Published : 09 Jul 2026, 02:08 AM
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা অর্থায়নের নতুন কাঠামো নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছে, তা কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নয়। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সংস্কৃতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষণার অর্থ কোথায় থাকবে, কে তা পরিচালনা করবে, অথবা কোন প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ দেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, গবেষকের সৃজনশীলতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক বাজেটের অংশ হিসেবেই গবেষণা খাতের অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হতো। বিভাগ, অনুষদ এবং গবেষণা কমিটির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেন্দ্রের একাডেমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষকরা গবেষণা অনুদান পেতেন। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সেই কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। এখন গবেষণার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ন্ত্রণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা পরিকল্পনা, উপখাতভিত্তিক চাহিদা এবং বাজেট প্রাক্কলন জমা দিতে হবে। এরপর প্রকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের যুক্তি হলো, গবেষণায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষণা অনুদানের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নের মান এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্বও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষণা অর্থায়নের ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক।
কিন্তু এখানেই বিতর্কের সূচনা। বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা দূর করতে গিয়ে এমন কোনো কাঠামো তৈরি হচ্ছে কি না, যা গবেষণার স্বাভাবিক গতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে সংকুচিত করবে?
বিশ্বের যেসব দেশ আজ গবেষণা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতির নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান–প্রতিটি দেশেই রাষ্ট্র গবেষণায় বিপুল বিনিয়োগ করে। কিন্তু অর্থায়নের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতাও সমান গুরুত্ব পায়।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া তার মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে। ইসরায়েলের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, জার্মানি প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং জাপান প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি গবেষণায় বিনিয়োগ করে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় এখনো জিডিপির দশমিক ৩ শতাংশেরও নিচে। অর্থাৎ গবেষণায় অর্থের স্বল্পতা যেখানে বড় বাস্তবতা, সেখানে অর্থ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তবে উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় যে, গবেষণার মান উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রয়োজন হলেও গবেষণা পরিচালনার দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান দেয়। কিন্তু প্রকল্প পরিচালনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণার প্রশাসনিক দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই পালন করে। যুক্তরাজ্যে গবেষণা কাউন্সিলগুলোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্লক গ্র্যান্ট পায়, যা তারা নিজস্ব গবেষণা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ব্যবহার করতে পারে। জার্মানিতে কেন্দ্রীয় সরকার, অঙ্গরাজ্য এবং স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরেও সরকার গবেষণার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেয়, কিন্তু গবেষণার বাস্তবায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার এই ধারাবাহিকতা বিষয়টিকে স্পষ্ট করে। গবেষণা অর্থায়নে জবাবদিহি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তারা একে অপরের পরিপূরক। জবাবদিহিহীন স্বাধীনতা যেমন অনিয়মের ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনি স্বাধীনতাহীন জবাবদিহি গবেষণাকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে ফেলে।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ভারসাম্য রক্ষা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে ৫৮টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত, যার মধ্যে ৫৫টিতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার প্রয়োজন, সক্ষমতা এবং অগ্রাধিকার ভিন্ন। কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার চরিত্র যেমন আলাদা, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার চাহিদাও তেমনি ভিন্ন। আবার সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার ক্ষেত্র সমাজবিজ্ঞান, মানবিক বিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভাষা কিংবা জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয়েও বিস্তৃত। তাই একক প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিচালনা সব সময় সমান কার্যকর নাও হতে পারে।
