Published : 07 Jul 2026, 10:25 PM
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের বিদেশি রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (অঅইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে সোমবার দিনশেষে এই অর্থ থাকার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর গ্রস বা মোট হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।
রোববার দিনশেষে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস ছিল ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সোমবার আকুর মে ও জুনের ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সমন্বয়ের পর যে রিজার্ভ আছে, তা দিয়েও সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।
গত কয়েক মাস ধরেই রিজার্ভ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক এবং ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বাজেট সহায়তা ঋণের ১০০ কোটি ডলার যোগ হওয়ায় গত ১৪ জুন বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩১ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারে।
এর পর ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংকের বাজেট সহায়তা ঋণের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার যোগ হওয়ায় বিপিএম-৬ হিসাবে ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ওই দিন রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।
রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় গত ২ জুলাই বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩৩ দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলারে ওঠে। গ্রস হিসাবে ওই দিন রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয় তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।
সোমবার দেশের নিট রিজার্ভের তথ্যও প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আকুর বিল শোধের পর নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।
একটি দেশের মোট রিজার্ভ থেকে সব ধরনের স্বল্পকালীন ও সম্ভাব্য দায়দেনা বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত ও ব্যবহারযোগ্য যে পরিমাণ রিজার্ভ অবশিষ্ট থাকে—সেটিকেই বলা হয় নিট রিজার্ভ।
রিজার্ভের প্রধান দুই উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স।