Published : 09 Jul 2026, 12:34 AM
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার ছয়জনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত দেশি বা আন্তর্জাতিক কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসাজশ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
তবে দলটির মূল নেতা শাহ আমানত সাবির ‘উগ্রবাদে জাড়িয়েছেন’ বলে তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা হয়েছে তদন্তকারীদের।
সাবির পুলিশকে বলেছেন, ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি পটকার উপকরণ দিয়ে বোমা বানানো ও বিস্ফোরণের চর্চা করছিলেন।
তার বোমা বিস্ফোরণের একটি ভিডিও এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
সংগঠন চালাতে তারা খুলনায় ইজিবাইক চালকের কাছ থেকে ছিনতাই করার কথাও বলেছেন পুলিশকে। আর তাদের প্রশিক্ষক হিসেবে ‘ম্যাক ইউরি’ নাম বা ছদ্মনামের একজনের কথা বলেছেন। এখন সেই ‘ম্যাক ইউরি’র বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।
গত রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ এলাকা থেকে উগ্রবাদী সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। এরা সবাই খুলনা ভিত্তিক ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস) নামে একটি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র ও শিক্ষক।
সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে (ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায়) তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তিনদিনের রিমান্ডে পেয়েছিল পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হলেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের কাজটি করছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ।
তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদে আমাদের মনে হয়েছে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের প্রধান ব্যাক্তি আমানত শাহ সাবির উগ্রবাদে জড়িয়েছেন। সঙ্গে তার সহযোগী হোসাইন তানিমের খুব যে বেশি যুক্ততা পাওয়া গেছে সেরকম নয়। আমরা বিষয়গুলো আরও খতিয়ে দেখতে তাদের আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।”
৫৪ ধারার প্রথম দফায় তিন দিন রিমান্ড শেষে বুধবার সাবির ও তানিমের আরও সাতদিন রিমান্ডে চান যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক। শুনানি নিয়ে আদালত দুজনকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। বাকি চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই চারজন হলেন– জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, আবিদুর রহমান ও বায়োজি। তাদের সঙ্গে উগ্রবাদের সম্পৃক্ততার তথ্য না পাওয়ার কথা বলেছেন সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা।

সেজন্য তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি জানিয়ে সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, “এরা মূলত ফেইসবুকে দেখে ওর (সাবিরের) কাছে মার্শাল আর্ট শিখতে আসছিল। এদের কোন সম্পৃক্ততা আমরা পাইনি। তানিমেরও তেমন কোন সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে না। তবুও কিছু বিষয় পরিষ্কার হওয়ার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।”
এদিকে ওই চারজনের একজন আতাউল্লাহ শাহ হচ্ছেন গাজীপুর মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব। উগ্রবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত মঙ্গলবারই এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে।
সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, “তদন্ত চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনো অগ্রগতি হলে যথাসময়ে বিস্তারিত জানান হবে।”
বোমা বিস্ফোরণ: কী ঘটেছিল সেখানে
মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের সামি ফেইসবুকে এক মিনিট চার সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন। ওই ভিডিওতে সাবির ও আরও কয়েকজনকে নির্জন একটি রাস্তায় বিস্ফোরণ ঘটাতে দেখা যায়।
বিস্ফোরণের পর তারা আল্লাহর নামে তাকবীর দেন। এসময় ব্যাকগাউন্ডে একটি নাশিদ (গান বা ইসলামী গান) বাজছিল, যেটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামি স্টেট বা আইএস এর গান বলে তারাই পুলিশকে জানিয়েছে।
