১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে অর্থ আদায়: গ্রেপ্তার ৫

ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jul 2026, 03:40 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

রাজধানীতে একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী এক কর্মকর্তাকে 'হানিট্র্যাপে’ ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

সোমবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিএমপির ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

তারা হলেন-মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯),  শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও উর্মী বেগম(৩৯)।

এই মামলা তদন্তে নেমে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে 'হানিট্র্যাপ' চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ১ টি ওয়াকিটকি ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলের পদ্ধতি

একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল ঋণসংক্রান্ত কাজে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে যান। সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং ভুক্তভোগীর ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন।

পরবর্তী কয়েকদিন মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারী ভুক্তভোগীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

"একপর্যায়ে তিনি বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর অপর এক নারী ভুক্তভোগীকে রিসিভ করে রিকশা করে বিভিন্ন গলির মধ্য দিয়ে ডিএমপির খিলগাঁও থানাধীন একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।"

ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

পরে ঋণ বিতরণকারী ওই কর্মকর্তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয তারা। 

“এক পর্যায়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব, বিকাশের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আদায়ও করেন তারা। একই সাথে ধারণকরা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকলে, ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।"

প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় একই কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।