Published : 08 Jul 2026, 01:16 PM
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোতে তোলা মহাবিশ্বের প্রথম ছবিটির পর পেরিয়ে গেছে চার বছর। এবার আমাদের চিরচেনা ‘সেন্টওরাস এ’ ছায়াপথের নিখুঁত ছবি পাঠিয়েছে শক্তিশালী টেলিস্কোপটি, যা আগে কখনো তোলার সুযোগ হয়নি।
মহাবিশ্বের দূরবর্তী ছায়াপথ ‘সেন্টওরাস এ’-এর এ যাবৎকালের সবচেয়ে নিখুঁত ও বিস্তারিত ছবি প্রকাশের মাধ্যমে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের সফল অভিযানের চার বছর উদযাপন করেছে নাসা।
অবলোহিত আলোর সাহায্যে ছায়াপথটির ঘন ধূলিকণার স্তর ভেদ করে তোলা এ ছবি বিজ্ঞানীদের জন্য ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর ও ছায়াপথের বিবর্তনের রহস্য উন্মোচনে নতুন দুয়ার খুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এক বিবৃতিতে নাসা বলেছে, “এ ছবি ইতিহাস তৈরি করা টেলিস্কোপটির ধারণাতীত সক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপে সাফল্যের চার বছর পূর্ণ করেছে।”
পৃথিবী থেকে প্রায় এক কোটি ১০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ‘সেন্টওরাস এ’ ছায়াপথ, যা প্রতিবেশী অন্যান্য ছায়াপথের তুলনায় অনেক অশান্ত ও চঞ্চল।
ছায়াপথটির ঠিক মাঝখানে লুকিয়ে আছে এক দানবীয় ব্ল্যাক হোল, যা প্রতিনিয়ত এর আশপাশের মহাজাগতিক উপাদান গিলে খাচ্ছে এবং একইসঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল শক্তি।
প্রায় দুইশ কোটি বছর আগে অন্য এক ছায়াপথের সঙ্গে প্রলয়ঙ্কারী সংঘর্ষের কারণে এর গঠনটাও বেশ অদ্ভুত। এসব কারণে বিজ্ঞানীদের কাছে ছায়াপথ ও ব্ল্যাক হোল কীভাবে একে অপরের হাত ধরে বিবর্তিত হয় তা বোঝার জন্য সেন্টওরাস এ চমৎকার গবেষণার ক্ষেত্র।
ছায়াপথের মাঝখানে রয়েছে দানবীয় এক ব্ল্যাক হোল, যা প্রতিনিয়ত আশপাশের মহাজাগতিক উপাদান গিলে খাচ্ছে ও একইসঙ্গে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিপুল শক্তি
এর আগে, হাবল টেলিস্কোপ দৃশ্যমান আলোয় এ ছায়াপথটিকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করলেও ওই সময় এটিকে ঢেকে রাখা ধূলিকণার ঘন স্তর সেই আলো আটকে দিয়েছিল।
এরপর নাসার ‘স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ’ ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোর সাহায্যে এর বড় অবয়বটি ক্যামেরাবন্দী করলেও সেখানকার আলাদা আলাদা তারাগুলোকে স্পষ্ট করতে পারেনি।
এখন জেমস ওয়েবের ‘মিড ইনফ্রারেড ইন্সট্রুমেন্ট’ বা মিরি যন্ত্রটি ছায়াপথটির ধূলিকণায় ভরা কাঠামোর একদম খুঁটিনাটি রূপও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
ছবিতে যে উজ্জ্বল লালচে-বেগুনী বিন্দুগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো আসলে ধূলিকণায় ঘেরা সব তারা বা নতুন তারা তৈরির কারখানা। এখানেই পুরনো তারাগুলো এদের উপাদান বিলিয়ে দিচ্ছে ও নতুন নতুন তারার জন্ম হচ্ছে।
‘মিরি’র ছবিটিতে ঠিক কী দেখা যাচ্ছে তা আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে নাসা একটি গাইডেড ট্যুর বা নির্দেশিকামূলক ভিডিও যোগ করেছে।
পাশাপাশি সংস্থাটি আরেকটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে মিরি ও জেমস ওয়েবের ‘নিরক্যাম’ এ দুটি যন্ত্রের সম্মিলিত রূপ দেখা যাচ্ছে।
নাসা বলেছে, এসব ছবির কল্যাণে বিজ্ঞানীরা এখন ‘সেন্টওরাস এ’ ছায়াপথের প্রতিটি তারা আলাদা আলাদাভাবে ধরে গবেষণা করতে পারবেন, যা ছায়াপথটির বিবর্তনের সঠিক সময়রেখা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে।