আত্মীয়কে যৌন নিপীড়ন: ৩ শর্তে এস্তে মেডিকেলের এমডির জামিন
তদন্তে সহযোগিতা, জামিনের অপব্যবহার না করা এবং বিদেশ যেতে পারবেন না শর্তে আসামিকে জামিন দিয়েছে আদালত।
আত্মীয়কে যৌন নিপীড়নের মামলায় কারাগারে যাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় তিন শর্তে জামিন পেলেন এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রোববার পাঁচ লাখ টাকা মুচলেকায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত তাকে জামিন দেন বলে তথ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার।
শুনানিকালে ফয়সালকে আদালতে হাজির করা হয়। যে তিন শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- তদন্তে সহযোগিতা, জামিনের অপব্যবহার না করা এবং বিদেশ যেতে পারবেন না।
গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় ফয়সালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান ফয়সাল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৩০ জুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।
তার পক্ষে ঢাকার বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ কয়েকজন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
আদেশের পর আদালত কক্ষের সামনেই তুমুল হট্টগোলে জড়ান দুই পক্ষের আইনজীবীরা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফয়সাল গত বছরের ২১ জুন ভুক্তভোগীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যান। এ সময় তিনি নিজে ধূমপানের সময় তার ওই আত্মীয়কেও ধূমপান করানোর চেষ্টা করেন।
এরপর ২৪ জুন দুপুরে ফয়সাল আবার তার সেই আত্মীয়কে গুলশানের কনকর্ড সিলভি হাইটসে এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের কার্যালয়ে দুপুরের খাবার খেতে ডাকেন। সেখানে ফের মেয়েটিকে ধূমপান করতে জোড়াজুড়ি করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, ওই রাতেই গাড়ি চালানো শেখানোর নাম করে মেয়েটিকে ‘যৌন নিপীড়ন’ করেন আসামি। পরে অসুস্থতার কথা বললে মেয়েটিকে বাসায় পৌঁছে দেন ফয়সাল।
মামলায় বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী শুরুতে কিছু বলেননি। পরে গত ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বড় বোনের বিয়ের দিন ফয়সাল সেই বাসায় যান। সেখানে তাকে দেখে ভুক্তভোগী মেয়েটি চিৎকার ও গালিগালাজ করলে পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে।
আরও পড়ুন-
