১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাগুরায় অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়ল কালভার্ট, ভোগান্তি চরমে

ব্রিজের দুপাশে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

মাগুরা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2026, 12:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:38 PM

ভারি বর্ষণের কারণে পানির চাপে মাগুরার শালিখা উপজেলার একটি পুরাতন কালভার্ট ধসে পড়েছে। কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

শুক্রবার দুপুরের দিকে শালিখা-শতখালী সড়কের গোবরা এলাকায় খালের ওপর থাকা কালভার্টটি ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী। 

এতে করে বয়রা গোবরার সঙ্গে কাদিরপাড়া খেয়াঘাট, নারিকেল বাড়ীয়া বাজার, কাদিরপাড়া হরিশপুর দেওয়াডাঙ্গার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্রিজের দুপাশে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। 

স্থানীয়রা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে খালের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দুপুরের দিকে প্রবল স্রোতের চাপে কালভার্টের নিচের অংশে ধস শুরু হয়। একপর্যায়ে পুরো কালভার্টটি ভেঙে পড়ে এবং সড়কের প্রায় ৪০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। 

কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় এ সড়ক ব্যবহারকারী শত শত মানুষকে এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অনেকেই আবার ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগেই এই রাস্তার কাজ শেষ হয়েছিল। এত অল্প সময়ের মধ্যে কালভার্ট ভেঙে পড়ায় আমরা হতাশ।

“এই সড়কটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ও একটি টেকসই নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।”

আরেক বাসিন্দা সুফিয়ান মিয়া বলেন, কালভার্ট ধসে পড়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং দ্রুত একটি মানসম্মত ও টেকসই কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ইউএনও তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ধসে পড়া কালভার্টটি পরিদর্শনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ”

 “সাধারণ মানুষের চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয়ে এলজিইডির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”, বলেন ইউএনও।