজ করি। ওয়ার্কলোডের কারণে জিম্বাবুয়েতে নাহিদ, তাসকিন ও শরিফুলকে টেস্ট ম্যাচে খেলানো হয়নি। চোট আসলে যতই ম্যানেজ করেন না কেন, এটা হবেই। এটা খেলারই অংশ। যতটুকু সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু খেলতে গেলে ব্যথা লাগবেই।”

ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ঠিক থাকার পরও কন্ডিশনের কারণে জিম্বাবুয়েতে তিন ক্রিকেটার চোটে পড়তে পারেন বলে মনে করেন তারা। তবে এটাই একমাত্র কারণ নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন।
দেবাশিস বলেন, “একটা চোটের অনেক কারণ থাকতে পারে। ওখানে (জিম্বাবুয়ে) ঠান্ডা অনেক, এটা একটা কারণ হতে পারে। ঘাসের কন্ডিশন হতে পারে। যারা দলের সঙ্গে আছেন, তারা ভালো বলতে পারবে।”
চোটে থাকা চার ক্রিকেটারের চোটের কী অবস্থা, জানার চেষ্টা করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম।
লিটন দাস
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে লিটন দাসের চোট নিয়ে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, ৮-১০ দিনের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও সুস্থ নন। তার চোটের সবশেষ অবস্থা নিয়েও আছে ধোঁয়াশা।
তার অবশেষ অবস্থা জানিয়ে দেবাশিস চৌধুরি বলেন, “লিটনের আজকে (বুধবার) স্ক্যান করানো হচ্ছে। স্ক্যানটা হলেই আমরা বলতে পারব।”
প্রধান নির্বাচক বলেন, চোটে থাকা এই কিপার-ব্যাটসম্যানকে মেডিকেল বিভাগ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই জিম্বাবুয়ে পাঠানো হয়েছিল।
“এখানকার (বাংলাদেশ) স্ক্যানগুলোতে কিছু ধরা পড়েনি। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে স্ক্যান করা হয়েছিল, সেখানে একদম ঠিক ছিল। কিন্তু, তার ব্যথাটা আবার ফিরে আসছে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছে। আজ বা কাল (বুধবার) তার স্ক্যান হবে।
স্ক্যান রিপোর্ট সঠিক আসার কারণেই তাকে (জিম্বাবুয়ে) পাঠানো হয়েছিল।”
মুস্তাফিজুর রহমান
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হাঁটুর চোটে পড়েন এই বাঁহাতি পেসার। পরে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে যান। দেশে ফিরে বিশ্রামের পর সুস্থ হতে রিহ্যাব শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে রিহ্যাব করতে থাকা এই পেসার চলতি মাসের শেষদিকে দিবেন ফিটনেস পরীক্ষা। সেখানে সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারলে ইংল্যান্ডের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে দা হান্ড্রেডে খেলতে যাবেন।
অস্ট্রেলিয়া সফরে সীমিত ওভারের কোনো ম্যাচ না থাকায় তার চোট নিয়ে খুব একটা চিন্তা করছেন না প্রধান নির্বাচক।
“মুস্তাফিজ তো অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নেই, ও শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে। আমরা এখন অস্ট্রেলিয়া সফরে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি।”
চোট কাটিয়ে তাকে দা হান্ড্রেডে পাঠানোর ব্যাপার পুরোটাই মেডিকেল বিভাগের উপর ছেড়ে দিয়েছেন নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা সাবেক অধিনায়ক।
“দা হান্ড্রেডে তার যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি মেডিকেল বিভাগ দেখবে।”
শরিফুল ইসলাম
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে সফরের মাঝপথে ফেরত আসেন এই বাঁহাতি পেসার। এক সপ্তাহ বিশ্রামের পর মঙ্গলবার থেকে শুরু করেছেন পুনর্বাসন। আপাতত তাকে নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় নির্বাচক প্যানেল ও চিকিৎসকরা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন এমন আশায় আছেন নির্বাচক প্যানেলের প্রধান।
“এখন পর্যন্ত যতটুকু রিপোর্ট পেয়েছি, শরিফুল ভালো আছে। আমাদের ফিজিও কাল (বুধবার) আসবে, তখন আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত সে ভালো আছে এবং রিহ্যাব শুরু করেছে। কোনো সমস্যা না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।”
নাহিদ রানা
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে চোটে পড়েন এই পেসার। তবে এখনও স্ক্যান না করানোয় তার চোট নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানতে পারেনি বিসিবির চিকিৎসকরা। বুধবার ঢাকায় তার স্ক্যান করানো হবে।
এরপরেই জানা তার সবশেষ অবস্থা। তবে নাহিদ রানার এই চোটে খুব বেশি চিন্তিত নন নির্বাচক।
“জিম্বাবুয়েতে ঠান্ডা অনেক ছিল। তাই গরম কন্ডিশন থেকে ঠান্ডা কন্ডিশনে গেলে ক্র্যাম্পিং একটু বেশি হয়। নাহিদ রানার ক্ষেত্রেও হয়তো এমন কিছু হয়েছে।
ও যেভাবে বোলিং করে, তাতে চোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সব পেস বোলারদেরই চোটের ইতিহাস থাকে।”
জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে তবেই খেলানো তাকে খেলানো হয়েছে এই সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ওয়ার্কলোডের কারণে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছেন দুই ওয়ানডে।
“আমরা চেষ্টা করি ওয়ার্কলোড ম্যানেজ করতে, খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে।”