Published : 10 Jul 2026, 04:02 AM
পেনাল্টি পেয়েও কাজে লাগাতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমার্ধে আরও কয়েক দফায় নিজেকে স্বরূপে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। তবে, দলকে দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি, দারুণ এক গোলে দলকে দেখালেন পথ। পরে সতীর্থের গোলেও রাখলেন অবদান। বিশ্বকাপে আরেকবার মরক্কোর পথচলা থামিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠল ফ্রান্স।
চার বছর আগের আল বায়েতের লড়াইয়ের পুনঃমঞ্চায়নই যেন হলো বস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে। তবে এবার সেটা নকআউট পর্বে এক ধাপ আগে। বৃহস্পতিবার উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-০ গোলে জিতল দিদিয়ে দেশোঁর দল। তাদের দ্বিতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে একই স্কোরলাইনে জিতেছিল ফরাসিরা।
ম্যাচে কখনোই সেভাবে প্রতিপক্ষকে ভাবাতে পারেনি মরক্কো। প্রথমার্ধে একেবারে খোলসে বন্দি দলটি পুরো ম্যাচে গোলের জন্য পাঁচটি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে। আর ফ্রান্সের ২২ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো ফ্রান্স, ইয়াসিন বোনুর নৈপুণ্যে তা হয়নি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এমবাপের জোরাল শটে ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ান গোলরক্ষক, যদিও বল বাইরেই যাচ্ছিল। ওই কর্নারে ছয় গজ বক্সে হেড করেন অরক্ষিত দাইয়ু উপামেকানো, ঝাঁপিয়ে সেটা আটকে দেন বোনু।
বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে আক্রমণেও আধিপত্য ধরে রেখে খেলতে থাকে ফরাসিরা। তবে, মরক্কো রক্ষণে দৃঢ়তা ধরে রাখে।
২৫তম মিনিটে অবশ্য একটা ভুল করে ফেলে তারা; এমবাপেকে ডিফেন্ডার নুসায়ের মাজরাউই ফাউল করলে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক নেওয়ার আগে অনেকটা বিলম্ব হয়, তাতেই যেন এমবাপের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে, তার দুর্বল শট ঝাঁপিয়ে আটকান বোনু।
জাতীয় দলের হয়ে আগের ১৫ পেনাল্টি শটেই বল জালে পাঠিয়েছিলেন এমবাপে। এর আগে সবশেষ, ২০২০ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ ষোলোয় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে স্পট কিকে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।
একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে, অনেক সুযোগ তৈরি করেও প্রথমার্ধে সাফল্য পায়নি মরক্কো।
৩৫তম মিনিটে ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে থেকে দেজিরে দুয়ের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক। বিরতির একটু আগে অনেক দূর থেকে জোরাল শটে চেষ্টা করেন লুকা জিনিয়া। বল হাওয়ায় ভেসে শেষ মুহূর্তে নিচু হয়ে জালে জড়াতে যাচ্ছিল, তবে লাফিয়ে ওঠা বোনুর আঙুল ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে।
প্রথমার্ধে একদম কোণঠাসা মরক্কো বিরতির পর আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করতে থাকে। তাতেই যেন বাড়তি জায়গা পেয়ে যায় ফ্রান্স। ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুবার জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।
৬০তম মিনিটে সামনে ইসা জিওপের বাধায় ডি-বক্সের মুখে এক মুহূর্ত থামলেন এমবাপে, এক পলকে সামনে দেখেই নিলেন শট। বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে পোস্ট ঘেঁষে খুঁজে নিল ঠিকানা।
আসরে টানা তৃতীয় এবং ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জালের দেখা পেলেন এমবাপে। আট গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে বসলেন গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তালিকার শীর্ষে। সমান আটটি গোল করে দুইয়ে লিওনেল মেসি।
১৯৬৬ সাল থেকে এমবাপেই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের ভিন্ন দুই আসরে ১০ গোলে সম্পৃক্ত রইলেন। ২০২২ সালেও আটটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন ফরাসি তারকা।
বিশ্বকাপে এমবাপের মোট গোল হলো ২০টি, একটি বেশি নিয়ে রেকর্ডের চূড়ায় মেসি।
জাতীয় দলের রেকর্ড গোলদাতার মোট গোল হলো ৬৪টি।
এরপর, ৬৬তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। তাকে বল বাড়িয়ে ডান পাশ দিয়ে ক্ষিপ্রতায় ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে, দুই ডিফেন্ডারও সেদিকে মনোযোগ দেয় আর সেই মুহূর্তে খানিকটা ডান পাশে সরে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড।
২০১৮ ও ২০২২ আসরে একবারও জালের দেখা না পাওয়া দেম্বেলে এবার ছয় ম্যাচে একটি হ্যাটট্রিকসহ করলেন পাঁচ গোল।
জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ১২টি।
দ্বিতীয় গোলের মিনিট দশেক পর, পড়ে গিয়ে পায়ে একটু ব্যথা পান এমবাপে। তার চোখে-মুখে ফুটে ওঠে অস্বস্তি। ম্যাচের ফল নিয়েও ততক্ষণে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। তাই কোনোরকম ঝুঁকি এড়াতে তাকে তুলে নেন কোচ।
দলের সেরা তারকার অনুপস্থিতিতে বাকি সময়ে একটুও ভুগতে হয়নি গতবারের রানার্সআপদের। মাঠে নিয়ন্ত্রণ রেখেই জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ে তারা।
একটু খচখচানি থাকল কেবল এমবাপের ওই চোট শঙ্কা নিয়ে।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা খেলবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের বিপক্ষে।