Published : 19 Jul 2026, 04:49 PM
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের দুই নেতার মারধরের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা সোয়া ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবন থেকে গোলচত্বর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খাইরুল আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসঙ্গে চলবে না’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না’-স্লোগান দেন।
ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি নিজে ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
শাহপরাণ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী খাইরুলকে পরে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা দুজন হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। তারাও একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাত শনিবার ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে গিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে এ ঘটনা তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তদন্ত কমিটি গঠনের অফিস আদেশে ঘটনাটিকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রোববারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “খাইরুলকে ছাত্রদলের দুই নেতা প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের পরে প্রশাসন অফিস আদেশে যে ভাষা ব্যবহার করেছে আমরা তার নিন্দা জানাচ্ছি।
“খাইরুলকে ছাত্রদলের নেতারা একচেটিয়া মারলেও প্রশাসন তাদের তদন্ত কমিটির অফিস আদেশে সেটাকে সংঘর্ষ বলে লেবেলিং দিয়েছে। এটি সুষ্ঠু তদন্ত কমিটির ভাষা হতে পারেনা।”
তিনি বলেন, “এই তদন্ত কমিটি নিয়ে আমাদের সঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা এ তদন্ত কমিটি ভাষা সংশোধন করে নতুন করে বিবৃতি দেওয়ার এবং হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেছেন, “খায়রুলকে তারা একপাক্ষিকভাবে মেরেছে বলে আমরা প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য প্রশাসন যে অফিস আদেশ জারি করেছে, সেটি প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ ওই আদেশে ঘটনাটিকে ‘সংঘর্ষ’ বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস চায়।”
তিনি বলেন, “দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সহিংস আচরণের সাহস না পায়।”
এ সময় সমাজবিজ্ঞান শিক্ষার্থী আমির হোসেন, হেদায়েত আলী ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
তদন্ত কমিটির অফিস আদেশে ‘সংঘর্ষ’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী বলেন, “অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। তাড়াহুড়ো করে টাইপ করতে গিয়ে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়নি।”
এদিকে এ ঘটনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনে শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষর করা ওই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, “আমরা সব সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করি। কিন্তু তারা দুজন গতকাল যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তা কখনোই শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তাদের বহিষ্কার করেছে।”