Published : 11 Jul 2026, 11:07 AM
প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিককে টেক্কা দিতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সুপার অ্যাপ’ উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআই।
‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’ নামের এ নতুন স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টটি কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই সাধারণ অফিস কর্মীদের জটিল কোডিং টুলের সুবিধা দেবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
হোয়াইট-কালার বা অফিস কর্মীদের কোডিং টুলের সুবিধা দিতে নতুন এআই এজেন্টটি উন্মোচন করেছে ওপেনএআই।
কোম্পানিটি বলেছে, এ নতুন এজেন্টটি তাদের জনপ্রিয় চ্যাটবটের সঙ্গে নিজস্ব এআই কোডিং টুল ‘কোডেক্স’-এর সমন্বয় ঘটিয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অনায়াসে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।
এ সেবাটি পরিচালিত হচ্ছে ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে উন্নত ও নতুন এআই মডেল ‘জিপিটি-৫.৬’-এর মাধ্যমে, যা একই দিন বৃহস্পতিবার বাজারে এনেছে ওপেনএআই।
এর আগে, গেল মাসে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন সরকারের অনুরোধে এ মডেলটির উন্মোচন স্থগিত করেছিল কোম্পানি।
প্রযুক্তি বিশ্বে ওপেনএআইয়ের নতুন এ পদক্ষেপটিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড কোওয়ার্ক’-এর জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বছরের জানুয়ারিতে অ্যানথ্রপিক তাদের এ এআই এজেন্টটি চালু করে, যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে বহু-ধাপওয়ালা জটিল কাজ পরিকল্পনা ও সম্পন্ন করতে পারে।
পেশাদার কাজের ক্ষেত্রে এআই টুল তৈরি ও বিক্রির বাজারে যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, নতুন এআই মডেল উন্মোচন তারই প্রতিফলন। বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এখন এমন স্বয়ংক্রিয় এজেন্টের ক্রমাগত চাহিদাকে কাজে লাগাতে চাইছে, যা মানুষের ন্যূনতম ইনপুটে জটিল কাজগুলো সারতে পারে।
বর্তমানে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই উভয় কোম্পানিই অদূর ভবিষ্যতে শেয়ার বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রির চেয়ে কর্পোরেট ব্যবসা ধরার জন্য তাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কারণ এ খাতে আয়ের সুযোগ বেশি।
‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’ ও ‘ক্লড কোওয়ার্ক’ উভয় এজেন্টই এমন সব অপেশাদার বা নন-কোডারদের জন্য ডিজাইন হয়েছে যারা এআই কোডিং টুলের সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চান।
সাধারণত এসব কোডিং টুল সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও সক্ষম হলেও এগুলো ব্যবহারের জন্য বিশেষায়িত বা কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।
ওপেনএআইয়ের কর্মীরা বলেছেন, তাদের নতুন সেবাটি প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর পণ্যের তুলনায় সাশ্রয়ী ও ব্যাপকভাবে সবার জন্য সহজলভ্য হবে। নিজেদের নতুন ‘জিপিটি ৫.৬’ মডেলের তিনটি ভিন্ন সংস্করণও বাজারে এনেছে কোম্পানিটি।
‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’-এর প্রোডাক্ট ম্যানেজার টাই জেরি বলেছেন, “যে কোনো খাতের সমস্যা সমাধানের জন্য আপনারা এ মডেলের কোডিং সক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারবেন।”
ওপেনএআইয়ের ‘জিপিটি ৫.৬’ মডেলের কার্যকারিতা তুলে ধরে একে ‘বাজারে থাকা বেশি দামি মডেলগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে পারা অথচ দ্বিগুণ গতিতে কাজ করলেও খরচও অনেক কম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন জেরি।
বৃহস্পতিবারের এ ঘোষণাটি প্রযুক্তি বাজারে এআই টুল ব্যবহারের আকাশচুম্বী খরচ নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
পরামর্শক কোম্পানি ‘ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস’-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ বলেছেন, ওপেনএআইয়ের এ নতুন মডেলের সবচেয়ে ছোট সংস্করণটি প্রায় সবচেয়ে বড় সংস্করণটির মতোই নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তবে খরচ পড়বে কেবল পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
নিজের পর্যবেক্ষণ ওয়েনবাখ বলেছেন, “এই প্রথম আমি কোনো ছোট মডেলকে এই ধরনের জটিল কাজ এত সফলভাবে সম্পন্ন করতে দেখলাম।”
নতুন প্রযুক্তি বাজারে আনার আগে ওপেনএআইয়ের এজেন্টভিত্তিক সেবার তালিকায় ছিল ‘অপারেটর’ ও ‘ডিপ রিসার্চ’। পরবর্তীতে ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের জন্য এগুলোকে ‘চ্যাটজিপিটি এজেন্ট’ হিসেবে একত্র করেছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি করপোরেট কাজের ধারাকে স্বয়ংক্রিয় করার জন্য তাদের ‘ওয়ার্কস্পেস এজেন্টস’ নামের সেবাও চালু ছিল।
ওপেনএআই বলেছে, বৃহস্পতিবার থেকেই ওয়েব ও মোবাইল প্ল্যাটফর্মে ‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় ‘প্রো’, ‘এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘এডু’ ব্যবহারকারীরা এ সুবিধা পাচ্ছেন। পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ‘প্লাস’ ও ‘বিজনেস’ ব্যবহারকারীদের জন্যও চালু হবে।
নতুন এ এজেন্টের পাশাপাশি ওপেনএআই ‘চ্যাটজিপিটি ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন’ ও ‘হোস্টেড ওয়েবসাইটস’ ফিচার চালুর ঘোষণাও দিয়েছে। এ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি ‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক’-এর ভেতরেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে ও তা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন…