Published : 06 Jul 2026, 05:13 PM
অফ স্টাম্পের বাইরের গতিময় ডেলিভারিটি ব্যাটে বাতাস লাগিয়ে গেল যেন। উইকেটের পেছন থেকে মৃদু আবেদন হলো। বোলার নাহিদ রানা আবেদন করতে গিয়েও থেমে গেল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল হাসি। একটুর জন্য হলো না ৭ উইকেট! তবে যা হলো, তাতেই তিনি চুরমার করে দিলেন রেকর্ড।
জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্টে বিশ্রামে ছিলেন নাহিদ। স্বস্তিতে ছিল ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই তার গতির আগুনে পুড়ে খাক প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা বোলিং কীর্তি এখন তার।
হারারেতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সোমবার নাহিদের বোলিং ফিগার ১০-২-২১-৬। পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি মাশরাফি বিন মুর্তজা ও রুবেল হোসেনের যৌথ রেকর্ড।
ওয়ানডেতে ৬ উইকেট শিকারি বাংলাদেশের প্রথম বোলার ছিলেন মাশরাফি। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬ রানে নিয়েছিলেন তিনি ৬ উইকেট। ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে ২৬ রানেই ৬ উইকেট নেন রুবেল। দুই পূর্বসূরীকে এবার ছাড়িয়ে গেলেন নাহিদ।
মাশরাফির সেই বোলিং পারফরম্যান্স ছিল নাইরোবিতে। দেশের বাইরে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডও তাই এখন নাহিদেরই।
মাত্র ১৪ ওয়ানডের ক্যারিয়ারেই ৩ ম্যাচে ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন নাহিদ। সবকটিই এই বছর। তার চেয়ে দ্রুততায় বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নিতে পেরেছেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান (৯ ইনিংসে)।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে নাহিদ যখন বোলিংয়ে আসেন, ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে জিম্বাবুয়ে। তিনি আরও চেপে ধরেন ব্যাটসম্যানদের। প্রথম ২ ওভারে রান দেন ৫। তার তৃতীয় ওভারে রান বের করার চেষ্টায় জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হন সিকান্দার রাজা।
এরপর তার গতি ও বাউন্সে স্লিপে ধরা পড়েন ওয়েসলি মাধেভেরে। গতির কারণেই শরীর থেকে দূরে খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন ক্লাইভ মাডান্ডে।
পরের ওভারে দারুণ ডেলিভারিতে তিনি বিদায় করেন থিতু হয়ে যাওয়া ইনোসেন্ট কাইয়াকে (২৬), টেস্টে যিনি করেছিলেন সেঞ্চুরি। ওই ওভারেই ব্র্যাড ইভান্সকে এলবিডব্লিউ করে পূর্ণ করেন ৫ উইকেট।
তার প্রথম স্পেল ছিল ৭-২-১৫-৫!
৭০ রানে ৮ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের হয়ে লেজের দিকে প্রতিরোধ গড়েন নিউম্যান নিয়ামুরি ও অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভা। নবম উইকেটে ৬৩ রান যোগ করেন তারা। নাহিদ দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে দ্বিতীয় ওভারে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে বোল্ড করে দেন এনগারাভাকে।
পরের ওভারে অল্পের জন্য উইকেট না পাওয়ায় বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৭ উইকেট পাওয়া হয়নি।
এই বছর ৯ ওয়ানডেতে ২৬ উইকেট নিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বেই সবার ওপরে নাহিদ। তিন সংস্করণ মিলিয়েও ১৩ ম্যাচ ৩৮ উইকেট নিয়ে শীর্ষে তিনিই।
নাহিদের ৬ উইকেটের সঙ্গে নতুন বলে তাসকিন আহমেদের দুই উইকেটে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হয়েছে ১৪১ রানে।