ভিডিওতে বিস্ফোরণ শেষে তারা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর দেন। এসময় একটি দা দিয়ে কোপানোর ভঙ্গি করে সাবির বলতে থাকেন, “হে কুফররা তোমরা তৈরি থাকো। দ্রুতই আমরা তোমাদের ওপর বজ্রের মতো আঘাতের জন্য প্রস্তুতি…। ইউনূস তুই তৈরি থাক।”

ওই ভিডিও প্রকাশ করে সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের লেখেন, “মার্শাল আর্ট শেখানোর আড়ালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে কার্যক্রম পরিচালনা করা ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস) এর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরসহ ছয়জনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।
“বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে আটককৃত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ডিভাইস প্রাথমিকভাবে যাচাই করে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তা ভয়াবহ।”
শায়ের লেখেন, “সংযুক্ত ভিডিওতে এফসিএস এর প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সাবিরের নেতৃত্বে প্রত্যন্ত এলাকায় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) এর পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের অকাট্য প্রমাণ মিলেছে, এই টেস্টের ভিডিও দেশের বাইরেও পাঠানো হয়েছে বলে সাবির নিজেই জানিয়েছে।”
তবে জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত সিটিটিসির ওই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন, “সেখানে তারা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসভ ডিভাইস বা আইইডির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এমন তথ্য আমরা পাইনি। ওটা মূলত পটকার একটা উন্নত ভার্শন ছিল।
“তারা এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পরপর খুলনার ডুমুরিয়ার একটা জনবিরল সড়কে। মূলত পটকা হিসেবে ফোটানো ‘চকলেট বোমা’র উপকরণের সঙ্গে পেট্রোল ও আরেকটি রাসায়নিক মিশিয়ে তারা সেই বিস্ফোরণটি ঘটায়।”
তিনি বলেন, “সেই বিস্ফোরণে একটু আগুন জ্বললেও তেমন শব্দ হয়নি। তাই পরবর্তী সময়ে তারা ভিডিওটি এডিট করে সেটিতে বিস্ফোরণের ‘বুম’ শব্দ যুক্ত করে। তারা মূলত দেখাতে চাচ্ছিল তারা অনেক পারঙ্গম, তাদের অনেক ক্ষমতা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তারা কাকে এসব দেখাতে চাচ্ছিলেন?”
ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি হচ্ছে এক ধরণের বোমা যেখানে বিস্ফোরণের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে সাধারণত ব্যাটারি ব্যাবহার করা হয়। তবে সাবিরের ভিডিওতে বোমা বিস্ফোরণের জন্য সলতে বা এ ধরনের কোনো কিছুতে আগুন দিতে দেখা গেছে বলে জানাচ্ছে পুলিশ।
শেকড় কোথায়?
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলছেন, “এখন পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে তাদের যুক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আলোচিত বক্তা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর সঙ্গে সাবিরের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নানা বিষয়ে বিক্রমপুরী সাহেবের শলাপরামর্শ নেওয়ার কথা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন সাবির। আমরা বিষয়টি ক্রসচেক করছি।”
তাহলে কী উদ্দেশ্যে বোমা বিস্ফোরণ, মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ?
সিটিটিসির ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমাদেরকে তারা বলেছে, কোনো জঙ্গি সংগঠন নয়, তারা ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর কথা বিভিন্ন হাদিসে এসেছে। এখানে বলা হচ্ছে হিন্দুস্তান তথা ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে একটি যুদ্ধ হবে এবং সেখানে মুসলমানদের বিজয় হবে বলে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।
