Published : 10 Jul 2026, 12:21 AM
ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের মত ‘শক্তিশালী মূলধনের’ কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়াকে আরও বিনিয়োগকারীবান্ধব করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
একই সঙ্গে একটি কোম্পানির ব্যাংক ঋণ নির্দিষ্ট সীমার বাইরে গেলে দেশি বা বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বাধ্য করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্টনে পুঁজিবাজার বিটের সংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সংলাপ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
বহুজাতিক ও দেশি করপোরেট কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে কি উদ্যোগ দেওয়া হচ্ছে-এমন প্রশ্নে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “আইপিও রুলস সংশোধন করতে সময় লাগবে। এর মানে এই না, এ সময়ে তালিকাভুক্ত হবে না। আমরা বহুজাতিক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করব, এজন্য নিয়ম সংশোধন করা হবে।”
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো বেসরকারি কোম্পানি বর্তমানে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারে না। শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যায়।
মাসুদ খান বলেন, “ইউনিলিভার বা ইনসেপ্টার মতো মূলধন শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে দ্রুত বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও প্রক্রিয়াকে আরো বিনিয়োগকারীবান্ধব করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এটা দেখা যাবে।”
এজন্য এসব কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ছেড়েও সরাসরি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ আনা হচ্ছে; আগামী তিন মাসের মধ্যে তা দৃশ্যমান হবে বলে তুলে ধরেন তিনি।
বিদ্যমান নীতিমালায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে কোম্পানির কমপক্ষে ২৫ শতাংশ শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য ছাড়তে হয়। সম্প্রতি তালিকাভুক্তি খরচ কমিয়ে বহুজাতিক ও দেশি কোম্পানিকে বাজারে আনতে উৎসাহ দেওয়ার পরও তারা না আসলে বাধ্য করার পরিকল্পনার কথা তুল ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
এজন্য বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া কোম্পানিকে ‘জনস্বার্থে’ বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি তাদের অনুরোধ করব, উৎসাহ দেব। তারপরও না আসলে, যেহেতু তারা পাবলিক মানি মানে ব্যাংক ঋণ নিয়েছে; আমরা একটা অনুপাত ঠিক করে দেব। এই অনুপাতে যারা পড়বে, তারা বাধ্য হবে তালিকাভুক্ত হতে।”
মার্জিন লোন রুলস, আইপিও নীতিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড নীতিমালাও আবার সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তার মতে, “মার্জিন ঋণ নীতিমালা অনেক কঠিন করা হয়েছে। এই নীতিমালায় বিনিয়োগ বলা যায় অসম্ভব। এজন্য তিনটি নীতিমালাই সংস্কার করা হবে।’’
অন্তবর্র্তী সরকারের সময়ে বিদায়ী কমিশন এই তিনটি নীতিমালা সংশোধন করে। একেকটি নীতিমালা তৈরি করতে ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যায়। দীর্ঘ সময়ে অনেক অংশীদারের মতামত নিয়ে নীতিমালাগুলো তৈরি করা হয়।
আবার কেনো সংস্কার করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “অংশীজনরা বলেছেন, তাদের প্রস্তাব রাখা হয়নি। ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনও বলেছে, তাদের প্রস্তাব রাখা হয়নি।”
মার্জিন রুলস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ‘কৌশলগত বিনিয়েগাকারী’ বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবিজি লিমিটেড। ২০২২ সালে ২৪০ কোটি টাকা দিয়ে সিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় কোম্পানিটি। এজন্য সিএসইর পর্ষদে এবিজির প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীর।
বিকল্প বাজার চালু করতে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে ‘কৌশলগত বিনিয়োগকারী’ নেয় সিএসই। তবে এখনো সেই এক্সচেঞ্জচ চালু হয়নি।
এটি চালুর প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “কৌশলগত বিনিয়োগকারী নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিছুটা অনিয়ম ছিল বিনিয়োগকারী নির্বাচন প্রক্রিয়ায়। চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জ যে ব্যাখ্যা দিল, ওরা কয়েক মাস চেষ্টা করেছিল একটা কৌশলগত বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য, তারা পায়নি। শেষে বসুন্ধরাকে নিয়ে তারা চালু করল। কিন্তু এরপরে কমিশনও অনুমোদন দিয়েছিল। তারপর গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়ে গেল।”
এখন আইনি দিকগুলো পর্যালোচনা করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “এখন ওইটাও আমরা সিরিয়াসলি দেখছি। কারণ আমাদেরকে ডেরিভেটিভ মার্কেট চালু করতেই হবে।”
আইনি সমস্যা সমাধানের পর এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বসুন্ধরার সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হবে কি না- এমন প্রশ্নে মাসুদ খান বলেন, “আমরাতো পর্যালোচনা করছি, বাদ দেওয়ার কথাতো বলিনি।”
সিএমজেএফের নিজস্ব কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি মনির হোসেনের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেল।