Published : 05 Jul 2026, 03:31 PM
জাসপ্রিত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট, প্যাট কামিন্সরা এই স্বাদ ভালো করেই জানেন। বৈভাব সুরিয়াভানশি প্রথম বল করেই ছক্কা হজম করেছেন তারা। জফ্রা আর্চার বাকি ছিলেন। আইপিএলে তিনি তো সুরিয়াভানশির সতীর্থ! এবার তারও সেই তেতো অভিজ্ঞতা হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দিনটিতে ভারতের কিশোর প্রতিভা জফ্রা আর্চারের প্রথম ডেলিভারিই পাঠিয়ে দিলেন গ্যালারিতে!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দিয়ে শনিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন সুরিয়াভানশি। ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে মাঠে নেমে ভারতের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার এখন তিনি।
অভিষেক ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আর্চারের প্রথম ওভারে স্ট্রাইক পাননি সুরিয়াভানশি। পরের ওভারে জশ টাংয়ের প্রথম দুই ডেলিভারি ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তিনি। তৃতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম রানের মুখ দেখেন।
পরের ওভারে সামনে পান আইপিএল সতীর্থ আর্চারকে। প্রথম বলেই মেরে দেন ছক্কা।
পরে টাংকেও একটি ছক্কা মারেন তিনি। তবে অভিষেক দারুণ কিছু করতে পারেননি সময়ের আলোচিত তারকা। উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্পড হয়ে গেছেন ১০ বলে ১৪ রান করে।
বড় কিছু করতে না পারলেও ছাপ রেখেছেন তিনি আর্চারকে প্রথম বলে ছক্কায়। গত দুটি আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে এটি তিনি দেখিয়েছে বারবার।
পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখা যাক, তার ব্যাটে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে আর কোন কোন বোলারের।
শার্দুলকে শাসন
প্রভাতের সূর্যেই ছিল ভবিষ্যতের আাস। আইপিএলে প্রথম ম্যাচেই প্রথম বলে ছক্কায় শুরু করেন সুরিয়াভানশি। ২০২৫ আইপিএলে ম্যাচটি ছিল লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে জয়পুরে। ১৪ বছর বয়সে সেটি তার আইপিএল অভিষেক আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি।
শার্দুল ঠাকুরের প্রথম বল খেলতে গিয়েই ভয়ডরহীনভাবে জায়গা বানিয়ে নেন সুরিয়াভানশি। এরপর লেংথ বলটিতে দারুণ টাইমিং ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে।
আভেশকে আক্রমণ
শার্দুলের পরের ওভারেই সুরিয়াভানশির ব্যাটের ধার টের পান আভেশ খান। অফ স্টাম্পের দিকে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ক্রিজের একটু গভীরে গিয়ে পেশির জোরে ব্যাট চালিয়ে দেন সুরিয়াভানশি। বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা!
সু্ন্দারকে সুন্দর শট
গত আইপিএলেই ম্যাচটি ছিল জয়পুরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে। এবার আর পেসার নয়, ছক্কার শিকার স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দার।
বলটি ছক্কা মারার মতোই ছিল। নার্ভাস হয়েই হোক বা অন্য কারণে, বেশ শর্ট বল করেন ওয়াশিংটন। ভিত মজবুত রেখে সজোরে পুল করেন সুরিয়াভানশি। বল চলে যায় গ্যালারিতে।
সেদিন প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি করে তোলপাড় ফেলে দেন ১৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
জেনে গেলেন জানাতও
ওই একই ম্যাচে সুরিয়াভানশিকে জেনে যান কারিম জানাতো। লেগ স্টাম্পে ফুল লেংথ বল করেন আফগান অলরাউন্ডার। সুরিয়াভানশি স্রেফ ফ্লিক করে দেন। কিন্তু টাইমিং আর জোর এতটাই যে, বল উড়ে যায় গ্যালারিতে।
বুমরাহকে অনায়াস ছক্কা
আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল গুয়াহাটিতে। বৃষ্টিতে ১১ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে দিপাক চাহারের প্রথম ওভারেই চারটি চার ও এক ছক্কায় ২২ রান নেন ইয়াসাসভি জয়সওয়াল।
পরের ওভারে আসেন জাসপ্রিত বুমরাহ। লেগ-মিড থাকা হালকা ভেতরেও ঢুকছিল। তবে বল ছিল স্লটে। বলের নিচে গিয়ে লফটেড শট খেলেন সুরিয়াভানশি। স্রেফ একটু তুলে মারেন যেন। গুলির বেগে লং অনের ওপর দিয়ে সীমানা পেরিয়ে যায় বল।
ওই ওভারেই পুল করে আরেকটি ছক্কা মারেন সুরিয়াভানশি। সেই শট দেখে বুমরাহও মাথা নিচু করে হাসতে হাসতে বোলিং মার্কে ফিরে যান।
বোল্টকে ছক্কা
বুমরাহকে ছক্কার পরের ওভারেই সুরিয়াভানমি একই স্বাদ দেন ট্রেন্ট বোল্টকে।
ওই ওভারে প্রথম দুই বলেই ছক্কায় শুরু করেন জয়সওয়াল। বোল্ট তাই এমনিতেই নড়বড়ে ছিলেন। চতুর্থ বলে স্ট্রাইক পান সুরিয়াভানশি। শর্ট অব লেংথ বলটি লেগ স্টাম্পের দিকে যাচ্ছিল। অ্যাঙ্গল কাজে লাগিয়ে চাবুকের মতো ব্যাট চালিয়ে দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ভিডিও গেমের ব্যাটিং যেন। ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে বিশাল ছক্কা!
