Published : 20 Jul 2026, 07:14 PM
এমন একটা হাসপাতালের কথা ভাবুন, যেখানে ডাক্তার সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর অক্সিজেন খুলে নিয়ে মৃতপ্রায় রোগীর নাকে লাগিয়ে দিচ্ছেন। যুক্তি—মৃতপ্রায় মানুষটিকে বাঁচাতে হবে। অগত্যা ফল যা হওয়ার তাই হয়—দুজনই মারা যান। বাংলাদেশের বর্তমান শিল্পনীতি অবিকল সেই হাসপাতালের গল্পে রূপ নিতে যাচ্ছে। জাতীয় বাজেটে রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিপুল অর্থের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকগুলোর পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে; বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে সরকারি গ্যারান্টিতে। বিশেষ এই ঋণে ভর্তুকিযুক্ত সুদের হার মাত্র ছয় শতাংশ। ফলে যে উদ্যোক্তা এই সুবিধা পাবেন, তার প্রকৃত সুদের খরচ বাজারের প্রচলিত হারের অর্ধেকেরও কম হবে।
শুনতে ভালো লাগে। মানবিকও মনে হয়। কিন্তু অর্থনীতির ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। যে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে টিকে আছে, বাজার থেকে বিদায় নেওয়াই যার নিয়তি, তাকে সস্তা ঋণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখলে আদতে বাঁচে না প্রতিষ্ঠানটি—বরং ধুঁকে ধুঁকে মরতে থাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে, আর সেই ধুঁকে মরার মিছিলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সুস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকেও টেনে নিয়ে যায়।
হাঙ্গেরির অর্থনীতিবিদ ইয়ানোশ কর্নাই সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি পর্যবেক্ষণ করে দেখিয়েছিলেন, যখন উদ্যোক্তা জেনে যায় যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া হতে দেওয়া হবে না, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়ানোর কোনো তাড়না অনুভব করে না। ব্যর্থতার শাস্তি নেই বলেই দক্ষতা অর্জনের পুরস্কারও অর্থহীন হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র যতবার উদ্ধার করে, প্রতিষ্ঠান ততবার শেখে—ব্যর্থ হওয়াই লাভজনক কৌশল।
১৯৯০-এর দশকে জাপানি ব্যাংকগুলো বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রেখেছিল, অর্থনীতিবিদরা তাদের নাম দিয়েছিল ‘জম্বি ফার্ম’—নামমাত্র জীবিত, বাস্তবে মৃত। শিকাগো বুথ স্কুল অব বিজনেসের গবেষক আনিল কাশ্যপ, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের তাকেও হোশি এবং এমআইটির রিকার্ডো কাবায়েরোর যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, এই জম্বি ঋণদান শুধু দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখেনি, সুস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিয়েছে। জম্বি প্রতিষ্ঠান বাজারে টিকে থেকে পণ্যের দাম কমিয়ে রাখে, শ্রমিকদের ধরে রেখে মজুরি বাড়িয়ে দেয়, আর বাজারের সীমিত জায়গা দখল করে রাখে। ফলে যে সুস্থ প্রতিষ্ঠান নতুন বিনিয়োগ করতে চায়, নতুন কর্মী নিয়োগ করতে চায়, তার জন্য জায়গা কমে যায়, মুনাফা কমে যায়। গবেষকরা এই ঘটনাকে বলেছেন ‘কনজেশন এফেক্ট’—যানজটের মতো একটি অর্থনৈতিক অবরোধ, যেখানে মৃতরা রাস্তা আটকে রাখে, জীবিতরা এগোতে পারে না।
বাংলাদেশও কি এই একই পথে হাঁটছে? প্রশ্নটা কঠিন, কিন্তু উত্তরটা এড়ানোর উপায় নেই। এই প্রথম নয় যে সরকার রুগ্ন শিল্পের জন্য বিশেষ তহবিল ঘোষণা করল। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়েও এমন প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল। তারপর একাধিক দফায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদ মওকুফের সুযোগ, ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা, এমনকি সম্পূর্ণ দায়মুক্তির ‘এক্সিট সুবিধা’ চালু করা হয়। অথচ ফলাফল চরম হতাশাজনক। যতবার প্রতিষ্ঠান ‘উদ্ধার’ করার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবার সংকট গভীর হয়েছে। যতবার ছাড় দেওয়া হয়েছে, ততবার খেলাপী ঋণ সংস্কৃতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
