Published : 13 Jul 2026, 03:40 PM
মানুষের শারীরিক ও স্নায়বিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ইলন মাস্কের নিউরালিংক মাথার খুলি কেটে চিপ বসানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করলেও ভিন্ন সম্ভাবনায় বাজি ধরছে চীনের স্টার্টআপ ব্রেইনকো।
বর্তমানে প্রচলিত ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস’ বা বিসিআই প্রযুক্তির প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে মাস্কের নিউরালিংক। তবে কিছু প্রযুক্তি কোম্পানি এখন বাজি ধরছে অন্য সম্ভাবনায়। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী নিউরাল বা স্নায়ুপ্রযুক্তি তৈরি করতে মাথার খুলি কাটার কোনো প্রয়োজনই পড়বে না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
মস্তিষ্কের সংকেত প্রক্রিয়াজাত করে সেগুলোকে বিভিন্ন কমান্ড বা নির্দেশে রূপান্তরের মাধ্যমে কাজ করে বিসিআই প্রযুক্তি। ফলে মানুষ কেবল চিন্তার মাধ্যমেই বাইরের যে কোনো ডিভাইস বা যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
এক্ষেত্রে কেবল পরিধানযোগ্য ডিভাইসের মাধ্যমে ‘ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস’ বা বিসিআই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রসারে বিশ্বজুড়ে জোর প্রস্তুতি চালাচ্ছে চীনা স্টার্টআপটি।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে তার তুলনায় বিসিআই খাতের বিভিন্ন স্টার্টআপের তহবিল পাওয়ার হার খুবই সামান্য। তবে এ নতুন খাতের প্রতিও আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। যেমন, ‘অ্যামায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস’ বা এএলএস বা স্নায়ুক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরাও এখন মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে টাইপ করতে বা ভিডিও গেইম খেলতে পারছেন।
এ ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে, যা মস্তিষ্কের সিগনাল প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই ভবিষ্যতে আরও বড় এক লাফের স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে সরাসরি মনের জোরেই এআই ও রোবটকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এ প্রযুক্তি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে। চীন সরকার তাদের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিসিআই’কে ‘ভবিষ্যতের কৌশলগত শিল্প’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সম্প্রতি দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বিশ্বের প্রথম ‘মিনিমালি ইনভেসিভ’ বা নূনতম কাটাছেঁড়া করতে হবে এমন বিসিআই ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে। ‘নিউর্যাকল মেডিকেল টেকনোলজি’র তৈরি এ ডিভাইসটি মেরুদণ্ডের আঘাতে কার্যসক্ষমতা হারানো হাত সচল করতে সাহায্য করে।
চীনের ‘স্টেয়ারমেড’ ও ‘নিউরোএক্সেস’-এর মতো বিভিন্ন কোম্পানি যেখানে মাথায় চিপ বসানোর প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে, সেখানে মাথার খুলি না কেটেই কাজ করার ক্ষেত্রটিও বেশ গতি পাচ্ছে। যার মধ্যে স্যাম অল্টম্যানের অর্থায়নে পরিচালিত ‘মার্জ ল্যাবস’ থেকে শুরু করে চীনের ‘গেস্টালা’ উভয় কোম্পানিই আল্ট্রাসাউন্ডভিত্তিক প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছে।
চীনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাংঝুর অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি স্টার্টআপ ‘ব্রেইনকো’ও বিসিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম অঙ্গ ও পরিধানযোগ্য ডিভাইস তৈরি করছে।
মিডিয়া ও গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ‘টেক বাজ চায়না’র প্রতিষ্ঠাতা রুই মা বলেছেন, বর্তমানে প্রমাণিত বিভিন্ন বিসিআই অ্যাপ্লিকেশন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জীবনযাত্রার মান নাটকীয়ভাবে উন্নত করতে পারে। তবে মানুষের স্বাভাবিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে এ প্রযুক্তির আসল ও বড় বাজার।