আর্চারকে সুইপ-পুল
একটু পেছনে দিকে সরে জায়গা বানানোর চেষ্টা করছিলেন সুরিয়াভানমি। তাকে অনুসরণ করেই শরীর তাক ডেলিভারি করেন আর্চার। ১৪১ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে হাটুঁ গেড়ে ব্যাট চালিয়ে দেন সুরিয়াানশি। ওই শটের নাম খুঁজে পাওয়া কঠিন। পুল আর সুইপের মাঝামাঝি কিছু বলা যায়। ফাইন লেগ দিয়ে উড়ে বল চলে যায় গ্যালারিতে।
এবার কামিন্স
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল জয়পুরে। প্যাট কামিন্স শর্ট বল করেছিলেন অ্যাঙ্গল থেকে। সুরিয়াভানশি বলের জন্য অপেক্ষা করে সময়মতো সপাটে পুল করে দেন। ফিল্ডার একজন ছিল ডিপ মিড উইকেট সীমানায়। কিন্তু তার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি তাকিয়ে দেখলেন, বল চলে গেল তার অনেক ওপর দিয়ে।
রেহাই নেই এনগিডির
প্রথম বলে সুরিয়াভানশির ছক্কা তখন আর বিস্ময়কর নয়, বরং প্রত্যাশিতই। সেই অভিজ্ঞতা হয় লুঙ্গি এনগিডিরও।
দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল দিল্লিতে। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে খুব ভালো পজিশনে না গিয়েই ব্যাট ঘুরান সুরিয়াভানশি। টাইমিং এবার খুব ভালো হয়নি। ডিপ স্কয়ার লেগ সীমানার ফিল্ডার ক্যাচের আশাও করেছিলেন। তবে লাফিয়ে বলের নাগাল পাননি তিনি। শট নিখুঁত না হলেও ছক্কা ঠিকই হয়ে যায়।
আকাশকে যখন আকাশে
লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে এই ম্যাচ ছিল জয়পুরে। আকাশ সিং বোলিংয়ে আসার আগে কিছুক্ষণ স্ট্রাইক পাননি সুরিয়াভানশি। হাত নিশ্চয়ই নিশপিশ করছিল তার। আকাশ বোলিংংয়ে এসে ডেলিভারি করলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বুক তাক করে। তিনি যথারীতি পুল করলেন। স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা।
সাকিবকে ছক্কা
এবারের আইপিএলে দারুণ বোলিং করা সাকি হুসাইন তখনও আসরে ছক্কা হজম করেননি একটিও। কিন্তু সুরিয়াভানশির সামনে পড়লে কী আর রক্ষা মেলে!
এই ম্যাচও ছিল জয়পুরে। ব্যাংক অব লেংথ ডেলিভারিতে শরীর সোজা করে দারুণ টাইমিংয়ে ছক্কা মারেন মিড উইকেট আর লং অনের মাঝামাঝি দিয়ে।
ওই শটে ফিফটিতে পা রাখেন সুরিয়াভানশি, যেটি ছিল মৌসুমে তার তৃতীয় ১৫ বলের ছক্কা।