এখানেই লুকিয়ে আছে নীতির সবচেয়ে নিষ্ঠুর অসঙ্গতি। যে ব্যবসায়ী সময়মতো ঋণ শোধ করেন, কর দেন, শ্রমিকের বেতন বাকি রাখেন না—তার জন্য কোনো ছয় শতাংশ ভর্তুকি সুদ নেই। তাকে বাজারদরে, প্রায় দ্বিগুণ সুদে ঋণ নিয়ে প্রতিযোগিতা করতে হয় ঠিক সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, যে বছরের পর বছর ঋণ শোধ করেনি, অথচ আজ ভর্তুকিযুক্ত সস্তা মূলধন পাচ্ছে। এটি প্রতিযোগিতার বাজার নয়—এটি উল্টো বিচার।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ বহুবার দেখিয়েছেন, তথ্যের অসমতা এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ যখন বাজারের স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারাই, যারা নিয়ম মেনে চলে। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়ে। কারণ বাজারে প্রতিযোগিতার সঠিক পরিবেশ বিরাজ করে না। বাজার অর্থনীতির মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—দক্ষতা পুরস্কৃত হবে, অদক্ষতা বিদায় নেবে। বাংলাদেশের শিল্পনীতি এই প্রতিশ্রুতিকে উল্টে দিয়েছে।
স্বাধীনতার পর দশকের পর দশক ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও বস্ত্রকলগুলো সরকারি ভর্তুকির ভরসায় লোকসান দিয়ে টিকে ছিল। প্রশ্ন হলো—ভর্তুকি কি প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখে নাকি কেবল তার মৃত্যুযন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করে। আর সেই সুযোগে বেসরকারি খাতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষয় হয়।
১৯৯৭ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর দক্ষিণ কোরিয়া তার বিশাল ‘চেবল’ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যেগুলো দুর্বল, সেগুলোকে জোরপূর্বক একীভূত বা বিলুপ্ত করার কঠোর নীতি নিয়েছিল। দাইয়ু গ্রুপের মতো বিশাল শিল্পসাম্রাজ্যকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু ফল হয়েছিল সুদূরপ্রসারী—দুর্বল প্রতিষ্ঠানের জায়গায় জন্ম নিয়েছিল স্যামসাং, এলজি এবং হুন্দাইয়ের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগী। বিপরীতে জাপান নরম পথ বেছে নিয়েছিল, ফলাফল হয়েছিল তিন দশকের অর্থনৈতিক স্থবিরতা। চীনও একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত জম্বি প্রতিষ্ঠানের বোঝা বহন করেছে, কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে একীভূতকরণ, ব্যাংকঋণের কঠোর তদারকি ও নির্বাচিত দেউলিয়াত্বের মাধ্যমে বাজার পরিষ্কার করার নীতি নিয়েছে। এই দুই বিপরীত পথ থেকে শিক্ষা স্পষ্ট—নরম হাত অর্থনীতিকে বাঁচায় না, শুধু পচনকেই দীর্ঘায়িত করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সার্কুলারগুলো লক্ষ্য করা যাক। ২০২২ সালের এপ্রিল ও মে মাসে জারি হওয়া নির্দেশনার শর্ত শিথিল করে, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পুনঃতফসিল হওয়া ‘মন্দ’ ও ‘ক্ষতিজনক’ শ্রেণির ঋণকেও বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ যিনি ঋণ শোধ করেননি, তার আরোপিত ও অনারোপিত—দুই ধরনের সুদই মাফ হয়ে যেতে পারে, শুধু মূল অঙ্কটুকু একবারে শোধ করলেই। প্রশ্ন উঠবেই—যে ব্যবসায়ী নিয়মিত সুদ দিয়ে যাচ্ছেন, তার কী প্রণোদনা? তার জন্য কোনো ‘এক্সিট’ নেই, কারণ তিনি তো কখনো ‘এন্টার’ করেনইনি খেলাপের অন্ধকার জগতে। সততা এখানে শাস্তি, অসততা পুরস্কার।
একজন মধ্যম আকারের বস্ত্র কারখানার মালিকের কথা কল্পনা করুন, যিনি প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকের কিস্তি শোধ করেন, শ্রমিকের বেতন সময়মতো দেন, ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দেন না। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কারখানাটি বছরের পর বছর ঋণ খেলাপ করেও আজ বাজারদরের অর্ধেক সুদে নতুন মূলধন পাচ্ছে। দুজনেই একই কাঁচামাল কেনেন, একই বাজারে পণ্য বিক্রি করেন, একই শ্রমবাজার থেকে কর্মী নেন। কিন্তু একজনের মূলধন ব্যয় অন্যজনের দ্বিগুণ। এই বাস্তবতায় সৎ মালিকটির সামনে থাকে দুটি পথ—হয় প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া, নয়তো নিজেও একদিন ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়ার প্রলোভনে পা দেওয়া। দ্বিতীয় পথটিই যদি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তাহলে গোটা বাজার সংস্কৃতিই পাল্টে অসততার পক্ষে চলে যাবে।