“আমার মনে হয় না কেউ এখনও এই লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছে। মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর এ বিষয়টি বর্তমান পর্যায়ে স্রেফ কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশনের মতোই।”
ব্রেইন-টেকনোলজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
‘হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবস’ থেকে ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ব্রেইনকো’ মাথার খুলি না কেটেই কাজ করার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ব্রেইনকো’র পার্টনার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিক্স হি বলেছেন, মাথায় চিপ বসানো ও নন-ইনভেসিভ এ দুটি ভিন্ন পদ্ধতি আলাদা আলাদা সমস্যার সমাধানের পথ। কিছু শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা কেবল মস্তিষ্কের ভেতরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেছেন, তবে ব্রেইনকো’র অনুমান, অন্যান্য অনেক সমস্যা, বিশেষ করে যেখানে ওষুধও কাজ করে না সেসব ক্ষেত্রে নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব। এ পদ্ধতি সাধারণ মানুষের কাছে সহজে গ্রহণযোগ্য ও সহজলভ্য এবং এতে ঝুঁকি ও খরচ দুই-ই কম।
কোম্পানিটির তৈরি বায়োনিক হাত এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফডিএ-এর অনুমোদন পেয়েছে। এ কৃত্রিম হাতটি কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির স্নায়বিক ও পেশির বৈদ্যুতিক সংকেত পড়তে পারে এবং তার ইচ্ছানুযায়ী আঙুল নাড়াতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া তাদের তৈরি পরিধানযোগ্য বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে রয়েছে একটি ঘুম সহায়ক যন্ত্র। ব্রেইনকো’র দাবি, যন্ত্রটি মৃদু বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে মস্তিষ্কে উদ্দীপনা তৈরি করে মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।
‘আইডিজি ক্যাপিটাল’ ও ইনটেলের প্রধান নির্বাহী লিপ-বু তানের প্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ফার্ম ‘ওয়ালডেন ইন্টারন্যাশনাল’-এর যৌথ নেতৃত্বে ব্রেইনকো তাদের সর্বশেষ ফান্ডিং রাউন্ডে প্রায় ২৮ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে।
লিক্স হি-র মতে, নন-ইনভেসিভ পদ্ধতির মূল চ্যালেঞ্জ মস্তিষ্কের সংকেত সংগ্রহ এবং এর অর্থ উদ্ধার করা। কারণ মাথার খুলির বাইরে থেকে এসব সিগনাল পড়ার সময় তা খুবই অস্পষ্ট ও গোলমেলে থাকে।
এ বাধা দূর করতে ব্রেইনকো একটি ‘ড্রাই ইলেকট্রোড সেন্সর’ তৈরি করেছে, যা নিখুঁতভাবে সিগনাল ধরতে পারে এবং একটি এআই অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যা সেই সিগনালের অর্থ উদ্ধার করতে পারে।
তিনি কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরে বলেছেন, প্রথমে প্রযুক্তি তাদের কাছে পৌঁছানো হবে যাদের এমনটা বেশি প্রয়োজন, যেমন যেসব বাজারে ইন্স্যুরেন্স বা বিমার সুবিধা রয়েছে সেখানকার কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহারকারীরা। এরপর এডিএইচডি বা মনোযোগের ঘাটতিজনিত সমস্যা ও বিষণ্নতার মতো চিকিৎসাগত সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিটি বাড়ানো হবে।
সবশেষে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স বা বাণিজ্যিক ইলেকট্রনিক পণ্য হিসেবে বাজারে আসবে প্রযুক্তিটি। পরবর্তীতে ব্রেইনকো তাদের এ বিসিআই প্ল্যাটফর্মটি অন্য যেসব কোম্পানি ব্রেইন-টেক পণ্য তৈরি করছে তাদের লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা করবে।
লিক্স হি বলেছেন, ভবিষ্যতে এই লাইসেন্সিং ব্যবস্থাপনাই হবে কোম্পানির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। স্টার্টআপটির পরিকল্পনা জাতীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া নতুন চিন্তাধারারই প্রতিফলন।
