Published : 08 Jul 2026, 05:05 PM
কালো মানুষকে নিয়ে আমাদের সমাজে এখনও এক ধরনের অবহেলা, বিদ্রূপ, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অকারণ ঘৃণার মনোভাব দেখা যায়। গায়ের রংকে আমরা অজান্তেই সৌন্দর্য, যোগ্যতা কিংবা সামাজিক মর্যাদার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলি। শিশুদের ডাকনাম থেকে শুরু করে সিনেমার সংলাপ, কৌতুক, বিজ্ঞাপন কিংবা দৈনন্দিন কথাবার্তায় কালো রংকে প্রায়ই নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেন মানুষের চরিত্র, মেধা বা সম্ভাবনারও একটি রং আছে!
কালো মানুষেরা যুগে যুগে শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছে। চার শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে কোটি কোটি নারী, পুরুষ ও শিশুকে শিকলে বেঁধে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার দাসবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। তাদের শ্রমে গড়ে উঠেছে ঔপনিবেশিক অর্থনীতির বিশাল কাঠামো, অথচ মানুষ হিসেবে তাদের ন্যূনতম মর্যাদাও স্বীকৃতি পায়নি।
মার্কিন লেখক অ্যালেক্স হ্যালির ‘রুটস’-এর কুনতা কিন্তের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বর্ণবাদ কোনো সাময়িক সামাজিক অসুখ নয়; এটি সভ্যতার বুকের ওপর খোদাই হয়ে থাকা দীর্ঘস্থায়ী এক মানবিক বিপর্যয়। দাসপ্রথার আইন বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু তার মানসিকতা পুরোপুরি বিলীন হয়নি।
ইতিহাসের একটি স্বভাব আছে। কোনো অন্যায় চিরকাল টিকে থাকে না। যে মানুষদের একদিন বাজারে দাঁড় করিয়ে বিক্রি করা হতো, যাদের গায়ের রংকে অযোগ্যতার প্রতীক বানানো হয়েছিল, তারাই আজ রাজনীতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, ব্যবসা, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতি স্বাভাবিক বাস্তবতা। এটি শুধু প্রতিভার জয় নয়; এটি ইতিহাসের বিরুদ্ধে ইতিহাস লেখার গল্প।
ফুটবল ওই উঠে দাঁড়ানোর সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাষাগুলোর একটি।
আজ বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটির সর্বোচ্চ আসরের দিকে তাকালে মনে হয়, সবুজ মাঠ যেন মানবসভ্যতার এক নতুন ইতিহাস লিখছে। ইউরোপের দলগুলোতেও কালোদের জয়জয়কার। অথচ এই জায়গায় পৌঁছানোর পথ সহজ ছিল না। একসময় ইউরোপের বহু ক্লাব ও জাতীয় দলে কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারের জায়গা ছিল না। গ্যালারি থেকে বানরের ডাক শোনা যেত, মাঠে ছুড়ে দেওয়া হতো কলা, সংবাদপত্রে লেখা হতো বর্ণবাদী মন্তব্য। অনেক ক্লাব প্রকাশ্যেই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় দলে নিতে অনীহা দেখাত।
তবু প্রতিভার রং হয় না। এই সত্যটি পৃথিবীকে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ফুটবলের কিংবদন্তিরা। পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ব্রাজিলের অমর নক্ষত্র পেলে কেবল অসাধারণ ফুটবলই খেলেননি; তারা ভেঙেছেন বর্ণগত শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারও। বিশেষ করে পেলের তিনটি বিশ্বকাপ জয় ছিল শুধু ব্রাজিলের বিজয় নয়; ছিল কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাসেরও এক ঐতিহাসিক উত্থান।

এরপরও পথ পুরোপুরি মসৃণ হয়নি। তবু একের পর এক প্রজন্ম অপমানকে শক্তিতে, বৈষম্যকে প্রেরণায় এবং বঞ্চনাকে জয়ের ক্ষুধায় রূপান্তর করেছে। ওই কারণেই ফুটবল আজ আর শুধু একটি খেলা নয়; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও এক শক্তিশালী প্রতীক। যে মানুষটির জন্য একসময় অপমান বরাদ্দ ছিল, আজ ওই মানুষটির পায়ের জাদুতেই কোটি দর্শক আনন্দে উদ্বেলিত হয়। যে হাত একদিন শিকলে বন্দি ছিল, ওই হাতই আজ বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।
আফ্রিকার ফুটবলও একদিনে বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ সংগ্রাম, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের পথ পেরিয়ে আজ আফ্রিকার দেশগুলো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়েছে। একসময় যাদের দেখা হতো সম্ভাবনার চোখে, আজ তারাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার।
