Published : 05 Jul 2026, 01:25 PM
তুমুল সমালোচনার পর অবশেষে ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ সময়ের সমাপ্তি। পাকিস্তানের টেস্ট নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো শান মাসুদকে। যার কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন, সেই বাবর আজমকেই আবার ফেরানো হলো নেতৃত্বে।
সবশেষ সিরিজে বাংলাদেশ সফরে গত মে মাসে পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর এই পরিবর্তন এলো। এই মাসের শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়ে শুরু হবে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বাবরের দ্বিতীয় অধ্যায়।
মাসুদের বিদায় দিয়ে পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসের চরম এক ব্যর্থ পথচলার সমাপ্তি হলো। প্রায় তিন বছর আগে অধিনায়ক করা হয়েছিল বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। তার অধিনায়কত্বে ১৬ টেস্টের ১২টিই হেরেছে পাকিস্তান।
টেস্ট ইতিহাসের কোনো অধিনায়কই তার প্রথম ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতে হারেননি।
পাকিস্তানের হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ বললেন, একের পর এক পরাজয়ের পাশাপাশি আরও কিছু কারণে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
“(শানের অধিনায়কত্বে) অনেক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের টেস্ট ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করা হচ্ছিল না। যেমন সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে, দক্ষিণ আফ্রিকার ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামা দুই ব্যাটসম্যান ৬০-৭০ রানের জুটি গড়েছিলেন (৫১)। খেলাটা আমাদের হাতেই ছিল। মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দল সহজেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল। খেলা শেষ করার দায়িত্ব অধিনায়কের। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।”
“কিছু দায়িত্ব দলের, কিছু নির্বাচকদের এবং কিছু অধিনায়কের। অধিনায়কের দায়িত্বের মধ্যে আরও রয়েছে দলের ওভার-রেট ঠিক রাখা, ডিআরএস-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং টসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।”
অধিনায়ক হিসেবে মাসুদের শুরুটা ছিল অস্ট্রেলিয়া সফর দিয়ে, পাকিস্তানের জন্য যা সবসময়ই কঠিন। সিরিজটি হারা হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে। পরের সিরিজে ঘরের মাঠেও হারা হোয়াইটওয়াশড হয় বাংলাদেশের কাছে, আগে কখনও যাদের কাছে একটি টেস্টও হারের অভিজ্ঞতা তাদের ছিল না।
সেই প্রবল চাপের মধ্যে স্বস্তি হয়ে আসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। পিছিয়ে পড়েও টার্নিং উইকেট বানিয়ে সিরিজ জয় করে পাকিস্তান। সেটিই প্রথম ও শেষ!
এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ও দেশের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ড্র করে পাকিস্তান। গত মে মাসে বাংলাদেশ থেকে হেরে ফিরে যায় ২-০ ব্যবধানে।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিনয়নশিপের গত চক্রে পাকিস্তান ছিল সবার তলানিতে।
নেতৃত্ব হারালেও আপাতত দলে জায়গা ধরে রেখেছেন মাসুদ। তার ব্যক্তিগত ফর্মেরই প্রতিফলনই পড়েছে সেখানে। অধিনায়ক হিসেবে তার ব্যাটিং গড় ৩৪.০৬, অধিনায়ক হওয়ার আগে ছিল ২৮.৫১।
আকিব বললেন, অধিনায়ক আর ব্যাটসম্যান মাসুদকে তারা আলাদা করে বিবেচনা করেছেন।
“শানের নিজের সময়ে তার পারফরম্যান্স ভালো ছিল, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তিনি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পারেননি। আমরা এমন একজন অধিনায়ক খুঁজছিলাম, যিনি এসে দলকে আরও ভালোভাবে নেতৃত্ব দেবেন।”
সেখানেই আবার বাবরের দুয়ারে কড়া নাড়তে হয়েছে তাদের। অধিনায়ক হিসেবে খুব একটা বিকল্প যে নেই পাকিস্তানের, সেটাও স্পষ্ট হয়েছে এতে।
২০২৩ সালে শেষবার অধিনায়ক থাকার পর থেকে বাবর সব সংস্করণেই ফর্ম নিয়ে ভুগেছেন। সবচেয়ে বাজে অবস্থা টেস্ট ক্রিকেটে, যেখানে মাসুদের নেতৃত্বে তার গড় মাত্র ২৭.২৬। ১৩ টেস্ট খেলে করতে পারেননি কোনো সেঞ্চুরি। তবু তাকেই বেছে নিল পাকিস্তান।
আগের দফায় নেতৃত্বে থাকার সময়টায় অবশ্য তুলনামূলক সুখকরই ছিল বাবরের। তার অধিনায়কত্বে ২০টি টেস্টের ১০টিতে জিতেছিল পাকিস্তান। ওই সময়েই ব্যাট হাতে তার ফর্মও ছিল প্রায় তার সেরা।
অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে তার গড় ৫০.৭৯, অধিনায়কত্ব ছাড়া বাকি টেস্টগুলোয় গড় ৩৮.৭৮।
টেস্ট ক্রিকেটে সামনের সময়টা পাকিস্তানের ব্যস্ততা তুমুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পরপরই ইংল্যান্ডে আছে তিন ম্যাচের সিরিজ। ছয় বছর পর ইংল্যান্ডে খেলবেন তারা। এর পরপরই ঘরের মাঠে ব্যস্ত মৌসুম শুরু হবে, যেখানে নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পাকিস্তানের দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু ২৫ জুলাই। এই সফরের ১৬ সদস্যের দলে নতুন মুখ জায়গা পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার আলি উসমান, ব্যাটসম্যান মুহাম্মাদ আওয়াইস জাফার এবং পেসার উবেইদ শাহ। উবেইদের বড় ভাই নাসিম শাহর জায়গা হয়নি দলে। বাদ পড়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, নোমান আলি ও হাসান আলি। দলে ফিরেছেন আমির জামাল ও মোহাম্মাদ আলি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর ইংল্যান্ডে তিন ম্যাচের সিরিজটি শুরু ১৯ অগাস্ট।
পাকিস্তান স্কোয়াড:
বাবর আজম (অধিনায়ক), আমির জামাল, আবদুল্লাহ ফাজাল, আলি উসমান, আজান আওয়াইস, ইমাম-উল-হাক, খুররাম শাহজাদ, মোহাম্মাদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলি, মোহাম্মাদ রিজওয়ান, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি, সাজিদ খান, সালমান আলি আগা, শান মাসুদ, উবেইদ শাহ।
* ফিটনেস সাপেক্ষে ইংল্যান্ড সফরে সাউদ শাকিলকে যুক্ত করা হবে।