Published : 06 Jul 2026, 05:09 PM
কারা ও রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি আসার দুই ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হলো খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীকে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ছিল।
গুলশান-২ আবাসিক এলাকায় ২৭ কাঠা সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করা এই মামলার আসামিদের মধ্যে সালাম মুর্শেদী কারাগারে আছেন।
সোবমার সকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিচারক আব্দুস সালামের আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতকে জানানো হয়, সালাম মুর্শেদী অসুস্থ। তাকে এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করেনি।
ওই মামলার আসামি মাহবুবুল হকের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম বলেন, অসুস্থতার কথা শুনে "বিচারক বলেন, জেল সুপার প্রত্যয়ন দেয়ার কে? তিনি কি চিকিৎসক? তিনি কীভাবে বুঝলেন, তার হেলথ কন্ডিশনের কথা। এক ঘণ্টা সময় দিলাম। আসামিকে হাজির করবেন। তা না হলে আমি প্রসিকিউশন ও কারাকর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।"
তিনি বলেন,"পরে আদালত থেকে কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগযোগ করা হয়। জানানো হয় আদালতের সিদ্ধান্তের কথা। আদালতের সিদ্ধান্ত জানানোর পর দুই ঘণ্টার মধ্যে সালাম মুর্শেদীকে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।”
পরে বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামি ১৯ অগাস্ট রাখেন সাক্ষ্য গ্রহণের দিন।
বিচার শুরু হওয়া অন্য আসামিরা হলেন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেম ও প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট), অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম নুরুল হক, সাবেক পরিচালক আবদুর রহমান ভূঁঞা, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মো. আজহারুল ইসলাম ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, সাবেক শাখা সহকারী মো. মাহবুবুল হক এবং কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান ও তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার, ইফফাত হক ও তার স্বামী মোহাম্মদ আব্দুল মঈন।
গত ২০ মে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়। আদেশের জন্য রাখা হয় জুলাই। আজ আদালত আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দিল।
সালাম মুর্শেদীর দখলে থাকা গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাড়িটি ‘পরিত্যক্ত সম্পত্তি’ দাবি করে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করেছিলেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর সেই আবেদনে দুদক, রাজউক ও গণপূর্ত বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সেখানে বিবাদী করা হয়।
এরপর রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।
তখন এ মামলা থেকে সালাম মুর্শেদীকে বাদ দেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৩১ ডিসেম্বর তাকে অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত গেজেটে ‘খ’ তালিকাভুক্ত গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর-২৯, রোড নম্বর-১০৪ প্লটটি পরিত্যক্ত ২৭ কাঠা সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। কিন্তু আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে সে তালিকা থেকে প্লট অবমুক্তকরণ না করেই ‘জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা রেকর্ডপত্র’ তৈরি করেন। যা পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদন করার মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করে।
চব্বিশের আন্দোলনে সরকার পতনের পর ১ অক্টোবর সালাম মুর্শেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
আরো পড়ুন
বাড়ি 'আত্মসাৎ': সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু