Published : 10 Jul 2026, 10:38 AM
পেনাল্টিতে গোল করতে না পারা অস্বাভাবিক নয়। তবে কিলিয়ান এমবাপের এই পেনাল্টির আগে যতটা দেরি হলে, তা বেশ অস্বাভাবিকই বটে। রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর শট নেওয়ার মাঝখানে পেরিয়ে যায় ৩ মিনিটে ১২ সেকেন্ড! ম্যাচের পর সেই দেরি হওয়া নিয়েই প্রশ্ন তুললেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশোঁ।
মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ২৫তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ফ্রান্স। মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসায়ের মাজরাউই বক্সের ভেতর এমবাপেকে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির সঙ্কেত দেন রেফারি। শুরুতে বল নিয়ে স্পটে রাখেন উসমান দেম্বেলে। তবে অনুমিতভাবেই শট নিতে এগিয়ে যান এমবাপে।
সেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় তাকে। প্রতিটি সেকেন্ড তখন যেন অনেক দীর্ঘ। টিভি পর্দায় ফুটে উঠেছিল, ভিএআর পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু সেটি যেন শেষই হচ্ছিল না।
এমবাপের চোখেমুখে বিরক্তি ছিল স্পষ্ট। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শট নিতে গিয়ে গড়বড় করেন ফরাসি অধিনায়ক। এমনিতে তিনি পেনাল্টিতে সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এবার রান আপে ছুটে একটু থেমে আবার শট নেন, যেখানে অস্বস্তি ফুটে ওঠে বেশ। তার দুর্বল শট অনায়াসেই ধরে ফেলেন মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনু।
এমন নয় যে, এমবাপে পেনাল্টিতে কখনও ব্যর্থ হননি। তবে সেই হার খুবই কম। এই শটের আগে দেশের জার্সিতে টানা ১৫টি পেনাল্টিতে তিনি সফল হয়েছিলেন।
এবার ওই ব্যর্থতার পরই রেফারির সঙ্গে বেশ উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। পেনাল্টির আগে এত দেরি হওয়া নিয়েই যে আপত্তি জানাচ্ছিলেন তিনি, সেটা বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এই বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আরেক তারকা নরওয়ের আর্লিং হলান্ড তো নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে সামাজিক মাধ্যমে লিখেই ফেলেন, “too long.”
ম্যাচের পর হলান্ডের ওই কথার সূত্র ধরেই জিজ্ঞেস করা হয় দিদিয়ে দেশোঁকে। ফ্রান্সের কোচ বললেন, এতটা দেরির কারণ তিনি নিজেও জানেন না।
“আমি হলান্ডের সঙ্গে পুরোপুরি একমত। আামি যতটা জানি, একটি ভিএআর রিভিউ চলছিল এবং তারপর দ্বিতীয়বার পর্যালোচনা হয়, যাতে দুই মিনিট সময় লেগেছিল। ঠিক নিশ্চিত নই, কী ঘটেছিল।”
“বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়। কিলিয়ান শট নেওয়ার জন্য প্রস্তুতই ছিল। (পেনাল্টিতে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে) আমি কোনো অজুহাত খুঁজতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতিটা সহজ ছিল না তার জন্য।”

সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে এমবাপে পরে ঠিকই আপন রূপে ফেরেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে চোখধাঁধানো গোলে দলকে এগিয়ে দেন। পরে উসমান দেম্বেলের গোলে পরিষ্কার ব্যবধানের জয়েই সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যায় ২০১৮ আসরের চ্যাম্পিয়ন ও গত আসরের রানার্স আপরা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরোজয়ী এই অধিনায়কের কোচিংয়েই টানা তিন বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিল ফ্রান্স। ১৪ বছর ধরে কোচের দায়িত্বে থাকা সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বললেন, এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চান না তারা।
“টানা তৃতীয়বারের মতো এখানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ত মনে রাখতে হবে, আমরা এখনও ফাইনালে পৌঁছাইনি। আরও একটি ম্যাচ বাকি আছে এবং সেটি কঠিন হবে। সেমি-ফাইনালে থাকা যেকোনো দলই বিশ্বের সেরা চারটি দলের অংশ। লক্ষ্য হলো ফাইনালে যাওয়া, তবে ধাপে ধাপে এগোচ্ছি।”
“একটি বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি এই জার্সির জন্য এবং যারা আমাদের জয় দেখতে চায়, তাদের সবার জন্য আমরা ।”