Published : 10 Jul 2026, 01:03 AM
ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এবার সপ্তাহে একবার ব্যবহারযোগ্য ইনসুলিন ‘অউইক্লি’ পাওয়া যাবে বাজারে। চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত এটিই বিশ্বে প্রথম সপ্তাহে একবার নেওয়ার ইনসুলিন।
ডেনমার্কের সংস্থা ‘নোভো নরডিস্ক’ এর তৈরি এই ইনসুলিন নিলে রোজ রোজ ইনসুলিন নেওয়ার ঝক্কি থাকবে না ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীদের। সারা সপ্তাহের ইনসুলিনের ডোজ নেওয়া যাবে এক দিনেই।
‘অউইক্লি’ টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র এক বার ‘ফ্লেক্সটাচ’ কলমের মাধ্যমে ‘অউইক্লি’ ইনজেকশন হিসাবে নিতে হবে।
এই একটি ডোজই সারা সপ্তাহ জুড়ে ইনসুলিনের সুষম ও ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করবে, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে ডায়াবেটিসের প্রকোপ অনেক বেশি। দেশটিতে ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছে এবং আরও প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষ প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় আছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি নোভো নরডিস্ক জানিয়েছে, এই ইনসুলিনের জেনেরিক নাম ‘ইনসুলিন আইকোডেক’। এটি ব্যবহারের ফলে রোগীদের বছরে ৩৬৫ বার ইনজেকশন নেওয়ার বদলে মাত্র ৫২ বার নিলেই চলবে। এটি প্রচলিত দৈনিক ইনসুলিনের মতোই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
ব্যবহার ও কার্যপদ্ধতি:
একটি প্রি-ফিল্ড পেন ডিভাইসের সাহায্যে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে একবার এই ইনসুলিন পেট, উরু বা বাহুর ত্বকের নিচে নিতে হয়। রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা অনুযায়ী এর ডোজ নির্ধারিত হয়।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অউইক্লি-র পাশাপাশি খাবারের সময় দ্রুত কার্যকর হওয়া ইনসুলিন ব্যবহার করতে হবে।
তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা এটি এককভাবে বা অন্য ওষুধের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
এই ইনসুলিন রক্তের অ্যালবুমিন প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুরো এক সপ্তাহ ধরে শরীরে কাজ করে।
নোভো নরডিস্ক ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিক্রান্ত শ্রোত্রিয় জানান, বিশ্বের সপ্তম দেশ হিসেবে ভারতে অউইক্লি ব্যবহারের অনুমোদন ও সুবিধা পেয়েছে। এটি ইনসুলিন নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীদের শারীরিক ও মানসিক বাধা দূর করবে।
ওষুধটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশে অনুমোদন পেয়েছে।
ভারতে এটি সানোফি কোম্পানির ‘ল্যান্টাস’ এবং বায়োকন, এরিস লাইফসায়েন্সেস ও লুপিনের মতো দেশীয় কোম্পানির দৈনিক ইনসুলিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে।
আইএমএআরসি-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইনসুলিনের বাজার ২০২৫ সালের ৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে ৯১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে পৌঁছাবে।
অলস জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জিনগত কারণে দেশটিতে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে। সপ্তাহে একবারের এই ইনসুলিন রোগীদের জন্য নিয়মিত ওষুধ নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ করবে।