এ সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামত কলামে নন-ইনভেসিভ বিসিআই বিশেষজ্ঞ ও ‘চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এর এক গবেষকও ঠিক একই ধরনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
যেখানে বলা হয়েছে, এ প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হবে চিকিৎসা খাতে ব্যবহারের মাধ্যমে, এরপর তা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালনা বা অটোনোমাস ড্রাইভিং ও স্মার্ট উৎপাদন শিল্পে ছড়াবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের বাণিজ্যিক পণ্যে রূপ নেবে।
কল্পবিজ্ঞান থেকে বাণিজ্যিক বাস্তবতায় রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ
বিসিআই প্রযুক্তির জন্য কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালো তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্পষ্ট মতভেদ রয়েছে। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই একমত, আসল পরীক্ষা হচ্ছে কোম্পানিগুলো এমন কোনো পণ্য তৈরি করতে পারছে কি না, যা মানুষের আগের চেয়ে স্পষ্ট উপকারে আসবে এবং যার জন্য সাধারণ গ্রাহকরা অর্থ খরচ করতে রাজি হবেন।
কারও কারও ধারণা, কেবল মাথায় চিপ বসানোর মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব। বায়োটেক কোম্পানি ‘ইনসিলিকো মেডিসিন’-এর প্রধান নির্বাহী আলেকজান্ডার জাভোরোনকভ বলেছেন, “নন-ইনভেসিভ বা খুলি না কেটে সংকেত নেওয়ার চেষ্টা করা আর দূরবর্তী ছায়াপথের আলো ধরার চেষ্টা করা একই কথা।”
তবে অনেকেই আবার চিপ ছাড়া অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির মধ্যে বড় সম্ভাবনা দেখছেন। গেস্টালা’তে বিনিয়োগ করা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম ‘গোবি পার্টনার্স’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা টমাস চাও বলেছেন, আল্ট্রাসাউন্ডভিত্তিক বিভিন্ন পদ্ধতি কোনো ধরনের অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি ছাড়াই মস্তিষ্কের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে পারে।
“এ খাতে ক্রমাগত বিনিয়োগ প্রযুক্তিটিকে বড় এক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে এর চূড়ান্ত বাজার কতটা বড় হবে তা এখনই সুনির্দিষ্টভাবে বলা অসম্ভব, কারণ এর অনেক ভবিষ্যৎ ব্যবহার আমাদের কল্পনার বাইরে।”
বিনিয়োগ ব্যাংক ‘জেফরিস’ বলেছে, ইমপ্লান্ট ও আল্ট্রাসাউন্ডভিত্তিক পদ্ধতিগুলোই এ প্রযুক্তির ‘সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল’ দিক। কারণ সাধারণ নন-ইনভেসিভ সিস্টেমগুলো মস্তিষ্কের সংকেত কতটা স্পষ্টভাবে ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে পারছে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আটকে রয়েছে।
ব্যাংকটি আরও বলেছে, ব্রেইনকো’র নিজস্ব সেন্সর, এআই ডিকোডিং অ্যালগরিদম ও তাদের বাণিজ্যিক রেকর্ড কোম্পানিটিকে প্রতিযোগিতায় বেশ এগিয়ে রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে ভালো হবে তা নির্ভর করে ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ওপর। যেমন, মস্তিষ্কের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হচ্ছে নাকি উদ্দীপিত করা হচ্ছে, ব্যবহারকারী কোনো রোগী নাকি সাধারণ ভোক্তা বা প্রযুক্তিটি অল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হবে নাকি একটানা, মস্তিষ্কের উপরিভাগ নাকি গভীর কোনো অংশকে লক্ষ্য করা হচ্ছে এবং ব্যবহারকারী কতটুকু ধকল সহ্য করতে রাজি আছেন এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই সেরা পদ্ধতিটি বেছে নিতে হবে।
সিলিকন ভ্যালি বনাম চীনা কৌশল
আমেরিকান স্নায়ুপ্রযুক্তি বা নিউরোটেকনোলজি যেখানে বিলিয়নেয়ারদের অর্থায়নে এগিয়ে চলেছে,সেখানে চীনের এ খাতটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন পাচ্ছে।
