০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

খালি পেটে কফি পানের প্রভাব

সকালে কি অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়? হতে পারে সেটা খালি পেটে কফি পানের প্রভাব।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jul 2026, 09:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি না পেলে অনেকেরই সকালটা ঠিক জমে না। বিছানা ছাড়ার পর কোনো খাবার মুখে দেওয়ার আগেই সরাসরি কফির কাপে চুমুক দেওয়া বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের অভ্যাস।

তবে কোনো খাবার না খেয়ে একদম খালি পেটে কফি পান কি আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত, নাকি এটি অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করছে?

কফির উপাদান ও এর গুণাগুণ

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি ডটকম’-এর প্রধান চিকিৎসা সম্পাদক ডা. ব্রুনিল্ডা নাপারিও বলেন, “কফি মানেই কেবল ক্যাফিন নয়, কফির দানার উৎস এবং এটি কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে এর ভেতর নানান ধরনের প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান থাকে।”

কফির সক্রিয় উপাদান ‘ক্যাফিন’ মূলত মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে ঘুমভাব দূর করে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে কফি পানের কিছু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুবিধাও রয়েছে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং ফ্যাটি লিভারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

খালি পেটে কফি গ্রহণে শরীরে যা ঘটে

ডা. ব্রুনিল্ডা নাপারিও সতর্ক করে বলেন, “কিছু না খেয়ে একদম খালি পেটে কফি পান করলে, কফিতে থাকা ক্যাফিন খুব দ্রুত এবং সম্পূর্ণভাবে পাকস্থলীর মাধ্যমে শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তে মিশে যায়। পাকস্থলীতে কোনো খাবার না থাকায় কফির তীব্র প্রভাব শরীর অনেক বেশি এবং দ্রুত অনুভব করে।”

এর ফলে শরীরে ৫টি প্রাথমিক অস্বস্তি ও নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বুক ধড়ফড় করা: ক্যাফিনের দ্রুত শোষণের কারণে চট করে হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যেতে পারে।

শরীরে কাঁপুনি: স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত উদ্দীপিত হয়ে হাত-পা কাঁপা বা এক ধরনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

মাথাব্যথা: খালি পেটে হঠাৎ রক্তনালীর সংকোচন-প্রসারণের ফলে অনেকের তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়।

পেটে অস্বস্তি ও গ্যাস: কফি পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। খাবার না থাকায় এই অ্যাসিড পাকস্থলীর দেওয়ালে জ্বালাপোড়া, অ্যাসিডিটি বা পেটে মোচড়ানোর মতো অস্বস্তি তৈরি করে।

বমি বমি ভাব: অতিরিক্ত অ্যাসিড ও ক্যাফিনের তীব্রতায় সকালের শুরুতেই বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

ফিল্টার না করা কফির আলাদা ঝুঁকি

প্রতিবেদনে ডা. নাপারিও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, যারা ফ্রেঞ্চ প্রেস বা টার্কিশ কফির মতো ‘আনফিল্টার্ড’ বা না ছাঁকা কফি পান করতে পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি। এই ধরনের কফিতে এমন কিছু প্রাকৃতিক যৌগ থাকে যা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।”

তাই কফি পানের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিকল্প যা হতে পারে

যদি খালি পেটে কফি গ্রহণে শরীর খারাপ লাগে, তবে জোর করে সেই অভ্যাস ধরে রাখা ঠিক হবে না।

ডা. নাপারিও সকালের ‘এনার্জি বুস্টে’র জন্য কফির চেয়ে কম ক্যাফিনযুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর কিছু বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গ্রিন টি: এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং মেটাবলিজম বা বিপাক বাড়াতে অনন্য।

কালো চা: কফির চেয়ে কম ক্যাফিনে শরীরকে চাঙা করে তোলে।

মাচা চা: এটি এক ধরনের বিশেষ জাপানি গ্রিন টি, যা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্থির শক্তি বজায় রাখে।

মনে রাখতে হবে

কফি ক্ষতিকর কোনো পানীয় নয়, তবে এটি গ্রহণের সময় ও পরিমাণের ওপর এর উপকারিতা নির্ভর করে।

চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শ হল- সারাদিনে ১ থেকে ২ কাপের বেশি কফি না পান করা। আর সকালে কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগে অন্তত হালকা কিছু খাবার (যেমন: দুটো বিস্কুট, মুড়ি বা ওটস) খেয়ে নেওয়া।

এটি পাকস্থলীকে কফির তীব্র অ্যাসিডিক প্রভাব থেকে রক্ষা করবে এবং সকালকে করবে আসলেই সতেজ।

আরও পড়ুন

খালি পেটে কফি পান আসলেই কি ক্ষতিকর?

পেটের মেদ কমাতে কফি পানের পাঁচ অভ্যাস

কফি সঠিকভাবে সংরক্ষণ পদ্ধতি