Published : 10 Jul 2026, 03:54 PM
বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলেও ১২৫-১৩০ বারের বেশি বল স্পর্শ করতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগিজ মহাতারকা বল পান মোটে ১৯ বার। ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী ফরোয়ার্ড ইউহি জোক্যাফ মনে করেন, এই আসরে রোনালদোকে একঘরে করে রেখেছিলেন সতীর্থরা।
জমাটরক্ষণ, দুর্দান্ত মাঝমাঠ আর আক্রমণভাগে ইতিহাসের সেরা গোলদাতা রোনালদোকে নিয়ে টুর্নামেন্টের ফেভারিটদের একটি ছিল পর্তুগাল। কিন্তু টুর্নামেন্টে সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি তারা। খেলায় সমন্বয়হীনতা ছিল স্পষ্ট। স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদো প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয় আসরে গোল করার কীর্তি গড়েন। সবচেয়ে বেশি বয়সে নকআউট পর্বে গোল করেন তিনি।
স্পেন ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো নিশ্চিত করেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। আসর শেষ করেন তিনি তিন গোল নিয়ে। আরএমসির সঙ্গে আলাপচারিতায় জোক্যাফ বলেন, সতীর্থরা রোনালদোকে একঘরে করে না রাখলে চিত্রটা ভিন্ন হতে পারত।
“আপনি যদি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দলে নেন তো, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য দলের খেলতে হবে। এক্ষেত্রে সেটা মোটেও হয়নি। আপনারা দেখেছেন যে, সে অন্তর্ঘাতের শিকার হয়েছিল। ওরা তাকে সাহায্য করেনি, ওরা তাকে সম্ভাব্য সেরা অবস্থায় রাখেনি।
“আমরা সবাই ক্রিশ্চিয়ানোকে চিনি। সে সবসময় এভাবেই খেলে এসেছে। আপনি কী এই প্রত্যাশা করছেন যে, সে হুট করে বদলে যাবে? হয় আপনি তাকে ডাকবেন না নয়তো আপনি তাকে খেলাবেন না। কিন্তু যদি খেলান তাহলে তাকে ঘিরেই আপনার দল গড়ে তুলতে হবে।”
কেবল খেলার ধরনই নয়, মাঠের বাইরেও রোনালদোর সতীর্থদের কাজে সন্তুষ্ট নন ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য জোক্যাফ।
“পর্তুগাল দলের যে ব্যাপারটা আমার ভালো লাগেনি সেটা হলো, এতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকার পর মনে হয়েছে সবাই যেন দায়িত্ব ক্রিশ্চিয়ানোর কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে। কোনো একটা পর্যায়ে ভিতিনিয়া, (ব্রুনো) ফের্নান্দ্স ও অন্যদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। আপনি কেবল আশা করে যেতে পারেন না যে, ক্রিশ্চিয়ানো একা সব করবে। একমাত্র তাকেই যে ব্যবধান গড়ে দিতে হবে, তা তো নয়।”