Published : 08 Jul 2026, 11:27 PM
রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলার পর বাদীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুরে নগরীর শাহমখদুম আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের গৃহকর্ত্রী খাদিজা বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আগের বিরোধের জের ধরে তার স্বামী আবুল হাসান তাদের আত্মীয় এসআই হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর জেরে দুপুরে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাড়ির সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেন।
আতঙ্কিত হয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই হুমকি দেওয়া ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান।
খাদিজা বলেন, তাদের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত এসআই হারুন অর রশিদের বিরোধ রয়েছে, যিনি তাদের আত্মীয়। এর আগে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করার পাশাপাশি ডেকে নিয়ে মারধর করেছেন ওই এসআই।
এমনকি জোরপূর্বক তার ও তার স্বামীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে অভিযোগ তার।
এ ঘটনায় মামলা করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
মামলার বাদী আবুল হাসানের অভিযোগ, এসআই হারুন তাদের আত্মীয়। ২৮ এপ্রিল বিকালে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে কয়েকজনের সহায়তায় মারধর করা হয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে বাসা থেকে চেক বই আনতে বাধ্য করা হয়।
এরপর তার ও স্ত্রীর ব্যাংকের একাধিক ফাঁকা চেক এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আগামী ২৭ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
আবুল হাসান বলেন, “আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এসআই হারুন পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আমার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে এসআই হারুনের মোবাইলে ফোন করলে তিনি ধরেন। কিন্তু পরিচয় পেয়ে ও বিষয় শুনে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর ধরেননি।
এ বিষয়ে শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, “দুপুরে খবর পেয়ে টহল দল ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রাও কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি।”
লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।