Published : 08 Jul 2026, 09:14 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখা শেষে কথা কাটাকাটি থেকে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন সংগঠনটির এক কর্মী।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।
আহত আশরাফুল ইসলাম পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ চলাকালে পর্দার সামনে দিয়ে হাঁটা-হাঁটিকে কেন্দ্র করে শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল-আইপি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিস এবং ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
তবে খেলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় দুজন মুখোমুখি হলে আবারও বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় নাফিসের বন্ধু ও ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাওসারসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এতে আশরাফুল ইসলাম মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উভয় পক্ষকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলে সেখানে আবারও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও হাতাহাতির চেষ্টা হয়। কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর বিষয়টির মীমাংসা করা হয়।
আহত আশরাফুল ইসলাম বলেন, “খেলা চলাকালে নাফিস বারবার পর্দার সামনে চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে তারেকের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। খেলা দেখে প্রধান ফটকের দিকে গিয়ে দেখি ছাত্রদলের কাফিকে আমাদের ছাত্রদলের বন্ধু তারেক ও হাসিব কিছু বুঝাচ্ছিলেন।
“কিন্তু তিনি (কাফি) সম্ভবত মদ্যপান অবস্থায় ছিলেন। আমি সেখানে গিয়ে বুঝাতে চাইলে, তিনি আমাকে বলেন আপনি কে? এক পর্যায়ে তিনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং কিল-ঘুষি মারেন। পরে ধাক্কা দিলে পড়ে গিয়ে আমার মাথা ফেটে যায়।”
এ বিষয়ে জানতে ছাত্রদল নেতা কাফি কাওসারকে একাধিকবার মোবাইল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “একসঙ্গে চলতে গেলে এধরনের ছোটোখাটো ঝামেলা হতে পারে। প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান বলেন, “বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মদ্যপানের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজন হলে ডোপ টেস্ট করা হবে।”
আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।