Published : 12 Jul 2026, 02:23 PM
টানা বৃষ্টিতে ঢাকার অনেক সড়ক, গলি ও ফুটপাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন শহর, গ্রামে তৈরি হয়েছে বন্যা।
ঢাকা শহরের পানি জমে থাকা রাস্তা বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও নিচে থাকতে পারে নানান ধরনের ঝুঁকি।
পানির নিচে থাকতে পারে ভাঙা রাস্তা, বড় গর্ত
বৃষ্টির পানিতে রাস্তার গর্ত, ভাঙা অংশ বা খোঁড়াখুঁড়ির স্থান দেখা যায় না। হাঁটতে বা মোটরসাইকেল, সাইকেল কিংবা গাড়ি চালাতে গিয়ে হঠাৎ চাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত পরামর্শ দেন, “তাই পানি জমে থাকা রাস্তায় ধীরে চলা এবং সম্ভব হলে অন্য পথ ব্যবহার করাই নিরাপদ।”
খোলা বা ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানহোল সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
ভারী বৃষ্টির সময় অনেক জায়গায় ম্যানহোলের ঢাকনা সরে যায়, খুলে রাখা হয় বা ঢাকনা থাকেই না। পানির নিচে এগুলো কোনোভাবেই চোখে পড়ে না।
অসাবধানতাবশত সেখানে পড়ে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই অপরিচিত বা গভীর পানি জমে থাকা পথে হাঁটার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।
“সমাধান থাকতে পায়ে না হেঁটে বরং রিক্সা বা অন্য যান ব্যবহার করা উচিত”, বলেন এই অধ্যাপক।
ভাঙা ড্রেনের স্লাব ও ফুটপাতেও বিপদ
অনেক ফুটপাতের ড্রেনের স্লাব ভাঙা বা নড়ে যাওয়া অবস্থায় থাকে। পানি জমে গেলে এগুলো বোঝা যায় না। ফলে পা পিছলে ড্রেনে পড়েও ইতিমধ্যে ঘটেছে প্রাণহানি। তাই ফুটপাতেও সতর্কভাবে হাঁটতে হবে।
পানিতে বিদ্যুতের তার প্রাণঘাতী হতে পারে
ঝড়-বৃষ্টিতে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে থাকতে পারে। এমন পানি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।
“কোথাও ছেঁড়া তার বা বৈদ্যুতিক খুঁটি কাত হয়ে থাকতে দেখলে সেই এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানাতে হবে। পানি ভর্তি রাস্তায় চলাচলে তাই চারদিক খেয়াল করে চলার বিকল্প নেই” বলেন তাসমিয়া জান্নাত।
ঢাকনাহীন নালা ও খালও তৈরি করে ঝুঁকি
বৃষ্টির সময় নালা, খাল বা ড্রেন উপচে পড়ে। পানির স্রোতে কোথায় রাস্তা শেষ আর কোথায় নালা শুরু—তা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।
পিচ্ছিল রাস্তা ও ফুটপাতে পিছলে পড়ার আশঙ্কা, বৃষ্টিতে শ্যাওলা, কাদা, তেল বা ময়লা মিশে রাস্তা ও ফুটপাত অনেক বেশি পিচ্ছিল হয়ে যায়।
তাড়াহুড়া করে হাঁটলে বা দৌড়ালে পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙা বা মাথায় আঘাত লাগতে পারে।
যানবাহনের তৈরি ঢেউও বিপদ
তাসমিয়া মন্তব্য করেন, “জমে থাকা পানির মধ্যে দ্রুতগতির গাড়ি চললে ঢেউ তৈরি হয়। এতে পথচারী ভারসাম্য হারাতে পারেন। আবার ঢেউয়ের কারণে রাস্তার গর্ত বা খোলা ম্যানহোল বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে ম্যানহলে পড়ে যেতে পারেন।”

মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকদের বাড়তি সতর্কতা
পানির নিচে ইট, পাথর, বাঁশ, নির্মাণসামগ্রী বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে থাকতে পারে। এগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল বা সাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গভীর পানি এড়িয়ে চলা এবং কম গতিতে চালানো উচিত।
গাড়ি নিয়ে গভীর পানিতে না যাওয়াই ভালো
“অনেক সময় পানি কতটা গভীর তা বোঝা যায় না। গভীর পানিতে গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হতে পারে। গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে”, বলেন রাজধানীর মানিকদিতে অবস্থিত কার কারিগর প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. মাসুম।
শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর
শিশুরা পানিতে নামতে পছন্দ করে। তবে পানির নিচে কাচ, লোহা, ধারালো বস্তু বা খোলা ড্রেন থাকতে পারে।
“তাই বৃষ্টির সময় শিশুদের বাসার সামনেও একা খেলতে দেওয়া উচিত নয়”, সাবধান করেন তাসমিয়া জান্নাত।
পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও থাকে
দীর্ঘ সময় নোংরা পানিতে হাঁটলে ত্বকের সংক্রমণ, পায়ে ক্ষত, ছত্রাকজনিত সমস্যা এবং বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
“বাসায় ফিরে পরিষ্কার পানি, সাবান দিয়ে হাত-পা ধুয়ে জীবাণুনাশক স্প্রে বা ক্রিম ব্যহারের পর শুকনা কাপড় পরা উচিত”, বলেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান।
করণীয় কী
আরও পড়ুন
বৃষ্টিতে ভিজে ফেরা: ঝটপট ৫ কাজ না করলে ধরতে পারে সর্দি-জ্বরে!
সানস্ক্রিন ব্যবহার থেকে ত্বকে ক্যান্সার হওয়া বিষয়টা কতখানি সত্য?