Published : 07 Jul 2026, 09:37 PM
কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে হেবা বা দান হিসেবে সম্পত্তি বা জমি পেলে তার দলিল নিবন্ধনের সময় উৎসে কর দিতে হবে?
আগামী অর্থবছরের অর্থ আইনে জমির দলিলের সময় কর দেওয়ার বিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার মানে আসলে কী?
পরিবারের মূল সদস্যদের মধ্যে দানের মাধ্যমে জমি হস্তান্তর হলে সেখানে কর প্রযোজ্য হবে?
এসব নিয়ে মাঠ পর্যায়ে যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করতে মঙ্গলবার আইনের একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
সেখানে বলা হয়েছে, সম্পত্তির হেবা (দান) দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে উৎসে কর নয়, শুধু দানকর দিলেই হবে।
এনবিআর বলছে, আয়কর আইন এবং উৎসে কর বিধিমালা অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে।
তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এর মধ্যে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর ই-চালানের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তাই সংগ্রহ করবেন।
এর ব্যাখ্যায় এনবিআর বলেছে, এই বিধান শুধুমাত্র হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।
হেবা বা দানের ক্ষেত্রে দানকারীকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর পরিশোধ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে না।
অর্থাৎ কোনো সম্পত্তি যদি দানের মাধ্যমে হস্তান্তর হয়, সেক্ষেত্রে কেবল দানকর দিলেই হবে।
অন্যদিকে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর প্রযোজ্য নয়। এ ধরনের নিবন্ধনের সময় কেবল নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহ করা হবে বলে স্পষ্ট করেছে এনবিআর।
পরিবারের মূল সদস্য, যেমন পিতামাতা তাদের ছেলেমেয়েদের আগের মতই সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন। সেখানে কোনো উৎসে কর বা দানকর কিছুই লাগবে না।
স্বামী-স্ত্রীও আগের মতই পরস্পরকে কোনো কর ছাড়াই হেবা করতে পারবেন।
একই মায়ের পেটের ভাই বোনের মধ্যে সম্পত্তি হেবা করলেও কোনো কর লাগবে না।
এসব সম্পর্কের বাইরে হেবা বা দান দলিল করলে তখনও উৎস কর দিতে হবে না, কেবল প্রযোজ্য হারে দান কর দিতে হবে।
নতুন বিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে অনেকের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে হেবা বা দান দলিলের ক্ষেত্রে দানকর দিতেই হবে।
পাশাপাশি ন্যূনতম ২ শতাংশ বা প্রতি শতাংশে ৫০০ টাকা হারে উৎসে করও দিতে হবে বলে অনেকে ধারণা করছিলেন; ওই হার সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর নিবন্ধনের আগেই পৃথক ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।