Published : 12 Jul 2026, 10:08 AM
চ্যাটজিপিটি’র ভয়েস ফিচারের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন দুটি ভয়েস মডেল উন্মোচন করেছে ওপেনএআই।
বৃহস্পতিবার ‘জিপিটি-লাইভ-১’ ও ‘জিপিটি-লাইভ-১ মিনি’ নামে দুটি নতুন ভয়েস মডেল উন্মোচন করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানিটি।
‘জিপিটি-লাইভ-১’ নামের মডেলটির সঙ্গে এখন মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে অনর্গল কথা এবং এআই খুব দ্রুত কথা বললে তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে কিছুটা ধীরে কথা বলার অনুরোধ করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এর আগে, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ‘অ্যাডভান্সড ভয়েস মোড’ চালু করেছিল কোম্পানিটি। বাজারে আসার পর শুরুতে সিরি বা অ্যালেক্সা’র মতো পুরানো বিভিন্ন ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের তুলনায় ফিচারটি আধুনিক বলে মনে হয়েছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে অ্যাডভান্সড ভয়েস মোডটি ওপেনএআইয়ের ভাষায় ‘টার্ন-বেসড’ বা একজনের পর আরেকজন বলার নীতি ভয়েস মডেল ছিল।
সহজভাবে বললে, ব্যবহারকারী যতক্ষণ না কথা বলা থামাতেন মডেলটি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো উত্তর দিতে পারত না। ফলে এ আলাপ অনেক সময়ই স্বাভাবিক মনে হত না। ব্যবহারকারীর নিরবতাকে কথা শেষ করার সংকেত হিসেবে ধরে নেওয়ার কারণে, কেউ কথা বলার মধ্যে সামান্য বিরতি নিলেই মডেলটি ভুলবশত মাঝপথে অদ্ভুতভাবে বাধা দিয়ে নিজে কথা বলা শুরু করত।
এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে ‘জিপিটি-লাইভ-১’ সিরিজের এসব এআই মডেল। এগুলোকে তৈরি করা হয়েছে ‘ডুপ্লেক্স আর্কিটেকচার’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে।
ফলে এসব মডেল একইসঙ্গে ব্যবহারকারীর কথা শুনতেও পারবে ও নিজের উত্তরও তৈরি করতে পারবে। নতুন এ প্রযুক্তি নিয়ে ওপেনএআই ব্যাখ্যা করে বলেছে, “এমনটা এআই মডেলটিকে আরও স্বাভাবিকভাবে একের পর এক কথা চালিয়ে যেতে, সময়ের সঠিক হিসাব রাখতে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি অনুবাদ করতে সাহায্য করবে।”
পাশাপাশি, নতুন এসব ‘জিপিটি-লাইভ’ মডেল যে কোনো কাজ ভাগ করে দেওয়ার উপযোগী করে ডিজাইন করা। আলাপের সময় ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা নির্দেশনার জন্য কোনো গাণিতিক যুক্তি বা বিচার-বিশ্লেষণ, ওয়েব সার্চ বা অন্যান্য এআই এজেন্টের মতো আরও জটিল সক্ষমতার প্রয়োজন হয় তবে নতুন ভয়েস মডেলটি নিজে থেকেই ওপেনএআইয়ের অন্যান্য মডেলের সহায়তা নিতে পারবে।
ব্যাকগ্রাউন্ডে এ পুরো প্রক্রিয়াটি চলতে থাকবে। ফলে জিপিটি-লাইভের সঙ্গে ব্যবহারকারীর সাধারণ আলাপে কোনো ধরনের ছেদ বা বিরতি পড়বে না।
সব মিলিয়ে এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে এখন থেকে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলার সময় যে কোনো মুহূর্তে তাকে থামিয়ে দেওয়া বা মাঝপথে বাধা দেওয়া যাবে। এআই খুব দ্রুত কথা বললে একে কিছুটা ধীর লয়ে বলার অনুরোধও করা যাবে।
ব্যবহারকারী যখন কথা বলবেন, তখন কথা যে সে শুনছে ও বুঝতে পারছে তা নিশ্চিত করতে মডেলটি মাঝেমধ্যে মানুষের মতোই ‘হুম’ বা ‘বুঝতে পেরেছি’র মতো মৌখিক সম্মতি বা সাড়া দেবে।
ওপেনএআই বলেছে, পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো বিরক্তিকর বা কোলাহলপূর্ণ শব্দ থাকলেও নতুন এসব মডেল এখন বেশি মনোযোগ দিয়ে ব্যবহারকারীর কথা শুনতে পারবে।
পাশাপাশি চ্যাটজিপিটি ভয়েস বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ের জন্য উইজেটের মতো ছোট কার্ড আকারে ভিজুয়াল বা ছবিও তৈরি করতে পারবে। আবহাওয়া, খেলাধুলার খবর, শেয়ার বাজারসহ আরও নানা বিষয়ের তথ্য এভাবে স্ক্রিনে দেখা যাবে।
আগের মতোই এ ফিচারে ছবি ও বিভিন্ন ফাইল আপলোডের সুবিধা থাকছে এবং এর মাধ্যমে সরাসরি ওয়েব সার্চও করা যাবে। নতুন সুবিধার সঙ্গে চ্যাটজিপিটি ভয়েসে বেশ কিছু নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যোগ করেছে ওপেনএআই।
কোম্পানিটি বলেছে, “সিস্টেমটি যখনই কোনো সম্ভাব্য অনিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ কথাবার্তা শনাক্ত করবে তখনই মডেলটিকে নিরাপদ উত্তরের দিকে ঘুরিয়ে দেবে, অতিরিক্ত সতর্কবার্তা দেখাবে বা বেশি ঝুঁকির ক্ষেত্রে ভয়েস আলাপটি বন্ধ করে দেবে।”
অভিভাবকরা চাইলে টিনএজারদের সুরক্ষায় ওপেনএআইয়ের সম্প্রতি চালু করা ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ ব্যবহার করে তাদের সন্তানদের জন্য চ্যাটজিপিটি ভয়েস ফিচারটি বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় করতে পারবেন।
অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে চ্যাটজিপিটি ভয়েস ব্যবহারের অনুমতি দিলেও আলাপের সময় সিস্টেমটি যদি বুঝতে পারে যে টিনএজার নিজেকে কোনো ক্ষতি করা বা ‘সেলফ-হার্ম’-এর মতো আত্মঘাতী বিষয়ের দিকে আলোচনা নিয়ে যাচ্ছে, তবে সিস্টেমটি মা-বাবাকে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার থেকে অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস ও ওয়েব সংস্করণের চ্যাটজিপিটিতে ‘জিপিটি-লাইভ’ ফিচারটি ধাপে ধাপে চালু করা শুরু করেছে ওপেনএআই।
চ্যাটজিপিটির ‘গো’, ‘প্লাস’ ও ‘প্রো’ সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীরা মূল ‘জিপিটি-লাইভ-১’ মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, চ্যাটজিপিটির ফ্রি বা বিনামূল্যে ব্যবহাহৃত অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছোট আকৃতির ‘লাইভ-১ মিনি’ মডেলটি নির্ধারণ থাকবে।