এই জাগরণের প্রতীক হয়ে আছেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স ও সেই বিখ্যাত কর্নার ফ্ল্যাগের নাচ বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, আফ্রিকান ফুটবলকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই। এরপর জর্জ উইয়া, দিদিয়ের দ্রগবা, স্যামুয়েল এতো, ইয়ায়া তুরে, সাদিও মানে, মোহাম্মদ সালাহ কিংবা ভিক্টর ওসিমেনদের মতো তারকারা প্রমাণ করেছেন, আফ্রিকা আর বিশ্ব ফুটবলের প্রান্তিক অঞ্চল নয়; বরং তার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

আজ বিশ্বকাপের মাঠে যখন কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের নৈপুণ্যে দর্শক মুগ্ধ হয়, তখন সেটি শুধু ফুটবলের সৌন্দর্য নয়; সেটি ইতিহাসেরও এক গভীর প্রতিশোধ। যে মানুষদের একদিন অমানুষ ভাবা হতো, তারাই আজ বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলাটির সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ। ফুটবলের ভাষায় এ যেন শুধু গোলের গল্প নয়, মানবমর্যাদা পুনরুদ্ধারেরও এক অনন্য মহাকাব্য।
এরপর এলেন ক্যামেরুনের স্যামুয়েল ইতো। বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের হয়ে ইউরোপের প্রায় সব বড় শিরোপা জিতে তিনি প্রমাণ করলেন, আফ্রিকান ফুটবলার মানেই শুধু গতি বা শক্তি নয়; নেতৃত্ব, ধারাবাহিকতা এবং বিজয়ী মানসিকতারও প্রতীক। আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা দেখিয়েছেন, একজন ফুটবলার শুধু মাঠেই নয়, সমাজেও পরিবর্তনের দূত হতে পারেন। জে-জে ওকোচা, নওয়াঙ্কো কানু, মাইকেল এসিয়েন কিংবা ইয়ায়া তুরের মতো তারকারা প্রমাণ করেছেন, আফ্রিকা আর শুধু প্রতিভার ভাণ্ডার নয়; বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিকেন্দ্র।
নতুন শতাব্দীতে ওই ধারাকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন সাদিও মানে, মোহাম্মদ সালাহ, ভিক্টর ওসিমেন, আশরাফ হাকিমি ও মোহাম্মদ কুদুসদের মতো তারকারা। তারা শুধু ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলছেন না; অনেক ক্লাবের কৌশল, নেতৃত্ব এবং সাফল্যেরও প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছেন। ফলে আফ্রিকান ফুটবল আর শুধু ‘প্রতিভা রপ্তানিকারক’ মহাদেশ নয়; এটি এখন বিশ্ব ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই পরিবর্তন কেবল স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিভার ফল নয়। আধুনিক আফ্রিকান ফুটবলের ভিত দাঁড়িয়ে আছে পরিকল্পিত একাডেমি, ক্রীড়াবিজ্ঞান, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কোচিং কাঠামোর ওপর। তাই আফ্রিকার সাফল্য কোনো আকস্মিক বিস্ময় নয়; এটি বহু বছরের পরিকল্পিত পরিশ্রমের ফল।
একসময় ইউরোপীয় ফুটবল ছিল প্রায় সম্পূর্ণ শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়নির্ভর। আজ সেই ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর মেরুদণ্ড গড়ে তুলছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা। এটি কেবল ফুটবলের পরিবর্তন নয়; ইতিহাস, অভিবাসন, সামাজিক সংগ্রাম এবং সুযোগের মিলিত ফল।
এই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে আছে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স। সেই দলকে বলা হতো ‘ব্ল্যাক, ব্ল্যাঙ্ক, ব্যুর’; কালো, শ্বেতাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত মানুষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নতুন ফ্রান্স। ফুটবল যেন সেদিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়েও শক্তিশালী ভাষায় বলে দিয়েছিল, আধুনিক জাতীয় পরিচয় রক্তের বিশুদ্ধতায় নয়, নাগরিক অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে। দুই দশক পর ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দল ওই বাস্তবতাকেই আরও সুসংহত করে। আজও কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, ওরেলিয়ান চুয়ামেনি, উইলিয়াম সালিবা, জুলস কুন্দে, মাইকেল ওলিসে, কিংবা ইব্রাহিমা কোনাতে ছাড়া ফ্রান্সকে কল্পনা করাই কঠিন।

একই চিত্র ইংল্যান্ডে। বুকায়ো সাকা, জুড বেলিংহাম, মার্কাস রাশফোর্ড, এবারেচি এজে, কাইল ওয়াকার কিংবা কোবি মাইনুর মতো ফুটবলাররা শুধু ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নন; তারা বহুসাংস্কৃতিক ব্রিটেনেরও প্রতীক। জার্মানির আন্তোনিও রুডিগার, জামাল মুসিয়ালা ও করিম আদেয়েমি, স্পেনের আনসু ফাতি, আলেহান্দ্রো বাল্দে, ল্যামিন ইয়ামাল, নেদারল্যান্ডসের ভার্জিল ফন ডাইক, জেরেমি ফ্রিম্পং, ডেনজেল ডামফ্রিস ও শাভি সিমন্স, বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু, জেরেমি ডোকু ও লুইস ওপেন্দা কিংবা কানাডার অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস একই বাস্তবতার প্রতিনিধি। তাদের সাফল্য প্রমাণ করে, ফুটবল প্রতিভার পাসপোর্ট দেখে না; দেখে সামর্থ্য, শ্রম ও মানসিক দৃঢ়তা।