এই পুরো আলোচনায় একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই—ব্যাংক নিজেই কতটা সুস্থ, যে সে অন্যকে বাঁচাতে যাচ্ছে? মূলধন পর্যাপ্ততার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বলছে, একটি ব্যাংককে টিকে থাকতে হলে তার ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট অনুপাতে মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু যে ব্যাংক নিজেই বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণের বোঝায় ন্যুব্জ, প্রভিশন সংরক্ষণের চাপে যার নিজের মূলধন ক্ষয়প্রাপ্ত, সেই ব্যাংকের হাত দিয়েই আরেকটি ৪১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল বিতরণ করা—এ যেন রক্তশূন্য রোগীকে দিয়ে অন্যের জন্য রক্ত দান করানো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণ কর্মসূচিতে বারবার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। কারণ দুর্বল ব্যাংক খাত দিয়ে সবল অর্থনীতি গড়া যায় না। অথচ প্রতিটি নতুন প্যাকেজ সেই একই দুর্বল ব্যাংক খাতের কাঁধেই নতুন দায়িত্ব চাপাচ্ছে।
আরেকটি প্রশ্ন—সুদ ভর্তুকির অর্থ শেষ পর্যন্ত আসে কোথা থেকে? উত্তর, করদাতার পকেট থেকে, অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রা সৃষ্টির মাধ্যমে, যা পরোক্ষভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ায়। অর্থাৎ যে সাধারণ মানুষ বাজারে চাল-ডালের দাম বাড়ার কারণে ভুগছেন, তার পকেট থেকেই ভর্তুকির অর্থ কোনো না কোনোভাবে চলে যাচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠানের কাছে, যে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর বাজারে মূল্য সংযোজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই হস্তান্তর—দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পক্ষে, সাধারণ মানুষের বিপক্ষে—প্রকৃত অর্থে একটি বিপরীতমুখী পুনর্বণ্টন ব্যবস্থা।
তাহলে সমাধান কী? প্রথমত, সহায়তা হতে হবে শর্তসাপেক্ষ, নির্বিচার নয়। যে প্রতিষ্ঠান সত্যিকারের বাহ্যিক ধাক্কায় (যেমন রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাকে সহায়তা করা যৌক্তিক। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান কাঠামোগতভাবেই অলাভজনক, তাকে বাজার থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে—এটাই স্বাস্থ্যকর অর্থনীতির লক্ষণ। এই পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন স্বাধীন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া—ব্যাংকের পর্ষদকক্ষের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই।
দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছতা আবশ্যক। কোন প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাচ্ছে, কেন পাচ্ছে, ঋণের ইতিহাস কী, তার সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ্যে আসা উচিত—ঠিক যেমন উন্নত অর্থনীতিতে সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। গোপনীয়তা দুর্নীতির প্রথম শর্ত; স্বচ্ছতা তার প্রথম প্রতিষেধক।
তৃতীয়ত, যারা নিয়মিত ঋণ শোধ করছেন, তাদের জন্যও একটি প্রণোদনা কাঠামো দরকার—সময়মতো পরিশোধকারীদের জন্য সুদ ছাড়, কর সুবিধা বা অগ্রাধিকারমূলক ঋণপ্রাপ্তি। নইলে বার্তাটি থেকে যাবে ভয়ংকর রকম স্পষ্ট—বাংলাদেশে ব্যর্থতাই সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায়িক কৌশল, আর সততা নিছক একটি ব্যয়বহুল অভ্যাস।
জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে শেষ একটি শিক্ষা নেওয়া যায়। কাশ্যপ ও হোশির গবেষণা বলছে, জম্বি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক ধাক্কার তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা নরম করে ঠিকই, স্বল্পমেয়াদে কিছু চাকরি বাঁচায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সেই সাময়িক স্বস্তির মূল্য চোকাতে হয় বহুগুণ বেশি কর্মসংস্থান-ক্ষতি আর উৎপাদনশীলতার স্থবিরতা দিয়ে। বাংলাদেশ এখন ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক স্বস্তির লোভে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত ভুল কিনছে রাষ্ট্র। ৬০ হাজার কোটি টাকা কোনো ছোট অঙ্ক নয়। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল অর্থ কি সত্যিকারের পুনরুজ্জীবনে যাবে, নাকি আরেকটি জম্বি প্রজন্মের জন্মকথা হয়ে থাকবে, যাদের ছায়ায় সৎ ব্যবসায়ীরা ধুঁকে ধুঁকে মরবে নিঃশব্দে?
উত্তরটা রাষ্ট্রের হাতে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, প্রশ্নটার উত্তর আমরা আগেও পেয়েছি—আর প্রতিবারই উত্তরটা ছিল ভুল।
এম এম মুসা উন্নয়নকর্মী ও গবেষক। ই-মেইল: [email protected]