Published : 08 Jul 2026, 10:55 PM
তারল্য সংকট কাটানো ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ অনুমোদনের এই সিদ্ধান্ত বুধবার আইসিবিকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ ঋণের সুদহার ধরা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সুদহার অনুযায়ী।
মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে সময়ে সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান নীতি সুদহার ১০ শতাংশ।
ঋণের এ অর্থের ‘সার্বভৌম গ্যারান্টার’ হয়েছে সরকার। ফলে কোনো কারণে আইসিবি ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারলে সরকারকে তা পরিশোধ করতে হবে।
সরকার যে এ ঋণের গ্যারান্টার, তা আইসিবির অনুরোধে গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করে অর্থমন্ত্রণালয়।
তবে সুদহার অনেক বেশি হয়েছে মন্তব্য করে আইসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ চিঠি পেয়েছি। কিন্তু নীতি সুদহার ধরে ঋণের সুদহার ঠিক করেছে। এটি তো ১০ শতাংশ হবে এখন। সামনে আরো বাড়লে আমরা তো সমস্যায় পড়ব।
“ব্যাংক রেটে দিলে তো সুদহার কম হবে। আমরা অর্থমন্ত্রণালয়ে দ্রুত যোগাযোগ করে সুদহার কমানো ও শর্ত শিথিলের জন্য বলব।”
বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষ তহবিল পরিচালনা করলে তার সুদহার ব্যাংক রেটে ধরা হয়।
বর্তমানে ব্যাংক রেট হচ্ছে ৪ শতাংশ। গত কয়েক মাসে নীতি সুদহার, রেপো, বিশেষ রেপো ও রিভার্স রেপো সুদহার বাড়লেও ব্যাংক রেট একই জায়গায় আছে।
আইসিবিকে দেওয়া সরকারের গ্যারান্টির মেয়াদ হবে ঋণ দেওয়ার তারিখ থেকে ১৮ মাস। গ্যারান্টিপত্রে বলা হয়, আইসিবি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে যে মুনাফা দেয়, সেখান থেকে অপরিশোধিত বা বকেয়া ঋণ বা ঋণের উপর ধার্য সুদ সমন্বয় করা যাবে না।
এর আগে আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “কিছু উচ্চ সুদের আমানত আছে আইসিবিতে। তাতে সুদ বাবদ বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। সেই উচ্চ সুদের আমানতের একটি অংশের ধারাবাহিকতা রাখবে না আইসিবি। অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করবে।”
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে পুঁজিবাজারে লেনদেন ও সূচক বাড়ছিল। কিন্তু সেই ধারা ছিল কেবল দুই সপ্তাহ।
১৪ অগাস্টের পর বাজারে ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। এমনকি একদিনে সূচকের একশ পয়েন্ট হারানোর ঘটনাও বিনিয়োগকারীরা দেখেছেন।
পতনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটিও করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বাজারে তারল্য প্রবাহে সংকট রয়েছে ও আইসিবিও বিনিয়োগ করতে পারছে না এমন দাবি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণের রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ঋণ আবেদন পর্যালোচনা করতে গত বছরের ১৭ অক্টোবর অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিব ও বিএসইসি চেয়ারম্যানকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ঋণ দিতে সম্মত হয়েছিল সরকার।