Published : 31 Mar 2026, 07:29 PM
দোকানে গিয়েছিলেন শুধু প্রয়োজনীয় একটি জিনিস কিনতে। তবে বাসায় ফিরে এলেন হাতভর্তি ব্যাগ নিয়ে। নতুন জামা, জুতা, প্রসাধনী, গ্যাজেট— যেগুলোর আসলে কোনো প্রয়োজন ছিল না।
প্রথমবার এমন হলে হয়ত হাসিঠাট্টা করে উড়িয়ে দেওয়া যায়। তবে প্রতিবার বাজারে গেলেই একই ঘটনা ঘটলে ব্যাপারটা আর সাধারণ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে এক ধরনের নেশা।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘কম্পালসিভ বায়িং ডিজঅর্ডার’, মানে শপিং বা কেনাকাটার নেশা।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “শপিংয়ের নেশা শুধু অভ্যাস নয়, এটি একটি মানসিক সমস্যা। কেনাকাটা করে মানুষ সাময়িক আনন্দ বা উত্তেজনা পায়। কিন্তু পরে অপরাধবোধ, আর্থিক সংকট এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।”
সচেতনতা, নিয়মিত অভ্যাস পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।
কেনাকাটার সময় ‘ডোপামিন’ নামক একটি রাসায়নিক নিঃসরণ ঘটায় মস্তিষ্ক, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।
“মন খারাপ, চাপ, একাকিত্ব বা হতাশা কমাতে অনেকে কেনাকাটার আশ্রয় নেন। প্রথমে এটি সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে ধীরে ধীরে এটি অভ্যাসে পরিণত হয় এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়” বলেন ডা. দিনা।
অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা, পারিবারিক চাপ বা আর্থিক সচ্ছলতাও এই নেশাকে উসকে দেয়।
আজকাল অনলাইন শপিংয়ের কারণে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। এক ক্লিকেই পছন্দের জিনিস ঘরে চলে আসে। ফলে নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সমস্যার লক্ষণের মধ্যে আছে-
প্রভাব
শপিংয়ের নেশা আর্থিক সংকট তৈরি করে। অনেকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণে জড়িয়ে পড়েন। সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। মানসিকভাবে অস্থিরতা বাড়ে।
দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চললে আত্মসম্মান কমে যায় এবং জীবনের অন্যান্য দিকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
যেভাবে এই নেশা থেকে মুক্তি পাবেন
ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “এই সমস্যা থেকে বের হতে সচেতন প্রচেষ্টা এবং প্রয়োজনে মনোরোগ চিকিৎসকের সাহায্য দরকার।”
৪৮ ঘণ্টা নিয়ম: কোনো জিনিস পছন্দ হলে সঙ্গে সঙ্গে না কিনে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। আবেগ কমে গেলে অনেক সময় আর কিনতে ইচ্ছে করে না।
তালিকা তৈরি করা: শপিংয়ে যাওয়ার আগে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা বানান এবং শুধু সেগুলোই কিনতে হবে।
নগদ টাকা ব্যবহার করা: কার্ডের পরিবর্তে নগদ টাকা নিয়ে বের হলে খরচের সময় সচেতনতা বাড়ে।
বিকল্প খোঁজা: মানসিক চাপে থাকলে কেনাকাটার পরিবর্তে ব্যায়াম, বই পড়া, বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো বা সৃজনশীল কাজে মন দিলে ফল ভালো হয়।
আসক্তি খুব বেশি হলে মনোবিদ বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। ‘কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি’ এক্ষেত্রে কার্যকর।
আরও পড়ুন