Published : 05 Jul 2026, 05:13 PM
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে লিসান্দ্রো মার্তিনেস আছেন দারুণ ছন্দে। সবশেষ ম্যাচে কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে তো তার পায়ে এসেছে একটি করে অ্যাসিস্ট ও গোল। দলের জয়ের নায়কই ছিলেন। এমন দারুণ ম্যাচের পর চোট নিয়ে নিজের অতীত স্মৃতি মনে করে বললেন, ফুটবল থেকেই অবসর নিতে চেয়েছিলেন।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেন মার্তিনেস। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে এসিএলের চোটে পড়েন তিনি। একাধিকবার চোটের সঙ্গে লড়াই করা মার্তিনেসকে ঘিরে ধরে হতাশা। তাতে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত মোটামুটি নিয়ে ফেলেন তিনি।
“গত বছর এসিএল চোটে পড়ার পরই ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম।
“কোনোভাবেই আর ভুগতে চাচ্ছিলাম না। কারণ, ইতোমধ্যে আমি কয়েকবার অন্য পায়ের চোটে ভুগেছি। যখন আমার পঞ্চম মেটাটার্সল ভাঙে, সত্যি বলতে এই চোটটা ছিল সবচেয়ে খারাপগুলোর একটা।”
তবে, মেয়ে অরোরার জন্মের পর বদলে যায় মার্তিনেসের ভাবনা। ফুটবলকে বিদায় না জানিয়ে বরং, পরিবারের জন্য খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
“সত্যিই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। এরপরেই মেয়ের জন্ম হলো এবং এক নিমেষে সবকিছু যেন স্বাভাবিক হয়ে গেল। আমি দেখলাম, আমার স্ত্রী কিভাবে আমাদের সন্তানকে জন্ম দিয়েছে এবং কী পরিমাণ কষ্ট করছে।
“নিজেকে নিজে বলেছি, কেন আমি লড়াই করা ছেড়ে দেব? কিন্তু চোটের কারণে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে, সেসব ভাবলে কান্না পায়। আমার মেয়ে ও স্ত্রী দৃষ্টিভঙ্গিটাই পরিবর্তন করে দিয়েছে।”
চোটে থাকাকালীন সময়ে মেয়ের জন্য সিদ্ধান্ত বদলে না ফেললে বিশ্বকাপে খেলা হতো না, বলেন মার্তিনেস।
“চোটের মুহূর্তটা যখন ভাবি, আমার কান্না পায়। ঠিক জানি না, এখন আমি কোথায় আছি। চোটে থাকাকালীন যদি আমার মেয়ের জন্ম না হতো, জানি না আজকে খেলতাম কি-না। আর আজকে আমি বিশ্বকাপে একটা গোল করলাম!
সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারায় ক্লাব ও জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল বিভাগকে ধন্যবাদ জানান মার্তিনেস।
“যে সব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে, তা আসলেই কঠিন ছিল। ক্লাব ও জাতীয় দলকে ধন্যবাদ। আজকে আমি খুশি। চিকিৎসক ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের আমি কৃতজ্ঞ।”
চোটে কঠিন সময় পেরিয়ে আসা ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার এখন অনুপ্রেরণা খোঁজেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির কাছ থেকে।
“আমাদের অধিনায়ক মেসিকে উদাহরণ হিসেবে দেখি। তিনি জার্সির জন্য লড়াই করেন। যখন চোটে ছিলাম, তখন তার কথা আমি প্রতিনিয়ত ভাবতাম, যেন লড়াই করা ছেড়ে না দেই।
“আজকে লিওর বয়স ৩৯ বছর। তিনি সবকিছু জিতেছেন এবং নতুন করে প্রমাণের কিছু নেই। তবুও লড়াই করছেন। শুধু ফুটবল নয়, ক্রীড়া ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এটা ভাবাই অবিশ্বাস্য। তার মতো সেরা খেলোয়াড় যদি এভাবে আবেগ নিয়ে লড়াই করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? আমাদের তাকে এভাবেই অনুসরণ করা উচিত।”
এই ডিফেন্ডারের স্ত্রী মুরি লোপেস বেনিতেস বেশ আগে জানিয়েছিলেন তাদের মেয়ের জন্ম কীভাবে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। এই বছরের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সেসব কথা বলেন তিনি।