Published : 12 Jun 2024, 12:52 PM
বার্ধক্যে সুস্থ থাকতে চাইলে টিভি দেখা বাদ দিয়ে ব্যায়াম করুন।
কারণ সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে অতিরিক্ত টিভি দেখার কারণে অলস সময় কাটানো হয় বেশি। যেটা শরীরের জন্য সুখকর নয়।
এই বিষয়ে গবেষণার প্রধান ‘হার্ভার্ড’স টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেল্থ’য়ের ‘মেডিসিন ইন দ্যা ডিপার্টমেন্ট অফ এপিডেমিওলজি’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোলিন ওয়াং বলেন, “প্রধান বিষয় হল- টিভির দেখার সময়টা ব্যায়ামের সময়ে রূপান্তর করলে মিলবে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য।”
সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি মন্তব্য করেন- তরুণ বয়সে বিষয়টা মনে না থাকলেও ধ্রুব সত্য হল একসময়ে সবাইকে বুড়ো হতে হবে। আর সেই সময় সু্স্থ থাকতে হলে অলস সময় কাটাতে হবে কম।
‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘নার্সেস’ হেল্থ স্টাডি’ থেকে ১৯৯২ সালে যাদের বয়স ছিল ৫০ বা বেশি- এমন ৪৫ হাজার সুস্থ মানুষের তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
গবেষকরা, পরের ২০ বছর পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করা অংশগ্রহণকারীদের বয়সের সঙ্গে তাদের নানান কর্মকাণ্ডের তথ্য, যেমন- কতক্ষণ বসে কাজ করেছে, বাসায় কতক্ষণ টেলিভিশন দেখতো, কতক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেছে বা হেঁটেছে- এসব বিষয় মিলিয়ে পর্যালোচনা করে।
দেখা গেছে- প্রতিবার টিভি দেখতে গিয়ে বসে থাকার সময়ে দুই ঘণ্টা বাড়তি যোগ হওয়ার সাথে স্বাস্থ্যকরভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমেছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে দুই ঘণ্টা হালকা ব্যায়াম করার ফলে বার্ধক্যে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে ৬ শতাংশ।
স্বাস্থ্যকরভাবে বার্ধক্যে পৌঁছানোর বিষয়ে বলা হয়- ৭০ বছর বয়সে অন্তত চারটি স্বাস্থ্যকর বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। যেমন- বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ না থাকা, স্মরণশক্তির তেমন কোনো সমস্যা না হওয়া, মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা।
গবেষণার সাথে যুক্ত না থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল জুইশ হেল্থ’য়ের ‘কার্ডিওভাস্কুলার প্রিভেনশন অ্যান্ড ওয়েলনেস’য়ের পরিচালক ডা. অ্যান্ড্রু ফ্রিম্যান বলেন, “টেলিভিশনের সামনে অলস সময় কাটালে সবসময়ই ফলাফল বাজে হয়। কারণ মানুষতো আর সারাক্ষণ বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য জন্মায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “যত বসে সময় কাটানো হবে সমস্যা ততই বাড়বে, বিশেষ করে বয়স বাড়লে।”
বসে থেকে সময় পার করা যে কারণে খারাপ
নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড ওয়েল কর্নেলি মেডিকেল সেন্টার’ পরিচালিত ২০১৭ সালে করা গবেষণার ফলাফলে বলা হয়- বসে থাকা সময়ের সাথে অকাল মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৩ সালে ‘ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ কার্ডিওলজি’স ইএসসি কনগ্রেস’য়ে উপস্থাপিত গবেষণায় জানানো হয়- শিশুকালে অলস সময় বেশি কাটানোর ফলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
সমস্যাটা আরও প্রকট হয় যখন অলস সময় কাটানোর সাথে লবণাক্ত খাবার বেশি খাওয়া পড়ে।
ফ্রিম্যান বলেন, “টিভি দেখার সময় নানান ধরনের ‘জাঙ্ক ফুড’ বা মুখরোচক খাবার খাওয়ার অভ্যাস দেখা যায়। রাতের খাবার খেতে খেতে টিভি দেখার ফলে অন্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।”
বসে বেশিক্ষণ কাজ করা বা ঘরে সোফায় অলস সময় কাটানোর ফলে শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারায়।
“শারীরিক কর্মকাণ্ড হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে”- বলেন ফ্রিম্যান।
আলসেমি ঝেড়ে ফেলার উপায়
যদি অফিসে আট, ১০ বা ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয় তবে ব্যায়াম করার সময় বের করাটা কষ্টকর। এক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে ‘স্ট্যান্ড ডেস্ক’ বা অফিসে ‘ট্রেডিমিল’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন, ফ্রিম্যান।
এটা সম্ভব না হলে, বসা থেকে কিছুক্ষণ পরপর উঠে পায়চারি করতে হবে।
ফ্রিম্যান আরও বলেন, “আমার দৃষ্টিতে ৩০ মিনিটের বেশি বসে থাকাটা- অতিরিক্ত সময় নড়াচড়া না করা। এই সময়ের মধ্যে অবশ্যই খানিকটা নড়াচড়া হাঁটাহাঁটি করতে হবে।”
তবে টিভি দেখার বিষয়টা আবার শত্রু ভাবার দরকার নাই।
বরং এই অভ্যাসটা স্বাস্থ্যকরভাবে কাটানো যায়। যেমন- টেলিভিশনে প্রিয় কোনো অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে ট্রেডমিলে হাঁটা আর স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। আরও ভালো হবে টিভি দেখার সময়টা কমালে।
আরও পড়ুন