Published : 21 Jul 2026, 05:06 PM
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের দুই নেতার (সদ্য বহিষ্কৃত) বিচারের দাবিতে তৃতীয় দিনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দেড়টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এর আগে গোলচত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবন পর্যন্ত সড়ক প্রদক্ষিণ করে তারা ।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘খাইরুলের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘জাস্টিস ফর খাইরুল’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘সন্ত্রাসীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’- স্লোগান দেয়।
পরে অবস্থান কর্মসূচিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময় তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বলেন, “গতকাল (সোমবার) থেকেই অভিযুক্তদের বিভাগের ব্যাচের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে পোস্ট করছেন।
“আমাদের দাবি থাকবে, এসব কর্মকাণ্ড যেন তদন্ত কমিটিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে। প্রশাসনকে হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায্যবিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
এ সময় অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “তদন্ত কমিটি কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে তারা প্রতিবেদন জমা দিবেন। আগামীকাল (বুধবার) সিন্ডিকেট ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারো কোনো কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রভাবিত হবে না।”

তবে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাকে পরে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগের মুখে থাকা দুজন হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারাও একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রোববার তাদের দুজনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে দুজনের পক্ষ হয়ে বিবৃতি দেন তাদের বিভাগের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
তারেক রহমানের পক্ষ হয়ে বিবৃতিতে তার সহপাঠীরা বলেন, “আমাদের সহপাঠী তার কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত। এই ঘটনাটির জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর শাস্তি প্রদান করলে তার শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা মনে করি, তার একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে এমন পর্যায়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
“তাই বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে একটি মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমরা প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
তারেকের ব্যাচমেট লব রায় বলেন, “তারেক যে বিষয়টি ঘটিয়েছে তা অপ্রত্যাশিত এবং সে অনুতপ্ত। আমাদের দাবি, সে যতটুকু দোষী, তাকে যেন ততটুকুই শাস্তি দেওয়া হয়।”
অভিযুগের মুখে থাকা হাসিবুর রহমানের পক্ষ হয়ে তার ব্যাচের দেওয়া বিবৃতিতেও একই বলা কথা হয়। তবে তার একাধিক ব্যাচমেটের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও কারো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে পোস্ট: শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ
ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট, শাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রদল নেতাদের’ মারধর