সিটিটিসি বলছে, ‘ম্যাক ইউরি’ নাম বা ছদ্মনামের এক ব্যাক্তি তাদের এসব মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দিয়েছে। পরে সাবির নিজে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ নামে মার্শাল আর্ট শেখানোর একটি একাডেমি খোলেন খুলনায়। ম্যাক ইউরির বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিক জুলকারনাইন তার পোস্টে লিখেছেন, “এছাড়াও যশোরে সারিয়া'র দোহাই দিয়ে অমুসলিম নাগরিকদের পরিচালিত স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির প্রমাণও পাওয়া যায়, সাবির ও তার সহযোগীরে দেশের বিভিন্নস্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তও ইতোমধ্যে উদঘাটিত হয়েছে।”
তবে সিটিটিসির কর্মকর্তা বলছেন, “এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দোকান ডাকাতির কোনো তথ্য তারা সাবিরের কাছ থেকে পাননি। ওই এলাকারই এক সনাতন ধর্মাবলম্বী অটো চালককে আটকে ছিনতাই করে কিছু টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে সাবির।
“ওই অটোচালককে তারা বিধর্মী ও হিন্দুত্ববাদী একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটায়। যাতে একই সঙ্গে তাদের সংগঠন চালানোর টাকাও পাওয়া যায়, আবার তাদের বিচারে এটা কোনো ‘জুলুম’ বা অপরাধের পর্যায়ে না পড়ে।”
মুক্তির দাবি, অতঃপর…
রোববার ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর অনলাইনে তাদের মুক্তির দাবিতে ধর্মীর কতোগুলো পেইজ ও আইডি থেকে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।
তবে তাদের মুক্তির দাবিতে সবচেয়ে বেমি উচ্চকণ্ঠ ছিলেন আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। মুক্তি চেয়ে আলোচিত বক্তা আসিফ আদনানও পোস্ট দেন।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতে জুলকারনাইন শায়েরের আইডি থেকে বোমা বিস্ফোরণের ভিডিওটি প্রকাশ করা হলে বিক্রমপুরী, আদনানসহ অনেকেই তাদের অবস্থান পাল্টে ফেলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আসিফ আদনান ফেইসবুকে লেখেন, “উক্ত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি জানান যে , পুলিশ রিপোর্টে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, বাস্তব ঘটনা তার সঙ্গে মিল নেই। পুলিশ রিপোর্টে বলা হয়, একটি মাঠ থেকে পালানোর সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে তিনি ঐ মাঠ থেকে আটক হওয়া দুই ব্যক্তির বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়।
“আমি এ বিষয়ক একটি পোস্ট শেয়ার দিই। কারণ বাংলাদেশে অতীতেও এমন বহু নজির রয়েছে, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের চর্চা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে উক্ত ব্যক্তির কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ ও সন্দেহের কথা জানতে পারি। তখন আমি পোস্টটি সরিয়ে নিই।”
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের অবস্থান পাল্টে বিরাট একটি পোস্ট দেন আতাউর রহমান বিক্রমপুরী। পোস্টের দ্বিতীয় প্যারায় তিনি লেখেন, “ভিডিওটি দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটি রিয়েল ভিডিও। এআই জেনারেটেড না। সুতরাং এ কথা স্পষ্ট যে, এফসিএস এর প্রধান শাহ আমানত সাবির বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের আলোকে মারাত্মক অপরাধ করেছেন।
“এখন প্রশাসন সাবির ও তার সহকারীদের বিস্ফোরক আইন ১৯০৮ এর এক বা একাধিক ধারার আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করবে—এটাই স্বাভাবিক। হয়তো সন্ত্রাস দমন আইনেও মামলা হতে পারে। তবে আমরা আশা করব, প্রশাসন যেন স্বচ্ছতার সাথে পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করে।”
ডানপন্থি আন্দোলনে যুক্তদের অনেকেই যারা সাবিরের মুক্তির দাবি করছিলেন, তার ‘বোমাবাজির’ ভিডিও প্রকাশের পর নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হওয়া সাবির গোয়েন্দা সংস্থার চর বা এজেন্ট কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।
আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর পোস্টের মন্তব্যে গ্রেপ্তার হওয়া সাবিরের শ্বশুর আতিয়ার রহমান লেখেন, “মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদের সাহায্য ও সহযোগিতা করা ঈমান ভঙ্গের অষ্টম কারণ।”
জবাবে পোস্টদাতা বিক্রমপুরী লিখেছেন, “আপনার মেয়ে জামাই সাবির মুসলিম, নাকি ‘র’ এর এজেন্ট—সেটা আগে পরিষ্কার করুন। আর আমি কি তার সাথে যোগাযোগ করেছিলাম? নাকি সে নিজে প্রতারণা করে নিজের কর্মকাণ্ড গোপন রেখে পরামর্শ নিয়েছে?”