Published : 08 Jul 2026, 10:03 PM
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি আবারও তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তার মতে, এই দ্বীপটি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডেনমার্কের কাছে এ দ্বীপ গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সম্প্রতি নেটোর বৈঠকে পশ্চিমা এই সামরিক জোটের মহাসচিব মার্ক রুত্তের পাশে বসে ট্রাম্প যুক্তি দেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের উচিতই হয়নি গ্রিনল্যান্ডকে কখনও ডেনমার্কের কাছে ফেরত দেওয়া।
নিজের দাবির সপক্ষে ট্রাম্প বলেন, “নাৎসিরা যখন একদিনেরও কম সময়ে ডেনমার্ক দখল করে নিয়েছিল, তখন ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষই আমাদের গ্রিনল্যান্ডের দেখভাল করার অনুরোধ করেছিল।”
তিনি আরও বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ককে ফেরত দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি। বিশ্বকে রক্ষা করতে এটি এখন আমাদের প্রয়োজন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজন তা নয়।”
আলোচনার একপর্যায়ে মার্ক রুত্তে সুমেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন এবং সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ধাপে ধাপে বাড়ানোর আশ্বাস দেন।
তারপরও ট্রাম্প নেটোকে নিয়ে তার পুরোনো অসন্তোষের কথা আবারও উল্লেখ করেন। এর জবাবে মার্ক রুত্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করলে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, “ঠিক এ কারণেই আমি তাকে পছন্দ করি।”
অবশ্য এর আগের দিন মঙ্গলবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সময় ট্রাম্প একই দাবি করেছিলেন।
সে সময় তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন, “ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। গ্রিনল্যান্ড এখন রুশ ও চীনা জাহাজে ঘিরে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।”
গ্রিনল্যান্ড কেন ট্রাম্পের এত পছন্দ?
প্রকৃতপক্ষে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মাঝে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ। কৌশলগত নৌপথের পাশাপাশি এটি বিরল খনিজ পদার্থ, তেল ও গ্যাসের মস্ত বড় ভাণ্ডার।
তবে ট্রাম্পের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্যই এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশি জরুরি।
উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে ডেনমার্কের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সেখানে ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাফ প্রত্যাখ্যান:
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের দাবিকে বরাবরের মতোই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড মোটেও ‘বিক্রির জন্য নয়’। সেইসঙ্গে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান দেখনোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
একইসঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার যে কোনও প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এমনকি সেখানকার জনমত জরিপগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীর ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাব ফুটে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালেও গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি আবারও এই মালিকানার বিষয়টিকে ‘অনস্বীকার্য প্রয়োজন’ বলে বারবার সামনে আনছেন, যা ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়াচ্ছে।