১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আইসিবির ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণে সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ল

তারল্য সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারে আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের নভেম্বরে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2026, 08:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নেওয়া ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে দেওয়া সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবিকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঋণের একটি অংশ এখনো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে।

“এখন টাকা দিলে তো শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে, আইসিবির নিজের সক্ষমতা নাই টাকা পরিশোধ করার।”

এ কারণে সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আবু আহমেদ বলেন, "গত মে মাসে গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন সরকার আগামী তিন বছরের জন্য গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়িয়েছে।"

তিনি জানান, ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা সুদের দায় ও বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধে ব্যয় করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হয়, যা এখনো লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।

তারল্য সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজারে আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়।

ঋণের বিপরীতে সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব নেয়। এর অর্থ, কোনো কারণে আইসিবি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরকারের গ্যারান্টি কার্যকর হবে।

প্রাথমিকভাবে সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ ঋণ বিতরণের তারিখ থেকে ১৮ মাস নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই গ্যারান্টিপত্রে বলা হয়, আইসিবি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে যে মুনাফা দেয়, সেখান থেকে অপরিশোধিত ঋণ বা তার সুদ সমন্বয় করা যাবে না।

আইসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উচ্চ সুদের আমানতের দায় পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হবে।

ঋণের সুদহার শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন নীতি সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে আইসিবির আবেদনের পর তা কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়।