Published : 20 Jul 2026, 03:19 PM
শারীরিক সুস্থতা নিয়ে যতটা ভাবা হয়, মানসিক বা আবেগীয় সুস্থতা নিয়ে ঠিক ততটাই উদাসীন থাকেন প্রায় সবাই।
অথচ প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধ, কাজের চাপ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন সামলাতে হলে ‘ইমোশনাল ওয়েলনেস’ বা আবেগীয় সুস্থতা বড় ভূমিকা পালন করে।
সহজ কথায়, নিজের ভালো-মন্দ অনুভূতিগুলোকে সঠিকভাবে বুঝতে পারা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজেকে সামলে নেওয়ার ক্ষমতাই হল আবেগীয় সুস্থতা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক ও লেখক লিন্ডসে কার্টিস এবং মনোবিজ্ঞানী ড. কিরা গ্রেভস-এর করা হেল্থলাইন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মানসিক সুস্থতা কেবল মন ভালো রাখে না, এটি মানুষের আয়ু বাড়াতেও সাহায্য করে।
তাদের মতে, ‘ইমোশনাল ওয়েলনেস’ বা আবেগীয় স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে শরীর ও মনে তিনটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়
মানসিক অবস্থার সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার গভীর সংযোগ রয়েছে। যারা আবেগ বা মানসিক চাপ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়।
এটি উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং হঠাৎ ওজন পরিবর্তনের মতো ‘স্ট্রেস’ বা চাপ-সম্পর্কিত শারীরিক জটিলতাগুলোর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
এছাড়া এটি ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে অনন্য ভূমিকা রাখে।
বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি কমে
দৈনন্দিন জীবনে রাগ, দুঃখ বা ক্লান্তি আসাটা স্বাভাবিক। তবে আবেগীয়ভাবে সুস্থ ব্যক্তিরা জানেন কীভাবে এই অনুভূতিগুলোকে সামলাতে হয়।
তারা ডায়েরি লেখেন, গান শুনেন বা কোনো পছন্দের শখের মাধ্যমে এই নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক উপায়ে প্রকাশ করেন। এটি মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্ণতা বা দুশ্চিন্তার হাত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
কর্মক্ষেত্রে ও সম্পর্কে আসে সাফল্য
কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে আবেগীয় সুস্থতা। অফিসে কাজের চাপের মধ্যেও ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এটি সাহায্য করে।
শুধু তাই নয়, বন্ধুদের সঙ্গে বা ভালোবাসার সম্পর্কে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা তর্ক হলে, তা রেগে না গিয়ে শান্তভাবে এবং সহানুভূতির সঙ্গে সমাধান করার মানসিক পরিপক্কতা এনে দেয় এই ‘ইমোশনাল ওয়েলনেস’।
মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার লক্ষণ
যদি কেউ নিজের আবেগের যত্ন না নেন, তবে তার শরীরে ও মনে কিছু নেতিবাচক লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে, যা অবহেলা করা একদম উচিত নয়।
আবেগীয় সুস্থতা বাড়ানোর সহজ ৪ উপায়
মানসিক এই শক্তি রাতারাতি তৈরি হয় না, এর জন্য প্রতিদিন ছোট ছোট কিছু অভ্যাস করা প্রয়োজন।
মাইন্ডফুলনেস বা সচেতনতা: সারাক্ষণ অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে না ভেবে, বর্তমান মুহূর্তের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। নিজের নিঃশ্বাসের গতি খেয়ালও করা জরুরি।
যোগাযোগ রক্ষা করা: একা না থেকে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা সমাজের মানুষের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, যা বিপদের সময় মানসিক শক্তি দেবে।
সীমানা নির্ধারণ: কাজ, পড়াশোনা এবং ব্যক্তিগত সময়ের মাঝে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টানা উচিত, যেন অতিরিক্ত কাজের চাপে ‘বার্নআউট’ বা মানসিক ক্লান্তি না আসে।
শারীরিক যত্ন: প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সরাসরি মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন