Published : 08 Jul 2026, 10:02 PM
প্রথমবারের মতো পরমাণু বিদ্যুৎচালিত পেলোড বা শক্তি ব্যবস্থা বহনকারী এক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট স্পেসএক্স রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে ‘ইলন মাস্কের কোম্পানি’ স্পেসএক্স।
মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেইস থেকে স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের মাধ্যমে ‘ট্রান্সপোর্টার-১৭’ নামের মিশনটি সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়, যা বাণিজ্যিক মহাকাশ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক এক মাইলফলক বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
মায়ামিভিত্তিক কোম্পানি ‘সিটি ল্যাবস’-এর তৈরি ‘বিটাভোল্টাইক অরবিটাল হাই-রিলায়াবিলিটি’ বা বোর নামের স্যাটেলাইটটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, যেসব অভিযানে সোলার বা সৌরশক্তি বা ব্যাটারির মতো প্রচলিত বিভিন্ন শক্তি ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়, সেখানে বাণিজ্যিক অপারেটরদের জন্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের উপযোগিতা প্রমাণ করা।
এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ অভিযান ও চাঁদের দূরবর্তী অংশের মতো অঞ্চলে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম।
‘সিটি ল্যাবস’-এর প্রধান নির্বাহী পিটার কাবাউই বলেছেন, “বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। বোর স্যাটেলাইটটি প্রমাণ করেছে, নিরাপদ, ছোট আকারের ও অনুমোদনপ্রাপ্ত পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা এখন নিয়মিত বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
“এ প্রযুক্তি সূর্যালোক বা ব্যাটারির সীমাবদ্ধতা ছাড়াই একটানা ও সার্বক্ষণিক পেলোড অপারেশন পরিচালনা করতে পারবে।”
‘বোর’ কিউবস্যাটটি ট্রিটিয়ামের তেজস্ক্রিয় ক্ষয় থেকে নির্গত বিভিন্ন বিটা কণাকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে কাজ করে, যা বাণিজ্যিক মহাকাশ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
প্রযুক্তিটি এতদিন কেবল রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ও সামরিক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমিত ছিল।
এর আগে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিভিন্ন মিশনের মধ্যে রয়েছে নাসার ‘ভয়েজার ১’ ও ‘২ প্রোব’, যা ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাকাশ থেকে তথ্য পাঠাতে এবং সচল থাকতে এ পারমাণবিক শক্তির উৎসটিই ব্যবহার করে আসছে।
এ ছাড়া নাসার ‘কিউরিওসিটি’ ও ‘পার্সিভ্যারেন্স’-এর মতো মঙ্গল রোভারও পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা ব্যবহার করে, যাতে ধূলিঝড় বা ঋতুভিত্তিক আলো পরিবর্তনের সময়ও এগুলো মঙ্গল পৃষ্ঠে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রোভার সাধারণ সোলার প্যানেল কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
স্পেসএক্সের এ ‘ট্রান্সপোর্টার-১৭’ মিশনটি বোর স্যাটেলাইটের পাশাপাশি আরও ৮০টি পেলোডকে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নিয়ে গেছে।
উৎক্ষেপণের ওয়েবকাস্ট চলাকালীন স্পেসএক্স বলেছে, “বর্তমানের এসব মিশন বিশ্বজুড়ে ছোট স্যাটেলাইট অপারেটরদের জন্য মহাকাশে পৌঁছানোর সুযোগ নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।