Published : 11 Jul 2026, 11:49 AM
সেভ করতে সমস্যা হচ্ছিল না কিন্তু জোরে শট নিতে ভুগছিলেন তিবো কোর্তোয়া। আরও কিছুক্ষণ হয়তো খেলা চালিয়ে যেতে পারতেন তিনি। তবে ততক্ষণ অপেক্ষা করেননি বেলজিয়াম কোচ হুডি গাহসিয়া। সানা লমেন্সকে বদলি নামান তিনি।
ম্যাচের শেষ দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগিয়ে ব্যবধান গড়ে দেন মিকেল মেরিনো। কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতে এগিয়ে যায় স্পেন। বিদায় নেয় বেলজিয়াম।
এর আগে অসংখ্য সেভ করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে রেখেছিলেন কোর্তোয়া। রেয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে তুলে নেওয়ায় বিতর্ক হচ্ছে বেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের সময় থেকে পায়ে অস্বস্তিবোধ করেন কোর্তোয়া। মাঠে শুয়ে থাকেন তিনি, তাকে দেখতে এগিয়ে আসেন চিকিৎসকরা।
ম্যাচ শেষে ডিজেডএনের সঙ্গে আলাপচারিতায় কোর্তোয়া বললেন, তার মনে হচ্ছিল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছে। তাই তিনি শুয়ে পড়েছিলাম যেন চিকিৎসকরা তাকে দেখতে পারেন।
“আমি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমি বলে শট নিতে পারছিলাম না। আরও পাঁচ মিনিট হয়তো খেলতে পারতাম কিন্তু যেহেতু আমি শতভাগ ফিট নই তাই কোচ আমাকে বদল করার কথা বলেন। এটা ঠিক আছে, এটা উনার সিদ্ধান্ত।”
৭১তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। এসময় ভীষণ হতাশ দেখাচ্ছিল তাকে। জার্সি দিয়ে চোখের পানি মুছতে দেখা যায় তাকে। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সতীর্থদের রেখে মাঠ ছাড়তে ব্যথিত ছিলেন তিনি। পরে লমেন্সের ভুল দেখে আক্ষেপ হয়তো আরও বেড়েছে তার।
পাউ কুবার্সির শট গ্লাভসে নিতে পারেননি ইউনাইটেডের ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক। ফিরতি বল জালে পাঠান দুই মিনিট আগে বদলি নামা মেরিনো।
গোলের জন্য সতীর্থকে দায় দিচ্ছেন না কোর্তোয়া। বরং কঠিন সময়ে লমেন্সের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
“মাঠ খুব শুকনো ছিল আর এটা ছিল দুর্ভাগ্য। আমাদের তাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা উচিত নয়। এটা ফুটবল, এখানে এমন হয়। সে ইউনাইটেডে চমৎকার একটি মৌসুম কাটিয়ে এসেছে। এটা তার প্রাপ্য নয়।”
বেলজিয়ামের হয়ে ফের খেলবেন কিনা কোর্তোয়া তা এখনও নিশ্চিত নয়। আপাতত নিজের চোট পরিস্থিতি পুরোপুরি জানার অপেক্ষায় তিনি।
“দেখতে হবে এমআরআইয়ে কী আসে। আশাকরি, গুরুতর কিছু নয়। গুরুতর কিছু বলে মনে করেছি না।”
নেশন্স লিগে খেলবেন না তা নিশ্চিত। ইউরোর বাছাইয়ে হয়তো ফিরতে পারেন তিনি। তবে তা নির্ভর করছে অনেক কিছুর উপর। সে সব ইতিবাচক না হলে দেশের হয়ে নিজের ‘শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন’ কোর্তোয়া।
তাকে কী আরেকটু সময় দিতে পারতেন গাহসিয়া? উত্তরে বেলজিয়াম কোচ বললেন, কোর্তোয়াকে বদল করা নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই তার।
“সব দিক থেকেই কোর্তোয়া দুর্দান্ত। আমরা চাইনি তার চোট পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাক। সে পেশীতে চোট পেয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। সে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষকদের একজন। আবার সেখানে চোট পেলে খুব বাজে হতো।”