Published : 30 Jun 2026, 06:25 PM
এক নিকট আত্মীয়কে যৌন নিপীড়নের মামলায় এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সালকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার এ আদেশ দেন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনায়েদ।
আসামিকে কারাগারে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার।
এদিকে আদেশের পর আদালত কক্ষের সামনে তুমুল হট্টগোলে জড়ান দুই পক্ষের আইনজীবী।
গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান ফয়সাল। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।
তার পক্ষে ঢাকার বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ কয়েকজন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হয়ে দুইপক্ষ তুমুল হট্টগোলে জড়ান।
পুলিশের এক এসআই বলেন, আসামির সঙ্গে তার কয়েকজন দেহরক্ষীও আদালতে আসে।
“তাদের বিশ্বাস ছিল, জামিন পেয়ে যাবে। জামিন নামঞ্জুরের পর বাদীপক্ষের এক আইনজীবীর গায়ে হাত তোলেন আসামির সাথে আসা একজন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আসামিকে কারাগারে নিয়ে যায়।”
এদিকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকরা আসামির ছবি তুলতে যান। সেখানেও বাধা হয়ে দাঁড়ান ফয়সালের সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাদীর তিন মেয়ের মধ্যে দুজন পড়াশোনার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য তার স্ত্রী মাঝে-মধ্যে বিদেশে যান। ছোট মেয়ে তাদের সঙ্গে থেকে একটি কোচিং সেন্টারে লেখাপড়া করেন।
আসামি গত বছরের ২১ জুন ভুক্তভোগীকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। ঘোরার একপর্যায়ে ফয়সাল ধূমপান করার সময় কৌশলে তার সেই নিকট আত্মীয়কে ধূমপান করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তার কথায় ভুক্তভোগী ধূমপান করেন না।
এরপর ২৪ জুন দুপুরে আসামি তার আত্মীয়কে গুলশানের কনকর্ড সিলভি হাইটসে এস্তে মেডিকেল বাংলাদেশের কার্যালয়ে দুপুরের খাবার খেতে ডাকেন। সেখানে ফের আত্মীয়কে ধূমপান করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন আসামি।
ওই রাতে গাড়িতে করে ভুক্তভোগীকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হন আসামি। পরে গাড়ি চালানো শেখানোর নাম করে যৌন নিপীড়ন করেন আসামি। তখন ভুক্তভোগী অসুস্থতার ভান করে বাসায় যাওয়ার কথা বললে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগী শুরুতে কিছু বলেননি। গত ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বড় বোনের বিয়ের দিন আসামি ফয়সাল বাসায় এলে ভুক্তভোগীতাকে দেখে চিৎকার করে ওঠেন এবং গালিগালাজ করেন। তখন বাদীসহ পরিবারের লোকজন ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন।