Published : 09 Jul 2026, 03:09 PM
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের ম্যাচে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেছেন ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কললিনা। প্রখ্যাত এই সাবেক রেফারির মতে, ম্যাচ কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন।
রেফারিদের সমালোচনা হবেই এবং এটা ফুটবল খেলাটিরই অংশ, তা অবশ্য বলছেন কললিনা নিজেই। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারের পর রেফারিং নিয়ে মিশর অভিযোগ করায় কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সেটির নিন্দা করেন তিনি।
২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা এই ইতালিয়ান রেফারির মতে, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
“রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সবসময়ই ফুটবলের অংশ থাকবে, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান আমাদের এই খেলায় নেই।
ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না... কেউ দাবি করতে পার না যে ফিফার রেফারিং কারও মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতির মাধ্যমেও নয়।”
কললিনা বলেন, এই ধরনের অভিযোগ রেফারি এবং তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরেছে মিশর। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে রেফারির নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার হয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে জেতাতে রেফারির ওপর চাপ ছিল বলে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। মিশরের উইঙ্গার মোস্তাফা জিকো ক্যামেরার সামনে বলেন, “এটা অন্যায়, অন্যায়, অন্যায়। রেফারি অন্যায় করেছেন। এটা অবিচার, স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচার।”
ম্যাচের পর তাৎক্ষণিক ওসব অভিযোগই শেষ নয়, ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দাবি করে, “বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং এমন সব সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে, যা সরাসরি খেলার গতিপথকে প্রভাবিত করেছে।”
মিশর যুক্তি দেখিয়েছে যে, দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকোর করা গোলটি ভুলভাবে বাতিল করা হয়েছে, কারণ তাদের মতে গোলটি হওয়ার আগে একটি ফাউল হয়েছিল, যা আদতে হয়নি। মিশর এটা নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিল যে, আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি করার ঠিক আগের মুহূর্তে মোহামেদ সালাহকে করা ফাউলের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফিফার রেফারিং প্রধান কললিনা বলেন, জিকোর গোলটি বাতিল করার সঠিক সুপারিশ করেছিল ভিএআর, কারণ আক্রমণের শুরুতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিসেনকে ফাউর করা হয়েছিল।
“আমরা বিশ্বাস করি যে, ফাউল মানেই ফাউল। ফাউলটি ‘স্পষ্ট’ মনে হোক বা না হোক, যদি রেফারি খেলার মাঠে তা দেখতে না পান, তবে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।”
আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরকে পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষেও কলিনা যুক্তি দেন। তিনি বলেন, রেফারি এবং ভিএআর উভয়েই সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেসের সংঘর্ষকে ‘স্বাভাবিক ফুটবলীয় স্পর্শ’ হিসেবে বিচার করেছে।
‘প্রতিপক্ষের পায়ে পা মাড়ানো একটি ফাউল, কিন্তু একজন ডিফেন্ডার যদি প্রথমে বল স্পর্শ করার পর স্বাভাবিক ফুটবলীয় স্পর্শ করেন, তবে তিনি ফাউল করেননি।’
শুধু এই ম্যাচে নয়, এবারের বিশ্বকাপে রেফারির নানা সিদ্ধান্ত ও ভিএরআর নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তুমুল। বিশেষ করে, সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রবলভাবে। একইরকম ঘটনায় একেক ম্যাচে একেকরকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।
কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে সবসময়ই প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকবে, মানছেন কললিনা। তবে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকসের বিচারে টানা ছয়বারের (১৯৯৮-২০০৩) বর্ষসেরা এই রেফারি বললেন, ভিএআর-এর নীতিগুলো যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতে ফিফা সন্তুষ্ট।