Published : 09 Jul 2026, 12:17 AM
ইনকিলাব মঞ্চ পরিচালিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের, সহ-সভাপতি ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ ৬ জন।
বুধবার রাতে নিজেদের ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তারা।
পদত্যাগকারী বাকিরা হলেন, সেন্টারের সভাপতি সালাউদ্দিন শুভ, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আব্দুল্লাহ, অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রায়হান ও উপ-নির্বাহী পরিচালক হাবিবুল্লাহ মিসবাহ।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে সংগঠিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরীফ ওসমান বিন হাদি। সংগঠনটির সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। মূলত ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলন ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন বই প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। তবে এর প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান হাদি সংসদ নির্বাচনের আগে নিহত হওয়ার পর এর কার্যক্রমে বেশ কয়েকবার পরিবর্তন আসে।
সর্বশেষ সংগঠনটি থেকে চেয়ারম্যান, সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ ৬ জন পদত্যাগের ঘোষণা এল।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সেন্টারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্যরা ফেসবুকে লিখেছেন, হাদির পরিবারের দাবি প্রেক্ষিতে তারা ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সব দলিল হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জাবের তার পোস্টে লেখেন, “শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও শেষ করে যেতে পারেননি। যেহেতু এটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে জনতার আমানত হিসেবে পরিচিত ও পরিকল্পনাও এমনই ছিল, তাই আমরা বিগত ছয় মাস শাহাদাত পরবর্তী উত্থাপিত ওয়ারিশ সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করেছি। সমসাময়িক সময়ে আমরা নানাবিধ প্রোডাক্টিভ কাজের পরিকল্পনাও হাতে নেই, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন বিষয়গুলো আরো জটিল হয়ে পড়েছে।
“আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ভীষণ ভালোবাসা ও সম্মান আপনারা আমায় দিয়েছেন তার জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।
জাবের ইনকিলাব মঞ্চেরও সদস্য সচিব এবং হাদি হত্যা মামলার বাদী। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি, যা পরবর্তীতে (হাদির মৃত্যুর পর) হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
সভাপতি সালাউদ্দিন শুভ লেখেন, “মাত্র অল্প কিছুদিন আগে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম শহীদ ওসমান হাদির অসমাপ্ত কালচারাল লড়াই ও বিপ্লবটাকে কন্টিনিউ করার স্বপ্ন দেখে। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পরই চেষ্টা করেছি কালচারাল কাজের পরিধি বাড়ানোর জন্যে। কিন্তু নানাবিধ অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও প্রতিনিয়ত মানসিক চাপ দিনে দিনে এই লড়াইটাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলছে। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে শহীদ ওসমান হাদি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জনতার আমানত হিসেবে। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাই বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করেছি এই সমস্যা সমাধানের। কিন্তু বিষয়গুলো এতটাই স্পর্শকাতর যা আমার জন্যে সামনে এগিয়ে চলার পথ বাধাগ্রস্থ করছে।”
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাও তার পোস্টে ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর কালচারাল সেন্টার নিয়ে ওয়ারিশ সংক্রান্ত ঝামেলা সামনে আসার কথা লিখেছেন।