এই পরিবর্তনের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে অভিবাসনের ইতিহাসে। আফ্রিকার বহু পরিবার উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিল। বৈষম্য ও সংগ্রামের মধ্যেও তাদের সন্তানদের কাছে ফুটবল হয়ে উঠেছিল আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার ভাষা। ওই স্বপ্নই ইউরোপীয় ফুটবলের চরিত্র বদলে দিয়েছে। একসময় যাদের প্রান্তিক মনে করা হতো, আজ ইউরোপের বহু জাতীয় দলই তাদের ছাড়া নিজেদের পূর্ণ শক্তিতে কল্পনা করতে পারে না। ইতিহাসের এক গভীর মানবিক বিদ্রূপ যেন এখানেই।
তবে আফ্রিকার জাগরণ শুধু ইউরোপীয় দলের জার্সিতে সীমাবদ্ধ নয়। মহাদেশটির নিজস্ব দলগুলোও এখন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করছে। ক্যামেরুন, সেনেগাল, মরক্কো, মিশর, আলজেরিয়া কিংবা ঘানার মতো দেশগুলো দেখিয়ে দিয়েছে, শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বিশ্বের যে কোনো শক্তির সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা যায়। সীমিত সম্পদের দেশ কেপ ভার্দেও প্রমাণ করেছে, ফুটবলে জনসংখ্যা বা ভূখণ্ডের আকার নয়; স্বপ্নের পরিধিই বড় কথা।

তবে ইতিহাসের পথ কখনোই একমুখী নয়। সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে বৈষম্যও পাশাপাশি হাঁটে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা আজ অপরিহার্য হলেও বর্ণবাদ পুরোপুরি অতীত হয়ে যায়নি। স্পেনের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আজও বর্ণবাদী বিদ্রূপের শিকার হতে হয়। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে বানরের ডাক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার ভাষা। ইউরো ২০২০-এর ফাইনালে পেনাল্টি মিস করার পর বুকায়ো সাকা, মার্কাস রাশফোর্ড ও জ্যাডন সানচোকে যে ঘৃণা সহ্য করতে হয়েছিল, সেটিও কেবল কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকের আচরণ ছিল না; ছিল বহু পুরোনো এক সামাজিক অসুস্থতার নতুন প্রকাশ। অর্থাৎ ট্রফি জেতা হয়তো সহজ হয়েছে, কিন্তু মানুষের চেতনা থেকে বর্ণবাদকে মুছে ফেলা এখনও অনেক কঠিন।
তবু আশার জায়গাটিও এখানেই। কারণ ইতিহাস বলে, ঘৃণার চেয়ে প্রতিভা বেশি স্থায়ী, বিদ্বেষের চেয়ে যোগ্যতা বেশি শক্তিশালী। যে স্টেডিয়ামে একদিন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে কলা ছুড়ে দেওয়া হতো, আজ ওই স্টেডিয়ামই তাদের গোল উদযাপনে দাঁড়িয়ে করতালি দেয়। যে ক্লাবগুলো একসময় কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলার দলে নিতে দ্বিধা করত, আজ তারাই তাদের দলে ভেড়াতে প্রতিযোগিতা করে। ইতিহাসের এমন বিদ্রূপের চেয়ে বড় বিচার আর কী হতে পারে?
এই বিশ্বকাপ তাই শুধু গোল, জয় কিংবা ট্রফির গল্প নয়। এটি সভ্যতার দীর্ঘ যাত্রাপথেরও একটি প্রতীক। একসময় যাদের পূর্বপুরুষদের শিকলে বেঁধে সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য করা হয়েছিল, আজ ওই মানুষদের উত্তরসূরিরাই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটির কেন্দ্রবিন্দু। কোটি কোটি শিশু আজ তাদের মতো হতে চায়, তাদের জার্সি পরে, তাদের গোল উদযাপন করে।
তাই কেউ যদি রূপক অর্থে আজকের বিশ্ব ফুটবলকে ‘কালোদের বিশ্বকাপ’ বলেন, তবে সেটি বর্ণবাদের বিপরীত কোনো বর্ণবাদ নয়। সেটি কোনো রঙের বিজয়ও নয়। সেটি আসলে ইতিহাসের এক গভীর নৈতিক সংশোধন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যাদের কণ্ঠস্বর চাপা রাখা হয়েছিল, আজ তাদের উত্তরসূরিরাই বল পায়ে পৃথিবীকে নতুন ভাষা শিখিয়ে দিচ্ছে।
ইতিহাস মানুষকে শিকল পরাতে পারে, কিন্তু তার স্বপ্নকে নয়। ইতিহাস মানুষকে দাস বানাতে পারে, কিন্তু তার প্রতিভাকে নয়। আর যখন সেই প্রতিভা একদিন সবুজ মাঠে স্বাধীনভাবে দৌড়াতে শেখে, তখন সেটি শুধু একটি গোল সৃষ্টি করে না; সৃষ্টি করে মানবমর্যাদার এক নতুন ইতিহাস।
চিররঞ্জন সরকার লেখক ও কলামনিস্ট। ই-মেইল: [email protected]