গবেষণার প্রকৃতিও সময়নির্ভর। অনেক গবেষণার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মৌসুমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। কোনো কোনো গবেষণায় জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক অথবা সফটওয়্যার সংগ্রহের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলা অপরিহার্য। অর্থ ছাড় ও প্রশাসনিক অনুমোদনে দীর্ঘ বিলম্ব হলে কেবল একটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষকের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থায়নের সুযোগও সংকুচিত হতে পারে।
এখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি গবেষণা প্রস্তাবের একাডেমিক মান, মৌলিকত্ব কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ, অনুষদ এবং গবেষণা কমিটিই সবচেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রীয় সংস্থা জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, মানদণ্ড নির্ধারণ, কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন এবং নিরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে পারে। কিন্তু গবেষণা প্রকল্পের প্রতিটি প্রশাসনিক ধাপ কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ করে তুলতে পারে।
অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা মানেই নিয়ন্ত্রণহীনতা নয়। বিশ্বের প্রায় সব সফল গবেষণা ব্যবস্থায় স্বাধীনতার পাশাপাশি কঠোর জবাবদিহি বিদ্যমান। নির্ধারিত সময় অন্তর অগ্রগতি প্রতিবেদন, স্বাধীন নিরীক্ষা, গবেষণার ফলাফল প্রকাশ, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়ন এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চা। বাংলাদেশেও গবেষণা অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ও ফলাফলভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এতে অনিয়ম কমবে, আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গবেষণা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে না।
নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে সম্পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থায় যেমন কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে, তেমনি পুরো অর্থ ইউজিসি বা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নতুন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং প্রশ্নটি হওয়া উচিত না কোন ব্যবস্থায় কোনো সমস্যা নেই; বরং কোন ব্যবস্থায় সমস্যাগুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে সমাধান করা সম্ভব এবং একই সঙ্গে গবেষণার গতিশীলতা অক্ষুণ্ন রাখা যায়।
আমাদের নীতিনির্ধারণে প্রায়ই একটি প্রবণতা দেখা যায়। কোথাও কিছু অনিয়ম ধরা পড়লে পুরো ব্যবস্থাকেই পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জবাবদিহিমূলক করে তোলা। গবেষণা অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সেই পথটিই অধিকতর যৌক্তিক বলে মনে হয়। অনিয়ম হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ডিজিটাল মনিটরিং জোরদার করা, নিরীক্ষা বাড়ানো এবং কর্মসম্পাদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ বরাদ্দ নির্ধারণ করা যেতে পারে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত হবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনকে দুর্বল করে দেয়।
বর্তমান বিশ্বে গবেষণা একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান, যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের যদি প্রতিটি আর্থিক সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে। গবেষণার জগতে সময়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অনেক সময় বিলম্ব মানেই একটি উদ্ভাবনের সুযোগ হারানো।
বাংলাদেশের জন্য তাই সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ মডেল, যেখানে গবেষণার অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে, কিন্তু তার ওপর থাকবে শক্তিশালী জবাবদিহি, ডিজিটাল মনিটরিং, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং কর্মসম্পাদনভিত্তিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সংস্থা জাতীয় গবেষণা নীতিমালা প্রণয়ন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ, মান নিশ্চিতকরণ এবং আর্থিক জবাবদিহির দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন, বাস্তবায়ন এবং দৈনন্দিন অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতেই থাকবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও এই অংশীদারিত্বভিত্তিক কাঠামোকেই সবচেয়ে কার্যকর বলে প্রমাণ করেছে।
সবশেষে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যে ব্যবস্থাপনাই গ্রহণ করা হোক না কেন, তাতে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবেই। কোনো ব্যবস্থাকেই ত্রুটিমুক্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজন সমস্যাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা, সেগুলোর কার্যকর সমাধান তৈরি করা এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করা। কিন্তু সেই প্রয়াসে এমন কোনো কাঠামো গ্রহণ করা উচিত নয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব একাডেমিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে, গবেষণা সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ফেলে বা অর্থ ছাড় ও গবেষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতার জন্ম দেয়। গবেষণা বিকশিত হয় আস্থার পরিবেশে, স্বাধীন চিন্তার চর্চায় এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ভবিষ্যৎও নির্ভর করবে এই তিনটি ভিত্তিকে কতটা সুষমভাবে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপর।
খালিদুর রহমান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক। ই-মেইল: [email protected]