১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বোর্ডিং পাস নিয়েও মালয়েশিয়ার ফ্লাইটে উঠলেন না ৬১ যাত্রী!

“একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 02:56 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মালয়েশিয়াগামী একটি ফ্লাইটের ৬১ জন যাত্রী বিমানবন্দরে গিয়ে এয়ারলাইন্সের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করেও উড়োজাহাজে ওঠেননি। 

বিমান বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই ফ্লাইটের ১০ জন যাত্রীকে উড়োজাহাজে ওঠার পর আটকে দেয় ইমিগ্রেশন বিভাগ; এরপর আরও পাঁচ যাত্রীকে বিমানবন্দরের বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরও ৬১ জন যাত্রী আর বোর্ডিং গেটেই আসেননি। 

শনিবার রাতে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। বিমানের ওই ফ্লাইটটি ৭৬ জন যাত্রী ছাড়াই ঢাকা ছেড়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়াগামী বিমানের ওই ফ্লাইটে ২৮৮ জন যাত্রী টিকেট কেটেছিলেন। তাদের মধ্যে দশজন যাত্রীকে অফলোড করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। আরও পাঁচ জন যাত্রীকে বোর্ডিং গেটে আটকে দেওয়া হয়েছে।

“এরপর আরো ৬১ জন যাত্রী যারা বোর্ডিং পাস নিয়েছিলেন, কিন্তু বোর্ডিংয়ের জন্য আর গেটেই আসেননি। শেষ পর্যন্ত ২১২ জন যাত্রী নিয়ে সাড়ে ৮টার দিকে ছেড়ে যায় ফ্লাইটটি।”

বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের ধারণা, কোনো চক্রের যোগসাজশে এই ৭৬ জন যাত্রী মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। যারা ধরা পড়েছেন, তাদের সবাই কাজ করতে যাচ্ছিলেন।

সাধারণত বিমানবন্দরে যাওয়ার পর একজন যাত্রী এয়ারলাইন্সের কাউন্টারের প্রথমে ব্যাগেজ চেক ইন দিয়ে বোর্ডিং পাস গ্রহণ করেন। এরপরে যাত্রীরা ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গিয়ে পাসপোর্টে সিল নিয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন।

যাত্রীর পাসপোর্ট ও ভিসা ঠিক আছে কি না তা যাচাইয়ের সক্ষমতা ও দায় ইমিগ্রেশন বিভাগের। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর যাত্রীরা বোর্ডিং গেটে যান উড়োজাহাজে ওঠার জন্য।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের দায়িত্ব সামলান পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তারা।

ইমিগ্রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ অভিবাসন এবং প্রবাসে নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে কিছু যাত্রীকে অফলোড করা হয়। এগুলোর নানা কারণ থাকে। 

“বিশেষ করে মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক যাত্রীর যথাযথ ভিসা থাকার পরেও সে দেশটিতে যাওয়ার পর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আবার ফেরত পাঠায়; যার কারণে এসব বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়।”

শনিবারের ঘটনায় যে যাত্রীদের অফলোড করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের বিশেষ শাখার এ কর্মকর্তা বলেন, “আমার কাছে তাদের জাল ভিসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়—একজন যাত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যাচ্ছেন, কিন্তু তার আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে বিদেশে ভ্রমণের বিষয়টি মেলে না। বা আরো কতগুলো বিষয় মিলিয়ে সন্দেহের কারণ থাকে। 

“এসব যাত্রীদের অনেককেই মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়; যার কারণে আমরা আগেই তাদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিই। শনিবারের যাত্রীদের কোন কোন গ্রাউন্ডে অফলোড করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা তখনকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।”