গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক
পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক নারী পোশাক শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক আছেন।
রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার এক ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা।
নিহত নাছিমা আক্তার (২৭) নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার কৈলশাপুর বনপাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন। তার স্বামীর নাম সাইদুল ইসলাম।
নাছিমার ভাই মাসুম আহমেদ বলেন, ওই এলাকার মজনু মিয়ার বাড়িতে নাছিমা ও তার স্বামী ভাড়া থাকেন। নাছিমার বাসার অদূরে একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে তিনিও পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
“রাতে নাছিমার বাসার অন্য ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। বাসায় গিয়ে বোনকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফ্লোরে ছটফট করতে দেখি। তবে বোন-জামাই সাইদুলকে পাইনি। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বোনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন”, বলেন তিনি।
মাসুম আহমেদ বলেন, বিয়ের পর কিছুদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই কাটছিল। সম্প্রতি সাইদুল মাদকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত। ঘরে দুটি সন্তান থাকায় সংসার ভাঙতে চাননি নাছিমা। শেষ স্বামীর হাতেই তাকে প্রাণ দিতে হলো।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, নাছিমাকে মৃত অবস্থায় তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আসার পরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। নিহতের শরীরে ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় সাহা বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হত্যা নিশ্চিত করে নিহতের স্বামী পালিয়ে গেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে; এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