গেল বছরের অগাস্টে বেইজিংয়ে সাতটি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিসিআই শিল্পের জন্য একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে এ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের অগ্রগতি পাওয়া। জুনে আনহুই প্রদেশের সরকার গবেষণা, উৎপাদন ও শিল্পায়নের সার্বিক ক্ষেত্রে বিসিআই-এর উন্নয়নকে দ্রুততর করতে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
‘টেক বাজ চায়না’র রুই মা বলেছেন, চীনের কিছু স্টার্টআপ সরকারি বা ঝুঁকি-বিমুখ বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দ্রুত আয় দেখানোর চাপে রয়েছে। ফলে তারা বড় বড় বৈপ্লবিক আবিষ্কারের পেছনে না ছুটে যন্ত্রপাতি বা সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য বিক্রির দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে, মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এমন বাজির পেছনে অর্থ খাটানো পছন্দ করেন, যা পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।
জেফরিস-এর মতে, চীনের বিসিআই বাজার বর্তমানে নন-ইনভেসিভ রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন প্রযুক্তির হাত ধরে প্রথম চাঙ্গা হয়ে উঠছে। কারণ এ ক্ষেত্রে আইনি ও ক্লিনিক্যাল জটিলতা অনেকটাই কম।
পরামর্শক কোম্পানি ‘ডিজিএ-অলব্রাইট স্টোনব্রিজ গ্রুপ’-এর পার্টনার পল ট্রিওলো বলেছেন, “চীন এখন বিসিআই-কে তাদের শিল্প নীতির অংশ করে নিয়েছে। বেইজিং কেবল যুগান্তকারী প্রযুক্তির কথাই ভাবছে না, বরং এর পুরো সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খলের কথা মাথায় রেখে এগোচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, চীনের নজর এখন স্ট্রোকের রোগীদের পুনর্বাসন থেকে শুরু করে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি ও মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা মূল্যায়নের মতো আরও ব্যাপক বিষয়ের দিকে। এ সমন্বিত প্রচেষ্টা হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সাংহাইতে বিভিন্ন বিসিআই স্টার্টআপকে সরাসরি হুয়াশান হাসপাতালের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা সহজেই স্নায়ু চিকিৎসক ও রোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারছে।
এছাড়া চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ গেল বছর বিসিআই-এর জন্য আলাদা ইন্স্যুরেন্স ক্যাটেগরি তৈরি করেছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে এ প্রযুক্তির পরিধি আরও বাড়াতে সাহায্য করবে।
ভূরাজনীতি ও প্রাইভেসির ঝুঁকি
এআই ও সেমিকন্ডাক্টরের মতোই বিসিআই প্রযুক্তিও পূর্ণতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি ভূরাজনৈতিক দ্বন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। কারণ এ প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের অতি সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাইভেসি সরাসরি জড়িয়ে।
এ ছাড়া মানুষের কর্মসক্ষমতা বা বুদ্ধিমত্তা কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় নৈতিকতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসছে।
ব্রেইনকো’র লিক্স হি বলেছেন, তাদের কোম্পানি গ্রাহকদের কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না। সব তথ্য ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকে, ক্লাউডে পাঠানো হয় না এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর তা মুছে ফেলা হয়। মনোযোগ বাড়ানোর ডিভাইসগুলোতেও মনোযোগের স্কোর বা ডেটা স্থানীয়ভাবেই সংরক্ষিত থাকে।
বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যকার এ প্রযুক্তিগত উত্তেজনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রাজনীতিকে পাশে সরিয়ে রেখে বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য চীন বা যুক্তরাষ্ট্র যেখানেই হোক না কেন সংকটাপন্ন মানুষের কাছে সমাধান পৌঁছে দেওয়া।
“মানুষের উপকারের জন্য আমি কোনো সীমান্ত মেনে চলব না।”