Published : 04 Jul 2026, 08:26 PM
টসের একটু আগে গোল হয়ে দাঁড়ালেন ভারতীয় দলের সবাই। সেখানে কিছুটা আলোচনার পর ক্যাপ তুলে দেওয়া পর্ব। ভারতীয় ক্রিকেট এবং বিশ্ব ক্রিকেটের একটি অপেক্ষার অবসান সেখানেই। বৈভাব সুরিয়াভানশির হাতে ক্যাপ তুলে দিলেন তিলাক ভার্মা। রচিত হলো ইতিহাস।
ভারতের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এখন সুরিয়াভানশি। ভেঙে দিলেন তিনি সাচিন টেন্ডুলকারের প্রায় ৩৭ বছর পুরোনো রেকর্ড।
গত কয়েক দিন ধরেই সুরিয়াভানশির সম্ভাব্য অভিষেক নিয়ে চলছিল তোলপাড়। আয়ারল্যান্ডে দুটি টি-টোয়েন্টিতে তাকে খেলানো হয়নি, ইংল্যান্ডে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও ছিলেন একাদশের বাইরে। তাকে খেলানো ও না খেলানোর বিতর্কে ভারতীয় ক্রিকেটে চলছিল ঝড়, বিশ্ব ক্রিকেটেও মতামত জানাচ্ছিলেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে রাখা হলো একাদশে। গত তিন ম্যাচে এক রান করা সাঞ্জু স্যামসন হারালেন জায়গা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শনিবার ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে মাঠে নামেন সুরিয়াভানশি।
১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচি টেস্টে মাঠে নামার সময় টেন্ডুলকারের বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন।
এছাড়াও ভারতের হয়ে ১৭ বছর ৭৫ দিন বয়সে খেলেছেন সাবেক লেগ স্পিনার পিয়ুস চাওলা। তার পূর্বসূরী আরেক লেগ স্পিনার লক্ষ্নণ শিবারামাকৃষ্ণান খেলেছেন ১৭ বছর ১৮৮ দিন বয়সে, সাবেক কিপার পার্থিব প্যাটেল ১৭ বছর ১৫২ দিন বয়সে।

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির মধ্যে সুরিভানশির চেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছেন কেবল একজন। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফায়সালাবাদ টেস্টে খেলতে নেমেছিলেন তিনি ১৪ বছর ২২৭ দিন বয়সে। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার অবশ্য দীর্ঘ হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রায় ১৪ হাজার রান করা ব্যাটসম্যান টেস্ট খেলতে পেরেছেন কেবল ৭টি, ওয়ানডে ১৬টি।
পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বাইরে সব মিলিয়ে হাসান রাজার চেয়েও কম বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নেমেছেন আরও তিনজন। ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মারিয়ান ঘেরাসিম। ২০২০ সালে রোমানিয়ার এই পেসার বুলগেরিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন ১৪ বছর ১৬ দিন বয়সে।
সার্বিয়ার বিপক্ষে ১৪ বছর ২০৭ দিন বয়সে খেলেছেন গ্রীসের আলকিনুস মানাতোস। মালদ্বীপের বিপক্ষে ১৪ বছর ২১১ দিন বয়সে খেলেছেন কুয়েতের মিত ভাবসার।
রেকর্ড গড়ে মাঠে নামার উপলক্ষ অবশ্য ব্যাট হাতে রাঙাতে পারেননি সুরিভানশি। আভাস যদিও দিচ্ছিলেন। সিঙ্গল নিয়ে প্রথম রানের দেখা পান তৃতীয় বলে। চতুর্থ বলটিতে হাঁটু গেড়ে ব্যাট ঘুরিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন তার আইপিএল সতীর্থ জফ্রা আর্চারকে। সপ্তম বলে আরেকটি ছক্কা মারেন জশ টাংকে।
তবে বিদায় নেন দ্রুতই। পঞ্চম ওভারে উইল জ্যাকসের অফ স্পিনে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন ১০ বলে ১৪ রান করে।