মার্চ-পাস্টে বাংলাদেশ দল, দেশের পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতে খেলোয়াড় হুমায়রা আক্তার অন্তরা। ছবি: রয়টার্স
Published : 19 Sep 2026, 09:03 PM
কিছু ইভেন্টের খেলা শুরু হয়েছে আগেই। খরচ কমাতে হোটেল, কাঠের তৈরি অস্থায়ী ঘর ও প্রমোদতরীতে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা, দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচের সময় উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মতো বিড়ম্বনা-বিতর্কও শুরু হয়েছে। এমন অনেক সমস্যার মাঝে শনিবার নাগোয়াতে হলো এশিয়ান গেমসের উদ্বোধন। জাকালো অনুষ্ঠানে এশিয়ার সংস্কৃতি যেমন তুলে ধরা হলো, পাশাপাশি দেওয়া হলো বিভক্ত পৃথিবীতে ঐক্যের ডাক।
কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে টোকিও অলিম্পিকস দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পাঁচ বছর পর জাপান দর্শকদের স্বাগত জানাল পালোমা মিজুহো অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুরুতে কিছুটা ম্লান মনে হলেও, পরবর্তীতে তা রঙ ও সুরের এক উৎসবমুখর আয়োজনে রূপ নেয়।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান কারস্টি কোভেন্ট্রির পাশে বসে ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের প্যারেড বা কুচকাওয়াজ দেখার পর সম্রাট নারুহিতো গেমসের ২০তম আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার প্রেসিডেন্ট শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি তার ভাষণে দেন ঐক্যের ডাক।
“বিশ্ব যখন প্রায়শই সংঘাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, তখন তাঁরা (এশিয়ান গেমসের খেলোয়াড়রা) আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা আজও এক শক্তিশালী শক্তি হিসেবে কাজ করে।”
হ্যামার থ্রো ইভেন্টে এশিয়ান গেমসের সাবেক চ্যাম্পিয়ন জাপানের বাবা-ছেলে শিগেনোবু মুরোফুশি ও কোজি মুরোফুশি যৌথভাবে মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।
এবারের আসরে ৪৩টি খেলার ইভেন্টে ৩৬৯টি স্বর্ণপদকের জন্য লড়তে আসা ১১ হাজারেরও বেশি খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ দলও বড় বহর নিয়ে নোঙর ফেলেছে জাপানে। খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা মিলিয়ে সংখ্যাটা ২৭৪ জন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চ-পাস্টের আগে একটি হৃদয়-আকৃতির মঞ্চে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নৃত্যের পরিবেশনা ছিল। মার্চ-পাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতে খেলোয়াড় হুমায়রা আক্তার অন্তরা।
নাগোয়ার শিল্প-উৎপাদন ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিশেষ পোশাক (বয়লার স্যুট) পরিহিত নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা এবং আতশবাজির প্রদর্শনী দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল "হারমোনিক হার্ট বিট" (সমন্বিত হৃদস্পন্দন)। যার লক্ষ্য ছিল এশীয় সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, বিশেষ করে এমন একটি আয়োজনে যা প্রায়শই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ঐতিহাসিক বৈরিতার কারণে বিভক্ত থাকে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত একটি সোনা ও পাঁচটি রুপা ও আটটি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ১৪টি পদক জিতেছে। একমাত্র সোনার পদক ২০১০ সালের আসরে, ক্রিকেট থেকে।
১৪ পদকের মধ্যে ১৩টিই দলীয় বিভাগে পাওয়া। এর মধ্যে ক্রিকেট থেকে এসেছে ছয়টি ও কাবাডি থেকে সাতটি। একক ইভেন্ট থেকে একমাত্র পদক বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন; ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসের বক্সিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন তিনি। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম পদকও।
এবারের বহর বড়সড় হলেও স্বপ্নটা খুব একটা বড় নয় ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল সেমি-ফাইনালে ওঠায় দলগত পদক পাওয়ার সম্ভাবনা জোরাল হয়েছে। কাবাডি থেকেও পদক পাওয়ার আশা আছে বাংলাদেশের। এর বাইরে বক্সিং, আর্চারি, শুটিংয়ের মতো ইভেন্টে নির্দিষ্ট দিনের সেরা পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।