Published : 08 Jul 2026, 10:09 PM
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তের বছর আগে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে ‘হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে করার মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে; খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন এখন যাচাই-বাছাই চলছে।
প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলছেন, অবকাশকালীন ছুটিতে থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল খুললেই ওই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
তিনি বলেন, “আগামী ২১ জুলাই থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচার কাজ আবার চলবে। ট্রাইব্যুনাল খোলার সঙ্গে সঙ্গে এই মামলার রিপোর্ট দাখিল সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করব।”
আলোচিত এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও অভিযোগ দাখিলের বিষয়ে বুধবার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, কয়েকটি বাহিনীর প্রধানসহ কয়েক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলছেন প্রধান কৌঁসুলি।
শাহবাগের আন্দোলনের বিপরীতে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে হেফাজতে ইসলাম। সেদিন সেই সমাবেশ ঘিরে পুরো মতিঝিল এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা আর তাণ্ডব চলে। পরে সেই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মতিঝিল থেকে সরানো হয়।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। গত ৩ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ওই ঘটনায় ৩২ জনের প্রাণহানির তথ্য দেয়।
এ মামলায় আসামির তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদসহ আরও অনেকের নাম উঠে এসেছে।
গত ৪ মে মামলাটিতে শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮ থেকে ৩০ জন আসামি হতে পারেন বলে তথ্য দেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।
মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম ও আবদুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
গত ৫ এপ্রিল তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৪ মে এই মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রূপাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের নাম রয়েছে।
আরো পড়ুন-
শাপলা চত্বরে '৩২ প্রাণহানির' তথ্য পেয়েছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা