১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানাল কুয়েত

বাহরাইনেও আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের ‘শান্ত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানাল কুয়েত
ইরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন বাহিনীর আঘাত হানার মুহূর্ত। ছবি: সেন্টকম/রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2026, 10:34 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:36 PM

কুয়েত জানিয়েছে, ‘শত্রুপক্ষীয়’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবেলা করছে তারা। তাদের এয়ার ডিফেন্স এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। 

এর কয়েক মিনিট আগে বুধবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছিল, দেশজুড়ে আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। 

সেনাবাহিনী জনগণকে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, দেশজুড়ে যদি কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় তবে সেটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে বাধা দিয়ে ধ্বংস করার কারণে ঘটেছে।   

আল জাজিরা জানিয়েছে, বাহরাইনেও আকাশ হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের ‘শান্ত থাকার ও সবচেয়ে সন্নিকটের নিরাপদ স্থানে’ আশ্রয় নিতে বলেছে। 

ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮৫টি লক্ষ্যস্থলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। 

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনী ও মহাকাশ বাহিনী ‘যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর’ ৮৫টি স্থাপনাকে তাদের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।  

আইআরজিসি বলেছে, এসব অভিযানে বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ও কুয়েতে আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়েছে।  

তারা আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘন করেছে আর এই অভিযান তার ‘প্রাথমিক জবাব’।

আইআরজিসি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে রিপার হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ৯ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবিও জানিয়েছে।  

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। 

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী আঘাত’ হানে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। তারা জানায়, হরমুজ প্রণালিতে কাতারি ও সৌদি আরবের ট্যাংকারসহ তিনটি জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, তারা ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যস্থলে আঘাত হেনেছে। 

ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন হামলার ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ জানানো হবে বলে প্রত্যয় জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ার কথা জানায়। 

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস এলাকার বন্দর শহর সিরিক ও কেশম দ্বীপে বেশ কিছু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।  

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের হরমোজগান ও মাহশহর উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আর সামরিক নয় এমন স্টেশনগুলোতে আকাশ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই এসব হামলা ও পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটছে। এরমধ্যে খামেনির মরদেহবাহী কফিন ইরাকে পৌঁছেছে। আইআরজিসি মার্কিন হামলাকে এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে, এই ‘ঐতিহাসিক ঘটনাকে’ ম্লান করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব হামলা চালিয়েছে।  

আরও পড়ুন: 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জেরে ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা