Published : 20 Jul 2026, 10:36 PM
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মারা গেছেন এক ব্যাংক কর্মকর্তা।
রোববার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তখন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মো. রহমত আলী (৪৩)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে রেখে গেছেন।
রহমত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ নিয়ে যারা এসেছিলেন, তারা জানিয়েছেন, তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।”
পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, লাশ নিয়ে তার বড় ভাই মরম মিয়া ও বন্ধুরা গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
শিল্পপতির বাড়িতে উপস্থিত থাকা মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ বলেন, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাজ্জাদ মোর্শেদ সোহানের আমন্ত্রণে কয়েকজন বন্ধু রোববার শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাড়িতে বেড়াতে যান।
দিনভর ঘোরাঘুরি ও পুকুরে মাছ ধরার পর রাতে খাবার খেয়ে বিশ্রামের সময় রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিল্পপতি লোকমান হোসেন বলেন, “মোট আটজন আমার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর মধ্যে সোহান নামের একজন ব্যবসায়িক সূত্রে আমার পরিচিত। বাকি সাতজন সোহানের বন্ধু। পরিচয়ের সূত্রে সোহান তাদের নিয়ে আলতু খান জুটমিলসহ মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখতে এসেছিলেন। রাতে রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, “সুরতহাল প্রতিবেদনে রহমত আলীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”