Published : 05 Jul 2026, 05:30 AM
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি আছে ১১টি, গত এপ্রিলে আনঅফিসিয়াল টেস্টে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের হয়ে সেঞ্চুরি করেন নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে- সোনাল দিনুশার সামনে এবার ছিল প্রথম টেস্ট শতকের হাতছানি। অল্পের জন্য তা না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হলো বাঁহাতি এই স্পিনিং অলরাউন্ডারকে।
দিনুশা সেঞ্চুরি না পেলেও, শ্রীলঙ্কা একটি প্রথমের স্বাদ পেয়েছে- ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথমবার পাঁচশ রানের সংগ্রহ।
কুসাল মেন্ডিস ও দিনুশার দারুণ জুটিতে অ্যান্টিগায় দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও দারুণ কাটে শ্রীলঙ্কার। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে সফরকারীরা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৯ উইকেটে ৫৪৯ রানে। দিন শেষে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৮। এখনও ৪৯১ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা।
ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে সাতে নেমে প্রথম ফিফটিতে ১৬৬ বলে ৯২ রান করেন দিনুশা। ১২ চারে গড়া তার ইনিংসটি। আট চার ও তিন ছক্কায় ১১৫ বলে ৬৯ রান করেন মেন্ডিস।
লাহিরু উদারার ১৮৮ ও কামিন্দু মেন্ডিসের ৮৪ রানের সুবাদে প্রথম দিন ৫ উইকেটে ৩৩৮ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। দিনুশা ৫ ও কুসাল মেন্ডিস শূন্য রান নিয়ে শনিবারের খেলা শুরু করেন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন দুজন।
প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে জুটি ভাঙার একটি সুযোগ এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে। কিন্তু শামার জোসেফের বলে স্লিপে মেন্ডিসের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন জন ক্যাম্পবেল। তখন ২৩ রানে খেলছিলেন মেন্ডিস।
পরের ঘন্টায় দেখেশুনে খেলে প্রথম সেশন নিরাপদে কাটিয়ে দেন দুই ব্যাটসম্যান। এই সেশনে ২৫ ওভারে ৬৪ রান তুলে দলের স্কোর চারশ পার করেন তারা।
লাঞ্চের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা যায়। প্রতিটি আলগা ডেলিভারিকেই কাজে লাগান শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটসম্যান।
শামারকে চার মেরে দিনুশা ফিফটি পূর্ণ করেন ১১২ বলে। আলজারি জোসেফকে ছক্কায় উড়িয়ে ৯৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন মেন্ডিস। একটু পর তিনি আরেকটি ছক্কা মারেন রস্টন চেইসকে।
অ্যান্ডারসন ফিলিপকে স্কুপ শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন মেন্ডিস। থামে ১৪৩ রানের জুটি।
মিলান রাথ্নায়াকার সঙ্গে জুটি বেঁধে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দিনুশা। প্রথমবার আক্রমণে আসা কাভেম হজের বাঁহাতি স্পিনে পরপর দুটি চার মেরে তিনি পৌঁছে যান নব্বইয়ের ঘরে। কিন্তু পরের বলে আউট হয়ে যান দুর্ভাগ্যজনকভাবে। লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ যায় কাভার ফিল্ডারের হাতে।
পার্ট-টাইমারকে আক্রমণে আনার কৌশল দ্রুতই কাজে লেগে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
পরে লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় সাড়ে পাঁচশর দুয়ারে গিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে দেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে শ্রীলঙ্কার আগের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৪৭৬, ২০২১ সালে অ্যান্টিগাতেই দ্বিতীয় ইনিংসে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সাত জন হাত ঘুরিয়ে উইকেটের দেখা পান প্রত্যেকে। সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন জেডেন সিলস ও শামার জোসেফ।
জবাবে প্রথম আট ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। পরের ওভারে আসিথা ফার্নান্দোর অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন কিং (২৬ বলে ১৭)।
হজকে (৪১ বলে ৬*) নিয়ে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন ক্যাম্পবেল (৭৭ বলে ৩১*)। শ্রীলঙ্কার বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১৫ ওভার খেলে ২৫ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন আছেন তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ১৩৯.৩ ওভারে ৫৪৯/৯ (ডি.) (আগের দিন ৩৩৮/৫) (কুসাল মেন্ডিস ৬৯, দিনুশা ৯২, রাথ্নায়াকা ১৫, জায়াসুরিয়া ১৭*, ইসিথা ১৪*; সিলস ২৫.৩-৫-৯৮-২, শামার জোসেফ ২৩-৪-৯৮-২, আলজারি জোসেফ ২১-৪-৯৮-১, ফিলিপ ১৯-০-৭২-১, গ্রেভস ১৮-২-৪৩-১, চেইস ২৯-৩-৯৯-১, হজ ৪-০-২৬-১)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪ ওভারে ৫৮/১ (ক্যাম্পবেল ৩১*, কিং ১৭, হজ ৬*; আসিথা ৭-২-১১-১, ইসিথা ৭-০-২৬-০, রাথ্নায়াকা ৫-২-১২-০, জায়াসুরিয়া ৫-২-৫-০)