Published : 13 Jul 2026, 04:06 PM
অতি ভারি বৃষ্টি আর তাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সোমবারও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। দুপুরে রোদের দেখা মিললেও বিভিন্ন এলাকায় এখনো জমে রয়েছে পানি।
আবার কিছু এলাকায় পানি নেমে গেলেও সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। জলাবদ্ধতার কারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে।
আগের দিনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় অফিস ও শিক্ষালয়মুখীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সকাল সাড়ে ৯টায় মোহাম্মদপুর, কারওয়ান বাজার, মহাখালী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। ছাতা মাথায় বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন চাকুরেরা। গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা হাঁকাচ্ছিলেন কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।
নিউ মার্কেট এলাকায় দেখা গেছে, রোববারের সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরদিন সকালেও রয়েছে। আগের দিন অতি ভারি বৃষ্টিতে নীলক্ষেত মোড়ের কিছুটা সামনে থেকে কুয়েত মৈত্রী হলের গেইট পর্যন্ত সড়ক তলিয়ে যায়। সেদিন রাত ১০টার পর থেকে পানি নামতে শুরু করে।
নীলক্ষেত মোড়ে গাড়ির অপেক্ষায় থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সায়েদুল হক নিশান বলেন, “অন্য সময়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়কের পানি নেমে যায়। এবার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পানি জমে আছে।
“সড়কে জমে থাকা পানি ঠেলে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করছে। পানির কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরে চলছে।”
মহাখালী এলাকায় পানি নেমে গেছে, তবে রাস্তায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক মাছুম কামাল জানিয়েছেন, মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকায় বৃষ্টির পর সড়কে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। তাতে যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।
সোমবার সকালে গুলশান ট্রাফিক বিভাগ এক বার্তায় বলা হয়, “বনানী কবরস্থানের পর ঢাকা গেট সংলগ্ন মূল সড়কের ইনকামিং ও আউটগোয়িং উভয় লেনে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।”
এছাড়া বনানী-কাকলী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পের নামার অংশেও হালকা জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।

অন্যদিকে ইসিবি এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট গার্লস স্কুলের সামনে পানি জমে থাকায় মিরপুর ডিওএইচএস ও কালশী থেকে ইসিবি হয়ে মাটিকাটা ফ্লাইওভারের দিকে চলাচলকারী যানবাহনের গতি কমে গেছে।
এছাড়া যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের সড়কে বৃষ্টির পানি জমে থাকা এবং ঢাকা ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলমান থাকায় ওই এলাকাতেও যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ বলছে, “বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উল্লিখিত সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে যানজট আরও বাড়তে পারে।”
এ কারণে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বের হতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিন দুপুরে রোদ দেখা গেলেও ফের বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঢাকায় রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আরও একদিন এমন ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি রাজধানীর কিছু কিছু স্থানে জলাবদ্ধতার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক সোমবার বলেন, “ভারি বর্ষণের ফলে ঢাকা মহানগরীর কোথাও-কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
“মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে পুনরায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বাড়তে পারে।”
ভারি বৃষ্টিপাতজনিত সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সোমবার বলেছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এদিন দুপুর ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে।